এরা কেমন বন্ধু ছিল নুসরাতের!

0

আনন্দ কুটুম:

নুসরাতের হত্যাকারীরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। পড়তে পড়তে গলা ঘরে এলো। এই প্রথম নুসরাতের জন্য আমি কাঁদলাম। কল্পনা করার চেষ্টা করলাম মৃত্যুর সময় নুসরাতের কত বেশি কষ্ট হয়েছিলো। কল্পনা করার চেষ্টা করলাম, আমারই বন্ধুরা আমার হাতপা বেধে, গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।

কী বীভৎস যন্ত্রণা!! এই যন্ত্রণা যতোটা না শরীরের তার থেকে অধিক মনের, বন্ধুদের বিশ্বাসঘাতকতার। বন্ধুরা সত্যিই কি বন্ধুকে হত্যা করতে পারে? তাও এমন বীভৎস তরিকায়? এতো বড় বিশ্বাস ঘাতক কী করে হয় বন্ধুরা?

নুসরাতকে যদি কলেজের প্রিন্সিপাল নিজ হাতে হত্যা করতো, তাহলে হয়তো মনকে বোঝাতে পারতাম যে, একজন বিকারগস্ত বৃদ্ধ বাতিল মানুষরুপী অমানুষ একটি নিষ্পাপ প্রাণ হত্যা করেছে। কিন্তু যারা তাকে হত্যা করেছে, তারা সবাই নুসরাতেরই বন্ধু, সহপাঠী!! যাদের প্রত্যেকের বয়স ২০-২২ এর বেশি নয়।

প্রশ্ন জাগে মনে, কেমন সমাজ আমরা বিনির্মাণ করছি?? একদল তরুণ তাজা প্রাণ আরেকটি তাজা প্রাণের গায়ে আগুন দিয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছে। এতো অমানবিক কী করে হয় আমাদের প্রজন্ম?? কাদের জন্য, কাদের ভরসায় আমরা স্বপ্ন দেখবো? কাদের নিয়ে দেশ এগোবে? কাদের উপর ভরসা করে আগামীর জন্ম হবে? যেখানে একজন তরুণ আরেকজন তরুণের জন্য নিরাপদ নয়!

বড় আফসোস!! আমাদের পরিবার, আমাদের সমাজ, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আমাদের রাষ্ট্র আমাদের অহিংস শিক্ষা দেয় না। আমাদের ধর্মীয় শিক্ষার একটা বড় জায়গা জুড়েই আছে অপরকে ঘৃণা করো, অপরকে দমন করো, অপরকে আটকাও এর দর্শন। রাজনৈতিক স্লোগান হয় জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো, ওমুকের চামড়া তুলে নেবো আমরা, একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর টাইপ সহিংস বাক্য দিয়ে। আজকাল তো সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান হলো “ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই”। কারো সাথে আমার মতের মিল হোক বা না হোক, কেউ অপরাধী প্রমাণ হোক বা না হোক, কিছু হলেই এখন ফাঁসি চাই।

আমাদের লেখায়, কর্মে, আচরণে, ভাবনায়, চিন্তায়, দর্শনে আমরা এতো বেশি সহিংস, তারই তো রিফ্লেকশন নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা, অভিজিৎকে জবাই করা বা আবরারকে গাড়িচাপায় পিষে মারা। আমরা কেমন সমাজ গড়ে তুলেছি? ৩০ লক্ষ শহীদ, হাজার বছরের ইতিহাস, শান্তির ধর্ম, এইসব গালভরা কথায় কী এমন লাভ হয় বা হচ্ছে??

মানুষ হিসেবে তো আমরা দিনকে দিন আরো জংলী, আরও হিংস্র, আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছি। যত দিন যাচ্ছে কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর ছানা হয়ে উঠছে সভ্য, সৌম্য, আর বাঙ্গালী হচ্ছে অমানুষ। এর দায় আমাদের ধর্মের, রাষ্ট্রের, শিক্ষা ব্যবস্থার, রাজনীতির, এমনকি প্রত্যেকটা পরিবারের।

নিজের দেশের কথা ভেবে নিজেরই ঘৃণা হয়।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 66
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    66
    Shares

লেখাটি ৬১৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.