দয়া করে মিতা হককে অশালীন আক্রমণ বন্ধ করুন!

Mita Haqঅদিতি ফাল্গুনী:

একাত্তর টিভিতে রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মিতা হকের বক্তব্য আমি দেখিনি বা শুনিনি। কিন্ত মিতা আপার মত রুচিশীল একজন শিল্পী খারাপ কথা বললেও কতটা খারাপ বলতে পারেন সে আন্দাজ আমার আছে। ফেসবুকে তাঁর যে বক্তব্য উদ্ধৃত করা হচ্ছে, সেটা ত’ খুব ভুল কিছুও বলেননি।

আমি নিজেও একাধিক হাসপাতালে বা ক্লিনিকে কাজে-কর্মে গিয়ে দেখেছি নিরানব্বই ভাগ মহিলা ‘হিজাবি।’ এই হিজাব কি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি? এটা মরুভূমির পোশাক। আজ থেকে দশ বা পাঁচ বছর আগেও বাংলাদেশে এত বোরখা আর এত হিজাব ছিল না। মরুভূমির তপ্ত গরম আর লু হাওয়ায় চুল থেকে নখ পর্যন্ত ঢাকা দীর্ঘ আলখাল্লা আর মুখ ঘেরা আচ্ছাদন আরবের পুরুষেরাও পরে। বাংলার মুসলিম পুরুষ কি সেই পোশাক পরছে? ধর্মের কথা বলে শুধু নারীকেই এই পোশাক পরানো হচ্ছে জোর করে, অনিচ্ছায়। আবার শপিং মলগুলোতে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় বোরখা পরা একাধিক মেয়েকে দেখেছি দু’জন পুরুষের মাঝখানে বসে দু’জনের সাথেই অদ্ভুত সব কাণ্ড করতে যা সাধারণ পোশাকের কোন মেয়ে করবে না।

আপনি-আমি সবাই জানি, ঢাকা শহরের অনেক ভ্রাম্যমান পতিতাও নিজেদের পেশা আড়াল করতে বা পুলিশের ঝামেলা এড়াতে বোরখা পরে (এই রে, এই কথা বলার সাথে সাথে না আমার উপর শুরু হয় অশ্লীল আক্রমণ!)। বাংলাদেশের নারীর পোশাকের প্রথম বড় পরিবর্তন চোখে পড়ে ১৯৯৬-এ রাজশাহী বেড়াতে যাবার সময়। বাস বা রেল স্টেশনের দরিদ্রতম নারীটির ছেঁড়া-ময়লা শাড়ির উপর ততোধিক ময়লা একটি ওড়না বা চাদর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া স্টাইলে জড়ানো। পার্থক্য হচ্ছে, ম্যাডাম বহুমূল্য জর্জেট বা শিফনের শাড়ির উপর ততোধিক সুক্ষ্ম ও স্বচ্ছ চাদর বা ওড়না জড়ান। এই গরীব মহিলারা প্রধানমন্ত্রীর অনুকরণে ময়লার উপর হদ্দ ময়লা চাদর বা ওড়না জড়ান।

বাংলাদেশে গত কিছু বছর ধরে সমাজে কিভাবে যে পেট্রোডলারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাঙালী নারীর হাজার বছরের ‘ড্রেস কোড’ পর্যন্ত বদলে দেওয়া হচ্ছে তা’ বলার নয়। গ্রামে এখন এক টাকায় সৌদি বোরখা বিলি করা হয়। বাঙালীকে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার পোশাক থেকে খাদ্যাভ্যাস অবধি। এককালের মাছাহারী বাঙালী এখন ‘বিফ’ পেলে অন্য কিছু খায় না। একটি বাঙালী হিন্দু ও বাঙালী মুসলিম পরিবারের খাদ্য তালিকা খেয়াল করলেই এটা দেখা যায়। একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত বাঙালী হিন্দু পরিবারেও প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় নিদেনপক্ষে দু/এক রকম ভাজি (শাক বা সব্জি), ডাল, মাছ, টক বা চাটনী, দুধ বা ফল থাকে। পাশাপাশি খুব বিত্তশালী মুসলিম বান্ধবীদের বাসাতেও দেখেছি মাংসই অনেকসময় বলতে গেলে একমাত্র আহার্য যা স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভাল নয় (তাই বলে সবার ক্ষেত্রেই অবশ্য তা’ নয়)।

খাদ্যাভ্যাস ত’ অনেকটাই গেছে। এখন ড্রেস কোডও পুরোটাই আরব-আফগানিস্তান হওয়ার পথে। মিতা হক সেটার বিরোধিতা করতে গিয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীতকে ইবাদত বলার পর সুফিয়া কামাল যেমন তোপে পড়েছিলেন, তেমনি তোপে পড়েছেন। আর ধরা যাক মিতা হকও তাঁর কাকু ওয়াহিদুল হকের মতোই ষাটের দশকের বাঙালী মুসলিমের রেনেসাঁ বা আত্ম-জাগৃতির ধারার নিবু নিবু প্রদীপের একজন হয়ে যদি চারপাশের হেফাজতিকরণের বিরুদ্ধে একটু উষ্মা প্রকাশ করেও ফেলেন, তাকে কি অমন বিশ্রী ভাষায় গালি দিতে হবে? কি হয়েছে আমাদের? সহনশীলতার এত অভাব কেন? একটি বক্তব্যের জন্য একজন সঙ্গীত শিল্পীর সারা জীবনের সাধনা-সুকৃতি-অর্জন সব ম্লান? কি রকবাজ একটা প্রজন্ম আমাদের যা গালি দেওয়াকেই পৃথিবীর সেরা বিপ্লব ও শ্রেষ্ঠ নন্দন মনে করে!

আর একটা ব্যাপার সন্দেহ হচ্ছে: ‘হিন্দু’ নামধারী কিছু আইডি থেকেও ফেসবুকে মিতা আপাকে এমন সব গালি দেওয়া হচ্ছে যে আমার সন্দেহ জামাত-শিবিরের কর্মীরা বিভ্রান্তি ছড়াতেই হিন্দু নাম নিয়ে এসব গালি দিচ্ছে। আর তারা ঢুকে পড়ছে আমাদের বন্ধু তালিকাতেও।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

One wrong cannot be justified right cause it has been
continued for since a long long period of time. Otherwise, sharat chandro would
not write about and make a campaign against burning wife along with her husband
once her husband is dead in Hinduism. Islam cannot be modified according to the
culture and location. If you want to learn Islam, go and learn Islam. Don’t
learn from Muslim. It is not granted everything is correct what a Muslims are
doing. Do not give pessimistic example. In the name of Islam what Jamat Shibir
and bloody hefajote Islam is doing it is also totally wrong and cannot be
supported that’s what Mita haq is trying to say and she is absolutely right. Nobody
is stupid here, what Aditi is trying to establish here that’s very clear. If
you (Aditi) don’t follow Islam and our moderate Bengali culture which consist
of covering up your body with decent sharee and ghumta in addition to that
Hijab that’s up to you, but don’t try to tell a story of LEJ KATA SHIAL.

Ingreji font e likhchi, ebong Hindu hoye “onodhikar chorcha” korchi, maaf korben.
poshak-ashak er songe arekti bishoy amar mone hoy, ta holo naam. Musalman bhaibon der naam Arbi tei hote hobe? Khristan der nam Hebrew tei? Dharmo-bhittik namkaron na hoye, sthaniyo bhasa-bhittik hok. London e Hindur nam Benjamin hok, Kolkatar musalmaner naam Abdul Majid na hoye Prabhudas hole khoti ki? Bhabna ta mathay elo karon amar porichito ekjoner naam Leilah, take jigges korechilam tar namer maane. Se beshi lekhapora jane na, naamer maneo tar jana nei. Pore khuje dekhlam kothatar mane ratri. Arbi bhasar proti amar kono bidwesh nei barong akorshon ache, kintu Bangali musolmaner nam Ratri na hoye Leilah hoyatao ami ekprokar dharom-bhasiyo (religio-linguistic) onuprobesh (ba agrason) bole mone kori.

Eta amar nichhok byaktigato bhabna. E bishoye apnader motamot jante parle samriddhi o santosh labh korbo.

আমি নিজেও একাধিক হাসপাতালে বা ক্লিনিকে কাজে-কর্মে গিয়ে দেখেছি নিরানব্বই ভাগ মহিলা ‘হিজাবি।’ এই হিজাব কি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি? এটা মরুভূমির পোশাক। আজ থেকে দশ বা পাঁচ বছর আগেও বাংলাদেশে এত বোরখা আর এত হিজাব ছিল না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.