অধরা সুখের খোঁজে নারীর অব্যক্ত বেদনা

0

রাবিয়া আনজুম:

আজকের টপিকের শিরোনাম দেখে কেউ কেউ ধারণা করবেন সন্তানহীনতার কথা বলবো বা স্বামী-শ্বশুরবাড়ির সদস্য দ্বারা নিগৃহীত হওয়ার গল্প বলবো।
নাহ, এসব কিছু না, এসব নিয়ে প্রচুর লেখা হয়েছে। আজকের টপিকটা কিছুটা স্পর্শকাতর, সচরাচর আলোচনার বাইরে থেকে যায়। স্বামী-শ্বশুরবাড়ি থেকে যত্নআত্তির কোন কমতি না থাকার পরেও দিনের পর দিন একটা মেয়ে গোপন এক বেদনায় মুষড়ে পড়ে থাকে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, এভাবেই কেটে যায় তার এক জীবন, সারাটা জীবন।

হ্যাঁ আজ শোনাতে চাই সেইসব নারীদের কষ্টের কথা, যারা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও স্বাভাবিক যৌন চাহিদা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত থেকে যান, আর এর মূল কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেবলই অজ্ঞতা আর অসচেতনতা।

কারো কারো কাছে এ বিষয়টা অপ্রাসঙ্গিক মনে হবে ঠিকই, কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার কাছে বিভিন্ন বয়সের যথেষ্ট পরিমাণ নারী তাদের ব্যক্তিগত এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেছেন যে, তাদের জীবনের কোন চাহিদাই অপূর্ণ নেই। তবে এই একটি ক্ষেত্রে তারা অসহায়, কারো সাথে আলোচনা না করতে পারায়, সমাধানের উপায় জানা না থাকায় বেদনায় কুড়ে কুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের দাম্পত্য জীবন, অধরা থেকে যাচ্ছে স্বাভাবিক সুখানুভূতি।

সঙ্গীর শারীরিক অক্ষমতার কারণে যে সকল নারীরা যৌন জীবনের স্বাভাবিকতা থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য এখন আধুনিক অনেক চিকিৎসা রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র অজ্ঞতা আর অসচেতনতার কারণে যারা বঞ্চিত হচ্ছেন, স্বামীর সাথেও আলোচনা করে সমাধানের উপায় বের করতে পারছেন না তাদের উদ্দেশ্যেই মূলত এই লেখা। লেখাটি বুঝে পড়তে ২০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

যৌন মিলন সম্পর্কে বেশির ভাগ যুগলের ধারণাই Penetrative Sex এর মাঝে সীমাবদ্ধ। সীমাবদ্ধ এই ধারণার প্রভাব আরও বেদনাদায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিশেষ করে নারীর জন্য যখন তার পুরুষসঙ্গীর কোন ধারণা থাকে না যে নারী দেহের জেগে ওঠা আর উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়াটি পুরুষ দেহের মতো অতখানি সোজাসাপ্টা নয়। হয়তো প্রাকৃতিক কারণেই পুরুষের দেহে রয়েছে ক্ষিপ্রতা, অস্থিরতা। অপরদিকে নারী অপেক্ষাকৃত ধীর স্থির তবে অধিকমাত্রায় সংবেদনশীল। দৈহিক মিলন মানেই তাড়াহুড়োর Penetrative Sex বলে যেসকল পুরুষেরা মনে করেন তাদের সঙ্গিনীরাই মূলত অপূর্ণ যৌন জীবন নিয়ে পার করে দেন তাদের সারাটা জীবন। অথচ সঠিকভাবে জেনে বুঝে অংশগ্রহণমূলক যৌনতায় পুরুষের পাশাপাশি নারীও পেতে পারে সুখের শীর্ষ অনুভূতি।

যৌনতায় অপূর্ণতা নিয়ে জীবন কাটছে এমন নারীদের মধ্যে নববিবাহিতাও যেমন তার দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, তেমনই বলেছেন বিগতযৌবনা নারীরাও। তাদের কষ্টের সুরটা মিলে গেছে একই জায়গায়, আর সেটি হলো স্ত্রীর চাহিদার দিকে লেশমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে পতিদেব কালবৈশাখির মতো হঠাৎ দুই তিন মিনিটের ঝড় তুলে নিস্তেজ হয়ে ওপাশ ফিরে তলিয়ে গেছেন গভীর সুখনিদ্রায়। পাশে তুষের আগুনে পুড়তে থাকা স্ত্রী ছটফট করে বিনিদ্র থেকে রাত করেছে ভোর। আবার কখনো এমনও হয়েছে স্ত্রীর শরীর প্রস্তুত হওয়ার আগেই স্বামী ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছেন তার সেই অনেকটাই জবরদস্তিমূলক Penetrative Sex এ, যার কারণে অপ্রস্তুত শরীরে স্ত্রী পেয়েছে কেবলই ব্যথার অনুভূতি।

এমন পরিস্থিতির শিকার বেশিরভাগ নারী একে তার নিয়তির পরিণাম আর স্বামীর শারীরিক দুর্বলতা বা বৈশিষ্ট্য মনে করে সমাধান খোঁজা থেকে বিরত থেকেছেন, নীরবে পার করে দিয়েছেন জীবন। আমার লেখার মূল পয়েন্টটা এখানেই।

এ ধরনের ঘটনার অধিকাংশের কারণ অনুসন্ধান করলেই দেখা যাবে এটি কারো নিয়তির পরিণাম নয় বা নয় কোন পুরুষের শারীরিক দুর্বলতা, মূল কারণ হচ্ছে অজ্ঞতা আর অসচেতনতা। অজ্ঞতা আর অসচেতনতাটির মূল জায়গাটা হচ্ছে যৌনক্রিয়ার আদ্যেপান্তে নারী পুরুষের শরীরের প্রতিক্রিয়ার ভিন্নতা সম্পর্কে জানা না থাকা।
কোন যুগল একবার যদি তাদের নিজ নিজ সঙ্গীর শরীরকে আবিষ্কার করে ফেলতে পারে, তবে এ ধরার বুকেই তাদের কাছে এসে ধরা দিবে অধরা স্বর্গসুখ। এর মধ্যেই এই আলোচনা অনেক লম্বা হয়ে গেছে, একে টেনে আরও অনেক লম্বা করা সম্ভব। তবে আমি আলোচনাকে আর না টেনে কিছু সমাধানের কথা বলে সংক্ষেপে শেষ করতে চাইছি।

প্রথমে পুরুষের প্রসঙ্গে আসি। শারীরিক মিলনের জন্য পুরুষের উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া আর তা প্রশমিত হওয়াটা অনেকটাই সরলরৈখিক। তাদের যৌনতার অনুভূতি মূলত পুরুষাঙ্গকেন্দ্রিক। মিলনের জন্য খুব অল্প সময়েই পুরুষাঙ্গ দৃশ্যমানভাবে উত্তেজিত (erected) হয় এবং এর সম্মুখভাগ (Tip of the Penis or Glans) জুড়ে থাকা হাজার হাজার স্নায়ুতে প্রবাহিত হতে থাকে রক্ত। Penetrative Sex এর মাধ্যমে পুরুষ ২/৩ মিনিটেই ইজাকুলেশনের মাধ্যমে তার শীর্ষ অনুভূতি লাভ এবং উত্তেজনা প্রশমনে সক্ষম হয়। কারো কারো হয়তো সময়টা আরেকটু দীর্ঘায়িত হয়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটানা Penetrative Sex এর সময় ৫/৬ মিনিটের বেশি নেয়া সম্ভব নয়, এটা স্বাভাবিক।

পক্ষান্তরে মিলনের জন্য নারীদেহ প্রস্তুত হওয়ার জন্য প্রয়োজন কিছুটা আবেগের সম্মিলন, কিছুটা সময়। আর পতিদেবদের এই সময়টুকু দিতেই যত গড়িমসি। একটু আদর, দুটো ভালোবাসার কথা সাথে শৃঙ্গার (foreplay বললে অনেকে সহজে বুঝবেন), এতেই নারীদেহ পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত হয় অংশগ্রহণমূলক মিলনের জন্য। আর অংশগ্রহণমূলক যৌনতা উভয়ের জন্য এনে দেয় এক অসামান্য অভিজ্ঞতা।

এখন সমস্যা হচ্ছে টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। একটি যুগলের পুরুষ আর নারীর উত্তেজনা প্রশমনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের তারতম্য থাকবেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীর প্রয়োজন একটু বেশি সময়। কিন্তু তার পুরুষসঙ্গীর যদি জানা থাকে কীসে সঙ্গিনীকে সহজেই তৃপ্ত করা যাবে, তবে কিন্তু এই সময় সহজেই কমিয়ে আনা যায়। এজন্য এ লেখায় আমি উল্লেখ করবো নারীদেহের এক অসামান্য অঙ্গের কথা যা প্রকৃতি তাদের দিয়েছে শুধুই যৌনসুখ উপভোগের জন্য আর এর ব্যবহারেই নারী পেতে পারে দ্রুত রাগমোচনের (orgasm)অনুভূতি।

হুম এটি হচ্ছে ভগাঙ্কুর (clitoris নামে সুপরিচিত) যার অনুভূতি ও কার্যকারিতা পুরুষের শিশ্নের মতোই। পৃথিবীজুড়ে পরিচালিত একাধিক সমীক্ষায় ৫০ থেকে ৭৫ ভাগ নারী স্বীকার করেছেন যে, clitoral stimulation ব্যতীত তারা orgasm লাভে ব্যর্থ। এমনকি clitoris বা ভগাঙ্কুরের অনুভূতি এতোটাই তীব্র যে কোনরূপ Penetrative Sex ছাড়াই শুধুমাত্র clitoral stimulation এর মাধ্যমেও নারী পরিপূর্ণ লাভ করতে orgasm সক্ষম। সুতরাং সে সকল নারী তাদের পুরুষ সঙ্গীর “টাইম ম্যানেজমেন্ট” নিয়ে চিন্তিত তাদেরকে সচেতন করুন যে উপভোগ্য মিলনের জন্য Penetrative Sex ছাড়াও foreplay এবং clitoral stimulation অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা কখনো মূখ্য ভূমিকাও পালন করে।

আর শুধু এদিকে মনোযোগী হলেই টাইম ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমি আজ শুধু চিন্তার খোরাকটা ধরিয়ে দিলাম, অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে দম্পতিদের উচিৎ হবে নিজ দায়িত্বে আরো বিস্তারিত জেনে নেয়ার।

শেয়ার করুন:
  • 192
  •  
  •  
  •  
  •  
    192
    Shares

লেখাটি ১,৪০৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.