রেনু! যে জীবন পায়নি ফুলের দেখা

0

শাহরিয়া দিনা:

রেনু উচ্চশিক্ষিতা। চাকরি করেছেন আড়ং বা ব্রাকের মতো প্রতিষ্ঠানে। পড়িয়েছেন স্কুলেও। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্সি। দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন মায়ের বাসায়। চার বছরের ছোট মেয়ে তুবাকে ভর্তির খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহ লাশ হলেন খোদ রাজধানী শহরে।

শুধুমাত্র সন্দেহের বশে একটা মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা! এতো সহজ মানুষ খুন করা? এতো খুনি আমাদের চারপাশে? একটা দুর্নীতিবাজকে রুখে দাঁড়াতে পারি না, একজন ধর্ষকের বিপক্ষে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে পারি না, অথচ শুধুমাত্র সন্দেহের বশে একজনকে মেরে ফেলতে পারি!

শাহরিয়া দিনা

এতো ঘৃণার বাস আমাদের মনে! আমরা এতো অসহনশীল যে কারো কথা শোনার সময় নাই, বুঝবার মতো মন নাই। আমরা এতো দরদহীন যে একটা নিরস্ত্র মেয়েকে কয়েকজন সামর্থ্যবান পুরুষ পিটিয়ে রক্তাক্ত আহত করার পরেও আমাদের মায়া হয় না, এগিয়ে আসি না রক্ষা করতে। আমরা আইনের প্রতি এতোই অনির্ভরশীল যে দোষীকে অনুমানের ভিত্তিতে শাস্তি দিয়ে দেই। আফসোস! আমাদের ভালোমন্দ ভিত্তি পরিমাপক নিক্তিটাতেই গলদ সেটা আমাদের বিবেক বলে দেয় না।

রেনু! স্বামীর সাথে ডিভোর্স, দুই সন্তানসহ একাকি মা, জীবন সংগ্রামে চলমান এক নারীর অতঃপর গণপিটুনিতে মৃত্যু। আহারে জীবন। মেয়ে! তুমি একটা জনম কীভাবে পার করে গেলে কেউ জানলো না তোমার বুকের ক্ষত, মৃত্যুতে কতটা কষ্ট পেয়েছিলে কাউকে জানাতে পারলে না সেই আঘাতের বেদনা। ক্ষত-বিক্ষত কিছু চিহ্ন নিয়ে গেলে প্রাণহীন দেহে করে। নাহ! কেউ ভালোবেসে শেষ বিদায়বেলা চুমোর রেখায় এঁকে দেওয়া চিহ্ন সেটা নয়, মানুষ নামক প্রাণীদের সম্মলিত হিংস্রতার, আক্রোশের, চূড়ান্ত নির্মমতার চিহ্ন!

রেনু যখন মার খাচ্ছিল মানুষ নামের ভয়ংকর প্রাণীগুলোর হাতে… একবার রেনুর জাগয়ায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে ভাবতেই মাথা জ্যাম হয়ে আসছে। তার ছোট বাচ্চা দুইটার বাবাহীন মা-ই ছিল আশ্রয় তারা এই মা হারানোর জন্য কাকে দায়ী করবে? এই রাষ্ট্র? সমাজ? নাকি ভাগ্যকে? দায়ী যে-ই হোক, ভুক্তভোগী তো শুধুমাত্র এই বাচ্চা দুইটি।

আর রেনু! সে দেখে গেছে মানুষ কত ভয়ংকর হতে পারে। জন্মিলে মরিবে এই সত্য। কিন্তু এমন মৃত্যু কোনভাবেই কাম্য নয়। প্রিয়জনের সান্নিধ্য না থাকুক, রোগে-শোকে একলা ঘরে মরে পরে থাকুক, কিন্তু এমন সামাজিক পৈশাচিকতার শিকার হয়ে নির্মম মৃত্যু যেন কোনদিন কোন মানুষের না হয়।

শেয়ার করুন:
  • 10.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
    10.5K
    Shares

লেখাটি ২৩,৮২৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.