স্ট্যাটাস

0

ফাহমিদা খানম:

বড়ো ছেলের এনগেজমেন্ট হবে এক সপ্তাহ পরেই — ভীষণ ব্যস্ততা আমার, মধ্যবিত্ত মানুষদের অনেক শখ থাকে সন্তানদের বিয়ে নিয়ে, অথচ সাধ্য কম!
“আম্মু তোমার সাথে একটু কথা ছিলো”
“বলে ফেল বাপ, আমি একটু পর মার্কেটে যাবো শাড়ি কিনতে”
“মার্কেটিং শুরু করার আগেই কথাগুলো বলতে চাই”
ছেলের মুখ দেখে কেমন যেনো মনে হলো, এ সুরে কথা বলে না ছেলে, হাত ধরে রুমে নিয়ে গেলাম –
“কোনো সমস্যা? আমাকে খুলে বল বাপ?”
“মা লিরাদের বাসা থেকে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে, কী করবো বুঝতেছি না”
“কেমন শর্ত? কীসের শর্ত?”
“ওরা এনগেজমেন্ট নয়, আকদ করাতে চাইছে আর দেনমোহর চাইছে বিশাল অংকের”
“তোদের পছন্দের বিয়ে এখানে অন্যকিছু কেনো বড়ো হবে সেটাই বুঝতে পারছি না”
“মা শ্বশুর শাশুড়ি চাইছেন তাদের বড়ো মেয়ের বিয়ের কাবিন যা হইছে, ছোটো মেয়েরও তাই করতে হবে”
“সেই অংকটা কতো?”
“২০ লক্ষ টাকা”
হাঁ করে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম, পাশ করে ছয় মাস হলো একটা চাকুরী পেয়েছে, এখনো নিজেই গুছাতে পারেনি, এতো টাকা কোথা থেকে দিবে?

ফাহমিদা খানম

আমরা ওর বিয়ের জন্যে একদমই প্রস্তুত ছিলাম না, কিন্তু সহপাঠিনীর সাথে প্রথম থেকেই প্রেম, মেয়ের মা-বাবার চাপাচাপিতে নিমরাজি হতে বাধ্য হয়েছি। মেয়ের বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে বলে ক্রমাগত তাগাদা দেবার পরেই এই এনগেজমেন্টের কথা হয়েছে, ছয় মাস পর বিয়ের অনুষ্ঠান হবার কথা ছিলো।

“বড়ো জামাই বিরাট ব্যবসায়ী তার সাথে তোমার তুলনা কেনো রাইয়ান?”
“গায়ে হলুদের প্রোগ্রাম, মেহেদী সন্ধ্যা, সারারাতব্যাপী কমিউনিটি সেন্টারে হবে, গান-বাজনা চলবে সারারাত”
“এতো বিশাল খরচের ব্যাপার রাইয়ান! এতো টাকা কোথা থেকে আসবে?”
“উনারা বলেছেন যৌথ করতে, দুই পক্ষের চাপ কম পড়বে”

আকাশ ভেংগে পড়া কাকে বলে বুঝলাম, রাইয়ানের বাবা একটা ব্যাংকের ম্যানেজার, লোন নিয়ে বারশ স্কয়ার ফিটের যে বাড়ি কিনেছে সেটার লোনই এখনও শোধ হয়নি, দুই বাচ্চার পড়ালেখা আর সংসার চালাতে এখনো হিমশিম খাই। রাইয়ান পড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে হাত খরচ নিজেই চালাতো।

“এতো আনুষ্ঠানিকতা করার খরচ করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই, তুমি বুঝিয়ে বলো”
“মা প্লিজ বাবাকে বলো লোন নিতে, আমি আস্তে আস্তে সব শোধ করে দিবো”
“দেনমোহরের টাকা শোধ করবি কীভাবে? বিয়ের দিনই সেটা স্বামী পরিশোধ করার নিয়ম”
“এসব না করলে নাকি ওদের প্রেস্টিজ থাকবে না মা, প্লিজ বলো আমি কী করবো?”
“বিয়ে মানে দুজন মানুষের সুখে – দুঃখে একসাথে পথ চলা, একে অপরের বিপদে হাত ধরে রাখা, শর্ত দিয়ে কি এই বন্ধন চলে রাইয়ান?”
“আমি যে কী করবো আমি নিজেও বুঝতে পারছি না”
“তুমি যার প্রেমে পড়েছ তাকেই বিয়ে করতে চাইছো –এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার রাইয়ান। তবে যে মেয়ের পরিবার স্ট্যাটাস খুঁজে সে কেনো তোমার মতো একটা সাধারণ ছেলেকে ভালবেসে এখন শর্তের জালে ফেলছে এটাই বুঝে উঠতে পারছি না আমি। আর স্ট্যাটাসের জন্যে এতোবড় অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়াও অন্যায় আমার কাছে, যাই হোক বোধ, বিবেক, বিবেচনার ক্ষমতা তোমার আছে আর তুমি নিজেই প্রাপ্তবয়স্ক, ডিসিশন নাও তুমি কী করবে?”

# ফালতু স্ট্যাটাসের খপ্পরে পড়ে অনেক সময় অনেক ছেলেপক্ষকেও নাজেহাল হতে হয়। মোহরানা পাত্রের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই করা উচিত এবং বিয়ের রাতেই তা পরিশোধ করা উচিত। এই মোহরানা নিয়ে অনেক জায়গায় অনেক বাড়াবাড়ি হয়, হচ্ছে, হবে, –দুই এক জায়গায় বিয়ে ভাঙ্গতেও দেখেছি। যার কাছে মেয়ে দিবেন সে কেমন চরিত্রের সেটাই বিবেচ্য টাকার অংক নাহ!

১০/৬/১৯

শেয়ার করুন:
  • 129
  •  
  •  
  •  
  •  
    129
    Shares

লেখাটি ৫১৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.