ফাও খাওয়ার চেষ্টা করবেন না!

0

আকতার বানু আলপনা:

যেকোনো মেয়ে তার প্রেমিক বা স্বামীকে বিয়ের আগে বা পরে তার শরীর ছুঁতে দেবে কি দেবে না, সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু তাই বলে বাসে বা ট্রেনে উঠলে সে সব পুরুষের সরকারি সম্পত্তি হয়ে যায় না যে, যে কেউ তার গা ঘেঁষে দাঁড়াবে! যে কেউ ভীড়ের সুযোগে তার শরীরের লোভনীয় জায়গাগুলো স্পর্শ করবে! যৌনকর্মি যে কিনা টাকার বিনিময়ে পুরুষের কাছে যায়, তারও ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে। সে কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক করবে কী করবে না, সেটা তার ইচ্ছা। এখানেও জোর করার কোন সুযোগ নেই।
“গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না” – এই আন্দোলনটি মেয়েদের সেই ইচ্ছার স্বাধীনতার স্পষ্ট প্রকাশ। বিকৃত রুচির সুযোগসন্ধানী হারামী পুরুষগুলোকে একটি ভদ্র ও নমনীয় বার্তা বা নিষেধাজ্ঞা প্রদান – “দূরত্ব বজায় রাখুন। অনেক খেয়েছেন। আর ফাও খাওয়ার চেষ্টা করবেন না।”

আকতার বানু আলপনা

কিছু কিছু অতি হারামী পুরুষ এই আন্দোলনকে পছন্দ করতে পারছে না। কারণ মেয়েরা এভাবে সচেতন ও প্রতিবাদী হলে তাদের ফাও খাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা মেয়েদের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করছে। কেউ কেউ আবার আরো দুকাঠি উপরে উঠে পার্কে বয়ফ্রেন্ডের সাথে মেয়েদের অন্তরঙ্গ ছবি প্রচার করে উল্টাপাল্টা পোস্ট দিচ্ছে। ভাবখানা এমন – “বয়ফ্রেন্ডকে ছুঁতে দিচ্ছ, তাতে কোন সমস্যা নেই। শুধু অন্য কেউ ছুঁলেই দোষ?”

জ্বী, দোষ। মেয়েরা মাল নয়। তারা মানুষ। তারা চাইলে যা খুশি করতে পারে। আবার নাও পারে। বিয়ের আগে মেলামেশা করা আপনার কাছে পাপ মনে হলে আপনি তা থেকে দূরে থাকুন। কিন্তু অন্যের ব্যাপারে মতামত দেবার আপনি কে? আর মেয়েরা বিয়ের আগে মেলামেশা করলে তাকে গালি দেন। কিন্তু যে ছেলেগুলোর সাথে মেলামেশা করছে, তাদেরকে কিছু বলেন না কেন? মেয়েদের দুর্বল ভাবেন বলে? তারা প্রতিবাদ করে না বলে?

মেয়েরা শুনুন। আপনারা প্রতিবাদ করুন। কোনভাবেই আপনার শরীরে কোন হারামীর ইচ্ছাকৃত অনাকাঙ্খিত কোন স্পর্শ মেনে নেবেন না। সবসময় আপনার সাথে সেপ্টিপিন, ছোট চাকু, নেইল কাটার বা ধারালো কিছু রাখুন। আগে খেয়াল করুন। তারপর সুযোগ বুঝে আঘাত করুন যথাস্থানে। সজোরে। একটুও ভয় পাবেন না। সাহস করে প্রতিবাদ করুন। হারামীরা ঠিক সাইজ হয়ে যাবে। কারণ এরা ভীতু। আপনি রুখে দাঁড়ালেই নেড়ি কুত্তার মতো সুড়সুড় করে পালাবে। পারলে তাদের ছবি তুলুন, ভিডিও করুন। প্রচার করুন। তার পরিচিতিরা তার কুকর্ম সম্পর্কে জানুক।

ইসরাত জাহান নামের মেয়েটির লেখা থেকে আবার স্পষ্ট হয়েছে যে, বোরখা পরলেও ঐসব লম্পট হারামীদের নোংরা হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। অর্থাৎ নারীর পোশাকের কারণে নারী নির্যাতিত হয় না। সে নির্যাতিত হয় কিছু হারামীর হারামীপনার কারণে। তারা মনে করে, সুযোগ পেলে যেকোনো মেয়েকে ভোগ করার লাইসেন্স তাদের আছে। তবে মেয়েদের নির্যাতিত হবার সবচেয়ে বড় কারণ হলো – মেয়েদের প্রতিবাদ না করা। একটু সাহস করলেই খুব সহজে হারামীগুলোকে শায়েস্তা করতে পারবেন।

সব ছেলে খারাপ না। আপনারা প্রতিবাদ করলে দেখবেন, অনেক প্রকৃত পুরুষরা আপনাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। কিন্তু শুরুটা করতে হবে আপনাকেই।

শেয়ার করুন:

লেখাটি ৯৯৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.