কেন আমি সস্তা নারীবাদী?

0

সৈয়দা সুমাইয়া ইরা:

হ্যাঁ আমি একটা সস্তা নারীবাদী, কারণ আমি দেখেছি ছোটবেলা থেকে কেবলমাত্র আমার লৈঙ্গিক পরিচয় মেয়ে হওয়ার জন্যই আমি বৈষম্যের শিকার।

হ্যাঁ আমি একটা সস্তা নারীবাদী, কারণ ছোটবেলায় আমি যখন বাড়িওয়ালার ছেলের দ্বারা এবিউজ হয়ে মায়ের কাছে এসে বলছি, মা মুখ চেপে ধরে বলছে, চুপচুপ এসব কথা আর কাউকে বলবি না, তুই আর বাসা থেকে বের হবি না, সেদিন থেকে আমার সকল প্রকার খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া হলো।

সৈয়দা সুমাইয়া ইরা

হ্যাঁ আমি একটা সস্তা নারীবাদী, কারণ যেদিন আমি বড়ভাই দ্বারা মলেস্ট হয়ে মায়ের কাছে বললাম, মা আমাকে সরু চোখে বলে দিলো, দোষ আমারই, আমি কেন ওড়না না পরে তার সামনে যাই!

হ্যাঁ আমি একটা সস্তা নারীবাদী, কারণ আমি দেখে আসছি প্রতিটা ঘরে মেয়েদের ছোটবেলা থেকে এই শিক্ষা দিয়ে বড় করা হয়, তুমি মেয়ে আস্তে কথা বলো, তুমি মেয়ে রান্না শিখো পরের বাড়ি যাইতে হবে, তুমি ধৈর্যশীল হও নাহলে সংসার করতে পারবা না পুরুষের সাথে, সংসারের শান্তির জন্য তোমাকেই সব সময় স্যাক্রিফাইস করতে হবে, বিয়ের পর স্বামী না চাইলে চাকরি করতে পারবা না, স্বামী পর্দা করতে বললে করতে হবে, তোমার জন্ম হইছে পরের ঘর করার জন্য।

হ্যাঁ আমি সস্তা নারীবাদী, কারণ আমি দেখছি প্রতিবেশী নীলুর গায়ের রং কালো হওয়ার জন্য তার পরিবারের লোক, এবং আত্মীয়রা বলতো, এই কালকি মেয়ের বিয়ে কীভাবে দিবে! তার কালো গায়ের রং সাদা করার জন্য হাজার রকম প্রসাধনী আনা হয় শুধুমাত্র তার বিয়ে হবেনা এটা ভেবে।

হ্যাঁ আমি সস্তা নারীবাদী, কারণ আমি দেখি আমার ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায় নবম শ্রেণীতেই, বাবা বলে ভালো ঘর পাইছি, ছেলের টাকা আছে, তাছাড়া মেয়ে মানুষের এতো পড়ালেখার কী দরকার!

হ্যাঁ আমি সস্তা নারীবাদী, কারণ আমি দেখি আমার বান্ধবীর স্বামী তাকে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করলেও সে ডিভোর্স দিয়ে বের হতে পারে না নিজে স্বাবলম্বী না বলে, বের হয়ে কোথায় যাবে? বাপের বাড়ির লোক বলবে তুই নিজে ভালো না, পুরুষ মানুষের রাগ একটু বেশীই, মানিয়ে নিতে হয়।

হ্যাঁ আমি সস্তা নারীবাদী, কারণ আমি দেখি এই সমাজে মেয়েদের শিক্ষাগত, পেশাগত জীবনের চেয়েও মাতৃত্বকে মহান করে দেখা হয়, কোন মেয়ে মা না হলে তার জীবন ব্যর্থ বলা হয়, কোন বন্ধ্যা নারীকে অপয়া বলা হয়।

হ্যাঁ আমি সস্তা নারীবাদী, কারণ আমি দেখি এই সমাজে মেয়েরা উপার্জন করলেও তার নিজের টাকা নিজে ব্যয় করার মালিক সে না, মেয়েরা নিজেদের সুবিধাজনক পোশাক পরা বা খোলার মালিক না তাকে ড্রেসকোড দেওয়া হয় সে কী গায়ে চড়াবে! মেয়েরা নিজের জীবনের সকল সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মালিক না।

কোন মেয়ে যদি সমাজের এইসব নিয়ম না মানে, নিজের জীবন নিজের মতন যাপন করতে চায় সে সমাজের চোখে হয়, নষ্টা, উগ্র, বেশ্যা মেয়ে মানুষ।

শেয়ার করুন:
  • 71
  •  
  •  
  •  
  •  
    71
    Shares

লেখাটি ৩৫১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.