আমরা এক ক্লান্তিহীন অপেক্ষায় থাকা নিরুত্তাপ জাতি

মীনাক্ষী রশীদ:

রাস্তায় পড়ে থাকা মৃত কোনো পশু কখন সিটি কর্পোরেশনের লোক এসে পরিষ্কার করবে সেই অপেক্ষায় থাকলে সেটা থেকে কেবল দুর্গন্ধই ছড়াবে না, বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও হবে। অথচ আমরা ক্লান্তিহীন অপেক্ষায় থাকা নিরুত্তাপ জাতি। মৃত মানুষেও আমাদের কোনো সমস্যা হয় না, অপেক্ষা করতে পারি।

একটা দেশ ভালো রাখার দায়িত্ব কি কেবল দেশ প্রধানেরই? আমাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? আমরা মরবো, কিন্তু নড়বো না। তাই তো?

দুইদিন আগে দেখলাম কেএফসিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। অথচ কিছুদিন আগেই মরা মুরগির জন্য জরিমানা করা হয়েছে তাদের। পারসোনা কিংবা আড়ংয়েও একই দৃশ্য… এবং আমি, আপনি, সেও একই মানুষ। যার ফলাফল হলো ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রা, গ্রীষ্মকালে কুয়াশা, শীতকালে ফ্যান, বৃষ্টিহীন বর্ষাকাল, ঘরে ঘরে ক্যান্সার, স্ট্রোক, হার্ট এটাক, বিল্ডিংয়ে আগুন, এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, গ্যাস, পানির স্বল্পতা, খুন, ধর্ষণসহ এমন হাজারও প্রাণঘাতী ঘটনা।

আমাদের তো অর্ধেক জীবন পারই হয়ে গেল আর বাকি জীবনটাও স্বার্থপরের মতো কাটিয়ে পরপারে চলে যাবো কিন্তু নতুন যে প্রজন্ম পয়দা করে গেলাম তার জন্য খাওয়া, পরা, আর শরীরে বড় করে তোলার বাইরে আর কোন দায়িত্ব নেই?

অন্যদিকে গুটি কয়েক মানুষ যারা দেশের কল্যাণে কাজ করে তাদেরকে টেনে নিচে নামানোর জন্যই কি শুধু আমাদের জন্ম হয়েছে? কেন, যারা খাদ্যের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করছে আপনার শরীরে, আপনার সন্তানের শরীরে, যে মরা মুরগি, মরা গরু, কুকুর খাওয়াচ্ছে, যে মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস দিয়ে আপনাকে ঠকাচ্ছে, দেশের স্বনামধন্য যে বুটিক দুইদিন আগে ৭০০ টাকায় বিক্রি করা জিনিস ঈদ উপলক্ষে সেই একই জিনিস ১৫০০ টাকায় বিক্রি করে আপনাকে জিম্মি করছে, তাদেরকে ধরে টেনে নিচে নামাতে পারেন না?

মাহফুজুর রহমান কী পরলো, কী গাইলো, জয়া আহসান ক্যামনে ব্যাট ধরলো, এগুলো নিয়ে যত মাতামাতি দেখা যায় সমাজের কোনো অন্যায় নিয়ে তো টুঁ শব্দ পর্যন্ত পাওয়া যায় না!

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেকেরই বলতে শুনেছি, স্বাধীনভাবে আর কথা বলা যাবে না, মুখ বন্ধ করে থাকতে হবে। কিন্তু আমি মনে করি এই আত্মবিধ্বংসী জাতির তো মুখই নেই তো সরকার বন্ধ করবে কী? তাইতো এই গণ্ডার প্রকৃতির মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে যে সাহসী অফিসারটি পারসোনা কিংবা আড়ং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাকেই কিনা কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বদলি হয়ে যেতে হয়!

কেন আমরা পারি না এই বড় বড় কর্পোরেট চোরদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে? আড়ং থেকে না কিনলে, পারসোনায় না গেলে বা কেএফসিতে না খেলে কি আমরা মরে যাবো? ঈদ হবে না? নাকি মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকে এই চোরেরা ছিল…তাই তাদের ছাড়া আমাদের চলে না!

আজ বাংলাদেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য সাধারণ মানুষই দায়ী বেশি। কারণ আমরা ভালোর পক্ষে নেই। আমরা প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছি ।

আমরা এখন ফেইসবুকের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত শিক্ষিত জাতি। এই জ্ঞানের আলোতেই ঝলসে যাচ্ছে পুরো দেশ, জাতি এবং সর্বোপরি পুরো পৃথিবী।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.