আরেক সাহসী কন্যা চরফ্যাসনের সুরমা

ফেরদৌস আরা রুমী:

চরফ্যাসনের সুরমা (১৫) এক সাহসী কন্যার নাম। একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী এখন। প্রতিনিয়ত লড়ে যাচ্ছে বাল্যবিবাহের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।

তার যুদ্ধটা যখন শুরু হয় তখন সবে দশম শ্রেণীতে উঠেছে। তখন তার দাদা বাড়ির লোকজন জোর করে তার বিয়ে ঠিক করে। তার বাবা-মা বিনা বাক্যে সুরমার বিয়ে দেয়াতে রাজি হয়ে যায়। অথচ সুরমার মা-ই ছিল সবসময় তার পড়াশোনার চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। অন্যদিকে সুরমাও ছোটবেলা থেকে তার মায়ের প্রতি দাদার বাড়ির মানুষের খারাপ ব্যবহার দেখতে দেখতে প্রতিজ্ঞা করেছিল লেখাপড়া করে মায়ের জীবনের শান্তি এনে দেবে। সেই মাকেও ভুল বুঝিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেয়াতে রাজি করায়।

সুরমা বিয়ের খবর নিশ্চিত জানার পর লুকিয়ে তার বান্ধবীর বাসায় গিয়ে চাইল্ড হেলপ লাইন ১০৯৮ এ ফোন দেয়। এরপর স্থানীয় প্রশাসনসহ সমন্বিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্রকল্পের মাধ্যমে তার বাবা-মাকে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক বুঝানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তারা বিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হলেও বন্ধ হয়ে যায় সুরমার পড়াশোনার খরচ। কিন্তু পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার বেতন -কোচিং ফি ইত্যাদি ফ্রি করে দেন। অন্যান্য খরচ সুরমা টিউশনি করে উঠিয়ে নেয়। বাল্যবিবাহ ঠেকানোর কারণে তার বাবা নয় মাস তার সাথে কথা বলে না। এখনো বন্ধ রাখেন তার পড়াশোনার খরচ। কোন খোঁজ-খবর নেন না তিনি এক বাসায় বসবাস করলেও। এমননি করে এখনও চলছে তার পড়াশোনা।

বছর খানেক আগে সে যুক্ত হয় রেডিও মেঘনার সাথে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে খণ্ডকালিন চাকরি চালিয়ে যাচ্ছে এখানে। যতই প্রতিকুলতা আসুক পড়াশোনা শেষ করার বিষয়ে সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যদিও তার মাঝে মাঝে খারাপ লাগে তার বাবা তার কোন খোঁজই নেন না।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.