আমি তো আমার গল্প বলছি (পর্ব-১)

0

দেবী গাফফার:

পাঁচ তলা বা সাত তলা সমান উঁচু পাহাড়ের ওপর আমাদের বাসা ছিলো। ঘন জঙ্গল সব মিলে পাঁচ ছয়টা বাড়ি। নিচ থেকে কলসি নিয়ে কোমরে করে পানি নিয়ে যেতাম। ঐ পানিতেই রান্না, বাথরুম, সব হতো। কখনো এতো পানি আনতে বিরক্ত লাগেনি।

বাসার পিছনে অনেক বড় বড় সেগুন গাছ ছিলো। গাছ বাইতে পারতাম ভালোই। এখনকার মতো এতো খাবার ফাস্ট ফুড ছিলো না। তিন বেলা ভাত। তাও প্রতিদিন বেগুন ভাজি অথবা পাহাড় থেকে তুলে আনা ঢেঁকি শাক। বিকালে ক্ষিদা লাগতো। সেগুন গাছে উঠে বড় বড় পাতা নিয়ে মাংসের দোকানে দিলে এক টাকা বা তারও কম আট আনা দিতো। ঐ পয়সায় বাজ্ঞোলা ( পিঠা টাইপ) খেতাম মনের সুখে।

এতো কথা বললাম, কারণ আমি এখনও ওই পাহাড় স্বপ্নে দেখি। হঠাৎ একদিন পাহাড়ের ছবি দেখে মনে হলো, আরে, এই পাহাড় তো আমি চিনি! এতো আমার সেই চিরচেনা পাহাড়! আবার ওই পাহাড়ে জীবন শুরু করতে ইচ্ছা করে।

এই গল্প অমি গাফফারকে বলেছিলাম আমি। ২২ বছর আগে বলেছিলাম, যদি কোনদিন পারি আবার ঐ পাহাড়ে যাবো। বড্ড মনে পড়ে।

তারপর থেকে অমি প্রতিদিন একটা পাহাড়ের ছবি আঁকতো, আর আমাকে দিতো।
একদিন সেই পাহাড়ের কথাটা লিখে ফেললাম তো ফেঁসে গেলাম, পালানোর রাস্তা নেই। বিবেক কথা বলতে থাকলো, দেবী বলে ফেলো, তুমি তো ভীতু না। কাওকে ভয় পাও না, লেখো লেখো।

তখনই লেখার শুরু।

এক

দেবী গাফফার

বাবার কথায় আসি, উনি কক্সবাজার হাই স্কুল এর সেরা ছাত্র ছিলেন, আধা কোরানে হাফেজ। দশ রকমের ভাষা পারতেন, নেভিতে চাকরি হয়, আমার জন্মের আগে, কিন্তু করলেন না। মিঠা ছড়ি হাই স্কুলে চাকরি হয়, করলেন না, ডাক্তারি করলেন না, পাকিস্তান আমলে সল্ট কোম্পানিতে চাকরি হয়, করলেন না। আমি আজও জানি না কেন করলেন না।
বার্মা গেলেন, আমার মাকে বিয়ে করলেন। আমার বড় খালার সাথে বাবার বিয়ে হওয়ার কথা, খালার অন্য লোকের সাথে প্রেম থাকায় ভেগে গেলেন।
তখন মেয়ের বিয়েতে যা যা খরচ ছেলে পক্ষ দিত। আমার বাবার বেলায়ও তা হলো। বর যাত্রী আসলো, খাওয়া দাওয়া শেষ, বউ কই, বউ কই! নাই।
সালিশ হলো। মেঝো মেয়ে দাও। মেঝো মেয়ে আমার মা। নানা-নানী বিচারে হেরে গেলো। ঐটুক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিলো। শুরু হলো হতভাগীর জীবন চলা।

বাবা বার্মা যাওয়ার পর বুছিদং নামক জায়গায় থাকতে লাগলেন। বাবার পড়াশোনা, বুদ্ধি দেখে সবাই মিলে বাবাকে বন্দর এর চেয়ারম্যান বানালেন। নিজে কিছু ব্যবসা করলেন। টাকা আর টাকা। মা সিনেমা দেখতে পছন্দ করতেন। সিনেমা হল লিজ নিলেন। নাম হয়ে গেলো রাজা।
অল্প দিনই সুখ ছিলো। মাকে নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যওয়াার সময় আর্মি অফিসার রাস্তা আটকিয়ে বলে, তোমার বউ নিয়ে রাতে আমার কাছে আসবে।
খারাপভাবে বলা। আর কোন কথা নাই, রাস্তার পাশে বাঁশের বেড়া থেকে বাঁশ খুলে মারা শুরু। মাথা ফেটে গেলো। মরে নাই।
যাবে কই? বাংলাদেশ থেকে লোক গিয়ে ( তখন পাকিস্তান) বার্মিজ বিয়ে করবে, আবার মেজর এর মাথাও ফাটাবে?
ধরতে পারলে ফাঁসি। সব ফেলে মার হাত ধরে পালালেন।
সাথে কয়েক কেজি স্বর্ণ ছাড়া কিছু আনতে পারলেন না। কক্সবাজারে স্বর্ণের দোকান দিলেন (বর্তমান আলোছায়া ফটো স্টুডিওটাই দোকান ছিলো)।
নিজে না বসে অন্য লোক দিয়ে চালালেন। যা হওয়ার তাই হলো। শেষ সম্বলটুকুও রইলো না।

সব মানুষ সংসারী হয় না, উনি এমনই। কাকে দোষ দিব? বাবা-মা’র নাকি দোষ ধরতে হয় না। কিন্তু আমরা যারা বাবা-মা আছি, আমরা যেন খেয়াল রাখি, সন্তান জন্ম দিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করি।
মা বাংলা বলতে পারে না, রান্না পারে না, বাবার বয়স মার চেয়ে অনেক বেশি। ভয়ও করতেন অনেক।

দুই
মেয়ে হয়েছে? মুখ দেখবো না!
আমার জন্ম লগ্ন। মার প্রসব ব্যথা শুরু। বাসায় নার্স আনা হলো। বাবা বাইরে পায়চারী করছেন। খবর গেলো মেয়ে হয়েছে।
রেডি করে বাবার কাছে নেওয়ার সময় ফুফাতো ভাই নাগা মরিচ দিয়ে ভাত খাচ্ছিলো, সেই নাগা মরিচ মাখানো ভাত মুখে ভরে দিল। মরি নাই।
বাচ্চার বাবা কই, কোলে নিবে। প্রথম সন্তানের মুখ দেখবে। নাই, কোথাও নাই। সেদিন আর বাসায় আসেননি আমার বাবা।
অনেক খোঁজ খবর নেওয়ার পর খবর আসলো, ছেলে না হয়ে মেয়ে কেনো হলো? মনের দুঃখে মসজিদে শুয়ে আছেন।
উনি মসজিদেই ঘুমালেন। মা আমাকে নিয়ে একা। মা বলবো? নাকি শিশু মা বলবো? কারণ উনি তখন দশ বছরের বাচ্চা।
পরের দিন বাসায় আসলেন। কোলে নিয়ে বললেন, মসজিদে ঘুমের মধ্যে আওয়াজ পেয়েছেন, এ তোমার মেয়ে না, ছেলের চেয়ে বেশি। তোমার বংশের আলো।
যে বাসায় আমার জন্ম হয় বাঁশের দোতলার মতো। বান্দরবানের বাসাগুলোর মতো। মা বলতেন, বাসা এতো পুরনো হয়েছিল, হাঁটতে ভয় লাগতো।
আমার জন্মের মাসেই নতুন কাঠের দোতলা শুরু হলো। দেখার মতো। একটা সময় আসলো বাবাকে সবাই রাজা বলতো।
বাবার ধারণা আমি তার ভাগ্যদেবী।
আমার নাম রাখা হলো ‘দেবী’।

তিন

বাবার অতিরিক্ত পড়াশোনা, অতিরিক্ত বুদ্ধি, কোথাও কিছু করলেন না। কোন কাজে লাগালেন না। আমার বাবা সব জানে, বাবা যেটা বলে সেটাই ঠিক। বাবাই আমার পৃথিবী। সারাক্ষণ বাবার সাথে সাথে আমার পথ চলা।
না খেয়ে থাকার কারণে বাবার ওপর কোনদিন রাগ ওঠেনি। মনে কোন প্রশ্ন জাগেনি। কোনদিন জিজ্ঞেস করিনি, আপনি এমন কেন!
আমার এক জোড়া জুতা ছিলো, দ্বিতীয় ভাইটা জুতার ভিতরে কাপড়ের টুকরো দিয়ে ওর পা এর সাইজ বানিয়ে বের হয়ে যেতো, মানুষের চেয়ে জুতা বড়, আহারে জীবন!
বছরে এক- দুইবার খুশির বন্যা বয়ে যেতো। টেকনাফ বর্ডার হয়ে নানা বা নানী আসতেন। মায়ের জন্য এক জোড়া থামি, বেদাই (বার্মিজ লুংগি, ব্লাউজ) আমাদের জন্যও হরেক রকম খাবার আনতেন।
নানী কাঁদতেন আর বলতেন, কেন বিয়ে দিলাম, চল বার্মা ফিরে যাই। মা তো আমাদের ফেলে যাবেন না।
গাছ থেকে ডাব পাড়বে, সুপারি পাড়বে আমার ডাক পড়তো। পেড়ে দিলে আমাকে যা দিতো, ওগুলো নিয়ে বিজয়িনীর বেশে বাসায় আসতাম। ভাইবোন গোল হয়ে বসে নারিকেল খাওয়া, যেন পৃথিবীর অমৃত খাচ্ছি।
মার ৫ নম্বর বাচ্চাটা হয়ে এক মাসের মধ্যে মারা গেলো। বাঁচবে কী খেয়ে? ভালোই হলো। আর একটা জীবন যেন মরেই বেঁচে গেলো।
এর পর শুরু হলো বিধাতার আনমনে খেলা। আমার হাত ধরে নিয়ে গেলেন বহুদূর। কেউ যেন কানে কানে বলে গেলো, এই গেইম পার হও, তুমি না দেবী!

চার

যখন বুঝতে শিখলাম, করুণ অবস্থা। ভাত নাই, কাপড় নাই। আমার পর পর তিন ভাই, সব এক বছর পর পর।
মা’র মনে হলো আমাকে আর আমার ছোট ভাইটাকে স্কুল এ দেওয়া উচিৎ। ছোট ভাইটাকে হাতে নিয়ে আমিই যাই। সরকারি স্কুল নিয়ে নিলো। আমার সাইজ দেখে আমাকে টুতে, ভাইটাকে শিশু শ্রেণিতে নিলো।
বইল্যা পাড়া প্রাইমারী স্কুল, কক্সবাজার, বেঞ্চ নাই, ইট এ বসে পড়াশোনা।
আমি তো ক্লাস এর পড়াশোনা কিছু বুঝি না, রাতে বাবাকে বললাম। মা বাংলা পারে না। বাবাই ভরসা।
পড়তে বসালেন, রাত বারটা, দুইটা, ভোর, আজান। মা ভয়ে ভয়ে বলছেন, মেয়েটা মারা যাবে, এবার ছুটি দেন। আমার অ আ একরাতে শেষ।
ওয়ান টু বা এক দুই আমাকে কেউ শিখায় নাই। আমি দেখে দেখে শিখেছি।
আর এক রাত ভোর হলো এ বি সি ডি শিখতে। এই আমার সম্বল। বার্ষিক পরীক্ষায় অংকে ০০০০০। এক, দুই এর পরে একে একে দুই হয়, কেউ তো শিখায়নি।
বাসা ছিলো হাংগর পাড়া, মাঝির ঘাট, কক্সবাজার। স্কুল এর দূরত্ব তিন কিলোমিটার। হেঁটেই আসা যাওয়া। টিফিন দুইটা শুকনা আটার রুটি।
বেশির ভাগ দিন কোন টিফিন জুটতো না।
রাস্তায় বাচ্চারা পিছনে বলতো, দেবী, তোরে পূজার পরে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিবে। হিন্দু হিন্দুর দেবী। এতো রাগ হতো। ওরা তিন-চার জন, আমি একা, মারামারি লেগে যেতো। ভাইটা ছিলো ডাহা বলদ, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতো। মারামারিতে আমি না পারলে ওকে বলতাম, তুইও আয় আমি একা পারি না। ও বলতো, ওরে বাবা আমি পারবো না। আপনি ছেলেদের সাথে মারামারি করেন কেনো?
গাধাটা।

পাঁচ

মাতৃ দিবস। কোনো বাবা মা যেন তার সন্তানের হাত না ছাড়ে। অনুরোধ।
যুদ্ধ শুরু হবে হবে, আব্বাজান বুঝতে পেরেছিলেন, যুদ্ধ লেগে গেলে পাকিস্তানি আর্মিদের হাত থেকে আমার মাকে রক্ষা করা যাবে না।
সিদ্ধান্ত নিলেন মাকে বার্মা পাঠিয়ে দিবেন। আগেই বলেছি, মা বার্মিজ
কনভার্টেড মুসলিম। রেংগুনের মেয়ে। বার্মায় আমার নানা বাড়ি। তখন মা হয়তো চৌদ্দ বছরের।
টেকনাফ থেকে মা নৌকায় উঠলেন। আব্বাজান বললেন, নৌকা ছাড়ো। আমি বাবার কোলে, মার কোলে ছোট ভাইটা।
ভাইটা আমার চেয়ে মাত্র দশ মাসের ছোট।
মা হাত বাড়ালেন আমাকে নেওয়ার জন্য।
বাবা বললেন, তুমি যাও, দেবী আমার কাছে থাকবে। যদি দেশে যুদ্ধ লাগে, আমি মারা যাই, আমার সন্তান মগ হয়ে যাবে।
আর আমি আমার দেশ ছেড়ে যাবো না।
মাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মাঝিকে বললেন, নৌকা জলদি ছাড়ো। আমার কিচ্ছু মনে নাই। আমি বাবার কাঁধে ঘুম।
সকালে ওঠে জিজ্ঞেস করি, মা কই? অনেকদিন হয়ে যায়। ততোদিনে মাকে ভুলে গেছি। হঠাৎ একদিন জিজ্ঞেস করি, আমার মা নাই? বাবা বললেন, আছে তো। বাসার সামনের কলা গাছটা দেখিয়ে ওটা তোমার মা।
প্রতিদিন সকালে ওঠে কলাগাছটা বুকে জড়িয়ে ধরে ‘মা মা’ করে চিৎকার করতাম। আমি জানতাম কলা গাছটাই আমার মা।

যুদ্ধ শুরু।

মিঠাছড়ি গ্রাম, কক্সবাজার। এক বাসায় আমাকে রেখে বাবা কোথাও গেছেন। আমি রাতে বিছানায় হিসু করে ফেলি। ঐ বাসার চাচী ভিজা কাঁথা হাতে দিয়ে বললেন, ধুয়ে রোদে দে।
বাসার সামনেই স্রোতা নদী।
কেমন করে ধুয়েছিলাম জানি না। এখনও ঘুমে ঐ নদী আসে, ভয়ে ঘেমে নেয়ে উঠি।
কোন এক সকালে বাবা বললেন, চলো, তোমাকে একজনের সাথে দেখা করাবো। আর এক চাচার বাসায় দেখি একজন মগ মহিলা আমাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছেন। আমিও চিৎকার করে কান্না। আমার ভয় যদি আমাকে ধরে নিয়ে যায়?
তখনও যুদ্ধ থামে নাই।
যাই হোক আস্তে আস্তে বুঝলাম, এই তো আমার মা, গোলগাপ্পা ছেলেটা আমার ভাই।
কথা হলো। এই হুলস্থুল যুদ্ধে আমার মা আমার জন্য, মা-বাবা-ভাই-বোন আর তার দেশ ছেড়ে চলে আসলেন।
মা জানতেন ইজ্জত, জান কোনটার গ্যারান্টি নাই। যেভাবে হোক তার দেবীর কাছে তার পৌঁছাতে হবে। এ যেন ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর।
মা ঠিকভাবে পৌঁছেছিলেন।
এই আমার মাতৃ দিবস।

ছয়

বাবার ছেলে আমি।
একদিন বিকাল চারটার দিকে বললেন, রামু যাও, আহামেদ এর কাছে টাকা পাই, নিয়ে আসো। আহামেদ আমার চাচাতো ভাই।
কক্সবাজার থেকে ১৫ কিলোমিটার বা কম বেশি হবে।
শুনেই মা চেঁচামেচি শুরু করলেন। আধো বাংলা আধো বার্মিজে। তখন আমার বয়স সাত কী আট!
বাবার কথা হলো, আগামী দিনগুলো যেন ও মোকাবেলা করতে পারে, ওকে আমি ঐভাবেই তৈরি করছি।
যাওয়ার বাস ভাড়া দিলেন।
মাগরিবের আজানের সময় উনার দোকানে পৌঁছালাম। বাবার চিঠি দিলাম। উনি স্পষ্ট বলে দিলেন, টাকা এখন দিতে পারবেন না, আমার কক্সবাজার ফেরত যাওয়ার ভাড়াও দিলেন না।
কী আর করা, আমি কক্সবাজারের বাসে উঠলাম। কিছদূর যাওয়ার পর বাসের হেলপার ভাড়া চাইলে বললম, আমার টাকা নাই।

আমাকে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দিলো। চারদিকে এতো অন্ধকার, এখনও মনে পড়লে আ্ঁতকে উঠি। রাস্তার পাশে দেখি এক বাড়িতে চেরাগ এর আলো দেখা যায়।

কিচ্ছু না ভেবে বাড়ির ভিতরে ঢুকে যাই। লম্বা বারান্দায় দশ বারোজন কামলা খেতে বসছে। ওদের খাওয়াচ্ছেন বয়স্ক সাদা দাড়িওয়ালা একজন লোক।
আমি ওনাকে বললাম, কক্সবাজার যাচ্ছি। সব ঘটনা খুলে বললাম। আমার এতো ক্ষিদে লেগেছিলো, লজ্জার মাথা খেয়ে বলেই ফেললাম, আমার অনেক খিদে লেগেছে, আমাকে একটু ভাত দিবেন?
শুটকি দিয়ে সিমের বিচির ঝোল আতপ চালের ভাত। কামলাদের জন্য যা হয়। কিন্তু সেদিনের সেই টলটলা ঝোলের তরকারি এতো মজা ছিলো, আর কোথাও পাইনি।
সেদিন বুঝেছিলাম, ক্ষিদা বড় নির্লজ্জ। খেয়ে আবার হাঁটা শুরু। সেই রাত ছিলো যেন কেয়ামত এর রাত। কত রাতে কক্সবাজার পৌঁছেছিলাম কে জানে!
মা আমার উঠানে বসে বিরামহীনভাবে কেঁদেই যাচ্ছেন। সেদিন আমিও বাবাকে মনে মনে অনেক গালি দিয়েছিলাম।

বাবা সব শুনে বললেন, শোনো মা, তোমাকে না পাঠিয়ে আমি যেতে পারতাম। তোমাকে পাঠিয়েছি, কারণ এই কঠিন পৃথিবীতে তোমার একাই চলতে হবে। এটা তোমার প্রথম পথ চলা। পরে বুঝবে।
আমি তোমাকে অবলা নারী করে রাখতে চাই না। মনে মনে হাজারও গালি দিয়েছিলাম।
আজ বুঝি বাবা আমার কত বড় উপকার করেছেন। ঐদিনের ঐ পরিস্থিতি না হলে জীবনযুদ্ধে কবেই হারিয়ে যেতাম।
আব্বাজান আর কোনদিন গালি দিব না। কৃতজ্ঞ আমাকে শুধু মেয়ে না বানিয়ে যোদ্ধা বানানোর জন্য।

শেয়ার করুন:
  • 117
  •  
  •  
  •  
  •  
    117
    Shares

লেখাটি ১,২৩০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.