এতো দৈন্য কেন নিজেরই ভেতর!

0

রোমানা আক্তার – শুদ্ধবালিকা:

আপনি মেয়ের বিয়ের বেলায় জোর গলায় বলছেন, “উপহার প্রথা কিংবা যৌতুক অন্যায়”, অথচ ছেলের বেলায় শুধু উপহার পেয়েও খুশি নন, সেই উপহারের মান যাচাইয়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের কাজটা নিজ চোখ দিয়েই করে নিচ্ছেন। মেয়ের জামাইকে চেইন, ঘড়ি না দিলেও ছেলেকে কেন চেইন দেয়া হবে না, ঘড়ি দেয়া হবে না, ছেলে কি ভাইসা আসছে? বলে নতুন বউয়ের সামনে কটুক্তি শুরু করলেন।

হ্যালো, খালাম্মা, মেয়ের জামাইটা কি তবে ভেসে এসেছিল?

আপনি আপনার মেয়ের সাথে দিনে পাঁচবেলা কথা না বললে থাকতে পারেন না, অবলীলায় কথা বলে যান। এটা আপনার মেয়ের প্রতি আপনার গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। অথচ আপনার বাড়ির বউ মেয়েটার প্রতি কড়া রুলস জারি করে দিলেন, বাপের বাড়ি সপ্তাহে একদিন কথা হবে। যত বেশি কথা ততোই নাকি কুপরামর্শ। আপনার সুখের সংসার অন্যদের কুপরামর্শে নষ্ট হতে দেবেন না। তা আপনি বুঝি মেয়ের প্রতি দরদের নাম করে কুপরামর্শ দিয়েই বেড়ান?

আপনি আপনার মেয়েকে প্রতিনিয়ত একটি কথাই বুঝিয়ে এলেন, “স্বামী ঠিকতো সব ঠিক। জামাইকে হাতে রাখতে হয়। নিজের বুঝ বুঝে নিতে হয়। আলাদা হলে আরও ভালো।” এমনকি আপনি আপনার মেয়েকে অপরাধমূলক কাজে সাপোর্ট দিয়ে শ্বশুরঘর থেকে রাগ করে বাপের বাড়িতে প্রশ্রয় দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অথচ মেয়ের অপব্যবহারে জিজ্ঞাসার প্রতিত্তোরে বলেন, “ওদেরটা ওরা বুঝে। মেয়েকেতো ফেলতে পারিনা।” এদিকে ছেলের বউয়ের বেলায় একই আচরণে বলছেন, “নোঙ্গর খানা থেকে বউ আনছি নাকি? ছেলেটাকি ভাইসা আসছে যে বাপ মারে দেখতে পারবেনা?” তবে আপনার মেয়েটি কি নোঙ্গর খানার?

আপনার মেয়েকে দিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোক কাজ করায়। মেয়েকে কি বুয়া হিসেবে পাঠাইছি? শাশুড়ি কি করে? হাত পা তুলে শুধু খায়? অথচ নিজের ছেলের বউকে শুধু নিজেদের না, আপনারি পরামর্শে শ্বশুরঘরে অশান্তি বাধিয়ে জামাই নিয়ে আলাদা থাকার চেষ্টায় বাচ্চা নিয়ে বাপের বাড়ি ঘাপটি মেরে থাকা মেয়েদের কাজের দায়িত্ব পর্যন্ত তুলে দিলেন। তবে সেই মেয়েটিকে কি বুয়া হিসেবেই এনেছিলেন? সংসারের কাজ করা যদি বুয়াগিরি হয় তাহলে আপনি কে ওই সংসারে? একজন বুয়া? বুয়াই যদি হন তাহলে এতো দাপট কিসের? কেনইবা এতোকিছুতে নাক গলাচ্ছেন? আপনাকে বের করে দিচ্ছেনা কেন এমন আস্পর্ধা দেখানোর জন্য? আপনি আপনার বাসার বুয়াকে নিজ সংসারে দিবেন এতোটা খবরদারি করতে? দিবেন তাকে আপনার সন্তান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে?

যে গর্হিত কাজগুলো আপনি করে নিজেকে “আদর্শ মা” কিংবা নিজের মেয়েকে “আদর্শ মেয়ে” বলে দাবি করতে পারেন সেই একই কাজ দিয়ে অন্যের মা, অন্যের মেয়ে কি করে ‘খারাপ’ হতে পারে?

আপনারা মা। পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে দুর্বলতার জায়গা আপনারা। আপনাদের বিরুদ্ধে কুমন্তব্যে আপনার সন্তানতো দূর থাক, পৃথিবীর অন্যান্য সন্তানেরাও ভ্রু কুঁচকে তাকায় মন্তব্যকারীর দিকে। আপনারা সেই মা, যাদের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। আপনাদের কথায় অন্ধবিশ্বাস থাকে সন্তানদের। আপনারা যা বলেন সন্তানের ভালোর জন্যই বলেন।

ভালো কিংবা খারাপের কোন পক্ষপাতিত্ব সত্যি কি আছে? তবে কেন নিজের মেয়ে এবং অন্যের মেয়ের বেলায় আপনি আকাশ পাতাল ব্যবধান করেন? আপনি বরং আপনার সেই সন্তানকে শক্তভাবে সাপোর্ট করুন, যেই সন্তান অন্যায় না করেও অপরাধী হচ্ছে। আপনি তাকে কপালে চুমু এটে দিয়ে বলুন, “ভয় পেয়ো না বাছা, আমি তোমার মা, আছি তোমার পাশে।”

আপনি চাইলে আপনার সেই সন্তানকে বেত্রাঘাত করুন, যে প্রতিনিয়ত নিজেকে খারাপ কাজে জড়াচ্ছে। আপনি দৃঢ় গলায় সবাইকে বলে দিন, “ওর অপরাধকে কেউ বাহবা দিও না।” আমরা সন্তানেরা আপনাদের দিক নির্দেশনার অপেক্ষায়। আমাদেরকে আদর্শ সন্তান হতে সাহায্য করুন, আপনি হয়ে উঠুন রত্নগর্ভা। এই পৃথিবীতে আমার মা, তোমার মা বলতে কিছু না থাকুক। মায়েদের পরিচয় হয়ে উঠুক কেবলি ‘মা’। আমরা সন্তানেরা পৃথিবীর সব মায়েদের কাছে যেনো নিরাপদ বোধ করি।

শেয়ার করুন:
  • 134
  •  
  •  
  •  
  •  
    134
    Shares

লেখাটি ৭২২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.