“নানা পদীয় ‘পতি’দেরও জীবন্ত পোড়ানো হোক”

0

মীনাক্ষী রশীদ:

ওহে! পুরুষ…পর্দা তো নারীর নয়, পুরুষের করা উচিত। এতোসব নিকৃষ্ট কাজের দায়ে পুরুষ সমাজে মুখ দেখিয়ে চলে কীভাবে? ছিঃ!

একের পর এক উদাহরণ সৃষ্টি করে চলছে তো চলছেই। উদাহরণ সৃষ্টিকারী এই পুরুষদের জন্ম কোন না কোন নারীর গর্ভেই তো হয়েছে, তাই না? নাকি এদেরকে অন্য কোনো জীবজন্তুর পেটে দিতে যেয়ে ভুলে মানুষের পেটে দিয়েছে?

নারী কোন ভাষায়, কোন পোষাকে, কোন ভঙ্গিতে পুরুষের পশুত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, সেটাও তারা নির্বাচন এবং নির্ধারণ করে দিবে? বাহ্! “গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না” কেন গেঞ্জি পরে বলা হলো, এটা খুব গুরুতর অন্যায় হয়ে গেছে। ধর্মের বিচারে বড় পাপ হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের জাত ভাইয়েরা যে কন্যা শিশুকে ব্লেড দিয়ে কেটে ধর্ষণ করছে, হিজাব পরা তনুকে ভাল্লুকের মতো খুবলে খেয়েছে, রাক্ষসের মতো বাসের মধ্যে ধর্ষণ শেষে ঘাড় মটকে রূপাকে বনের মধ্যে ফেলে রেখেছে, মাকে সন্তানের সামনে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছে… তখন তাদের শালীনতা কোথায় ছিল?

ধর্মের বড় বড় বাণী ছাড়ার মতো একজনকেও তো দেখা যায় না এসব ক্ষেত্রে। প্রত্যেকটা ধর্ষণের ঘটনায় কি অনেক শালীনতা আর ধর্ম মেনে করা হয়েছে? তখন এইসব ফেইসবুকীয় নবীগণ কোথায় থাকে? নাকি শালীনতা আর ধর্ম পালন শুধু নারীর পোষাকেই?

ফেইসবুকীয় নবীদের কাজ হলো সাকিবের বৌয়ের পর্দা দেখে বেড়ানো, মিরাজের বৌয়ের বয়স গণনা করে বেড়ানো, তাসকিনের বৌয়ের বাচ্চা হবার তারিখের ঠিক হিসাব করে বেড়ানো, আর যারা দেশ সমাজ নিয়ে চিন্তা করে, কাজ করে তাদেরকে নাস্তিক উপাধি দেওয়াসহ আরও অনেক বড় বড় কাজে এরা সর্বদা নিয়োজিত থাকা।

যে নারী নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলে, সে হয় বেশ্যা। যে নারী সাংবাদিক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কোন পুরুষকে ছাড়িয়ে যায়, সে বেশ্যা। যে নারী কর্পোরেট জগতে প্রতিনিধিত্ব করে, সে বেশ্যা। নারী ক্রিকেটার, নারী ডাক্তার, নারী শিক্ষিকা, নারী উদ্যেক্তা, নারী…নারী…নারী…সন্ধ্যার পরে ঘরে ফেরা সব নারী বেশ্যা।

আর পুরুষ? তারা পৃথিবীর মালিক মনে করতে করতে সমগ্র নারীর মালিক মনে করে নিজেদেরকে। নারীর পোশাক, নারীর শিক্ষা, নারীর স্বাধীনতা, নারীর কর্মক্ষেত্র, নারীর নাম, নারীর ঘর, নারীর ইচ্ছা সবকিছুরই নীতিনির্ধারক কোন না কোন পুরুষ। তাই পুরুষ কখনো রাস্তায়, কখনো বা শিক্ষালয়, কখনো কর্মক্ষেত্রে, কখনো ঘরে, কোন না কোনভাবে নারীকে যৌন হেনস্থা করবেই।

আর এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নতুন করে পয়দা হয়েছে কতগুলো নিকৃষ্ট মানের ধর্মপতি, তারা নিজেরা তো দাঁড়ি, পোশাক, শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, কোনওটাতেই ইসলাম অনুসরণ করে না, বরং নিজেদের সুবিধামতো ধর্মকে ব্যবহার করে হেন কোন অন্যায় বা পাপ নেই যে তারা করে না। চোখ, মুখ, হাত, পা, সবকিছু দিয়েই এরা নারীকে যৌন হেনস্থা করতে পারে। এদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরোটাই পুরুষাঙ্গ।

একজন মেয়েকে তার নিজেকে রক্ষার জন্য প্রতিবাদ করার ফলস্বরূপ যদি জীবন্ত পুড়িয়ে মারা যায়, তাহলে এইসব কথিত ধর্মপতি, মাদ্রাসাপতি, সমাজপতি, সর্বোপরি ফেইসবুকীয় পতিদেরকে কেন জীবন্ত পোড়ানো যাবে না?

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 64
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    64
    Shares

লেখাটি ৩৩৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.