সুস্মিতা সেনকে কেন এগিয়ে রাখি আমি

0

শাহরিয়া খান দিনা:

সিনেমার শাবানা টাইপ নারী জীবন কোনদিন আমাকে টানেনি। প্রেগন্যান্ট করে স্বামী উধাও। তারপর অন্যের বাসায় কাজ করে, সেলাই মেশিন চালিয়ে ইউনিভার্সিটিতে সন্তানকে পড়াচ্ছেন। শেষ দৃশ্য স্বামী মাফ চাইতে এলে মুখে কাপড় গুঁজে বুকে ঝাঁপিয়ে পরে “ওগো একথা বলে আমায় অপরাধী করো না” দেখতেই চরম বিরক্তিকর লাগতো।

আমারে আকর্ষণ করে জে কে রাওলিং কিংবা অপরাহ উইনফ্রে’র জীবনী। আমার চোখে পৃথিবীতে পারফেক্ট বিউটি উইথ ব্রেইনের উদাহরণ সুস্মিতা সেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রাণবন্ত ছবি দেখে মনে হতেই পারে দুই মেয়ে ও কাশ্মীরি প্রেমিককে নিয়ে দিব্যি রয়েছেন সুস্মিতা। এই সাহসী ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, সৌন্দর্যের আড়ালে নিজের অসুস্থতার গভীর ক্ষতটা লুকিয়ে রেখে ছিলেন। স্টেরয়েড নির্ভর জীবন। প্রতি আট ঘণ্টা অন্তর হাইড্রোকর্টিসোন নিতে হয়। কারণ তার ওই হরমোন আর তৈরি হয় না। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পরের দু’বছর মানসিক অবসাদে ভুগেছেন তিনি। চুল পড়া বেড়ে গিয়েছিল। ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল গায়ের রং। ওজন বেড়ে মোটাও হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য মাঝেমধ্যেই ছুটতে হতো লন্ডন এবং জার্মানিতে। তবে সব কিছু সামলে ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছেন সুস্মিতা সেন।

তথাকথিত সামাজিক অনুশাসনের বাইরে গিয়ে নিজের ইচ্ছেয় অনেক কাজই করেছেন ৪৪ বছর বয়সী অভিনেত্রী। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের জীবন নিয়ে কখনোই লুকোচুরি খেলেননি৷ মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে নিজেকে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুস্মিতা সেন “রেনে” নামের এক মেয়ে বাচ্চাকে ২০০০ সালে দত্তক নিয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে এককী নারী হিসেবে, শিশু দত্তক নেওয়ায় অভিভাবকত্ব নিয়ে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু মুম্বাই আদালত তাদের আবেদন রদ করে এবং সুস্মিতা জয়লাভ করেন। ২০১০ সালে তিনি “আলিশা” নামে তিন মাস বয়সী মেয়ে বাচ্চাকে দত্তক নেন।

শাহরিয়া খান দিনা

তিনি যে রেনের জন্মদাত্রী মা নন, সে কথা মেয়েকে নিজেই জানিয়েছিলেন স্পষ্টভাবে। কী করে? খেলতে খেলতে তিনি মেয়েকে বলেছিলেন, “বায়োলজিক্যাল মাদার হওয়াটা খুব বোরিং। তোর জন্ম হয়েছে হৃদয় থেকে।”

১৮ বছর বয়স হলে কোর্টের থেকে নাম-ঠিকানা জেনে মেয়েরা তাদের বায়োলজিক্যাল মায়ের সাথে ইচ্ছে হলে দেখা করতে পারবেন। এক্ষেত্রেও সুস্মিতা স্পষ্ট, যেহেতু আমি জানিনা কে তাদের বাবা-মা তাই মিথ্যে বলব না। কোর্ট-ই তাদের ঠিকানা দিবে।

তার প্রেমিকের তালিকায় সুপারস্টার রনদীপ হুদা, ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম অথবা এখনকার ২৮ বছর বয়সী কাশ্মীরী মডেল রেহমান কাউকে নিয়েই লুকোচুরি করেননি। তাদের সাথে ক্যামেরার সামনেও দাঁড়িয়েছেন সাবলীলভাবে। অটোবায়োগ্রাফি লিখছেন। অন্যের হাতে লিখতে দিলে ফিলিংসগুলি ঠিকঠাক উঠে আসবে না বলে। ভালো কবিতা লিখেন। চমৎকার কথা বলেন। কিছু কোরআনের আয়াতও মুখস্থ।

তার মুখেই মানায় –

Hum kisi se khushyan maangy
Ye hamain manzoor nahe
Maangi hui khushyon se
Kis ka bhalaa hota hy. Jitna apni taqdeer mn likha ho wo zaroor anaa hota hai …

“আমি কারো থেকে খুশি/সুখ চাইবো, এতে আমি রাজি নই। চেয়ে নেওয়া সুখ থেকে কারো কি ভালো হয়? যা আমাদের ভাগ্যে লেখা আছে আমরা তা পাবোই”।

শেয়ার করুন:
  • 209
  •  
  •  
  •  
  •  
    209
    Shares

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.