নারীবাদ ও নারীবাদীদের খারিজ করার আপনি কে!

0

ইমতিয়াজ মাহমুদ:

(১)
নারীবাদ বা ফেমিনিজম এখনো আমাদের এখানে একধরনের ‘শরমের ব্যাপার’- অনেকেই নিজের নামের শেষে এই ‘এফ ওয়ার্ড’টা যোগ করতে চায় না। মার্ক্সবাদী বলেন ঠিক আছে, হিউমানিস্ট বা মানবতাবাদী তো খুবই পছন্দের ইয়ে, পরিবেশবাদী এইবাদী সেইবাদী এমনকি এনারকিস্ট বা নৈরাজ্যবাদীতেও আপত্তি নাই। কিন্তু নারীবাদী বা ফেমিনিস্ট তকমা লাগাতে আমাদের ‘ভদ্রমহিলারা’ বেশিরভাগই খুব একটা আরাম পান না। আর পুরুষরা? পুরুষদের মন বোঝা ভার। এদের কাছে টেররিস্ট আর ফেমিনিস্ট এর মধ্যে কোনটা যে বেশী ভীতিকর বা নিন্দনীয় সেটা বুঝা কঠিন। টেররিস্টদেরকে অবশ্য পুরুষরা অতোটা গালি দেয় না, ফেমিনিস্টদেরকে যতটা দেয়।

পুরুষরা যে নারীবাদীদের পছন্দ করবে না সে তো স্বাভাবিক। পুরুষতন্ত্রে তো নারীর অবস্থান নির্ধারিত। দুঃখিনী মা বা আদরের বোন বা প্রেমময়ী স্ত্রী বা সোহাগী কন্যা- আর এই ফর্মুলার বাইরে যারা ওরা হচ্ছে নষ্টা। আপনি লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন এইসব ভূমিকার বাইরে আমরা নারীকে পছন্দ করি না। আমাকে আপনারা উদাহরণ দিবেন, এই যে নারীরা মন্ত্রী হয়, স্পিকার হয়, কর্নেল হয়, সিইও হয়, পর্বতে ওঠে কতো কী! হ্যাঁ, আমি এইসব উদাহরণ সম্পর্কে ওয়াকেবহাল আছি। এইগুলি উদাহরণ নারীদের অগ্রসরতার প্রতীক তো বটেই, কিন্তু এইসব উদাহরণ দিয়ে আসলে পুরুষতন্ত্রের অবসান হয়েছে সেটা তো বলা যায়ই না- আমাদের মনে বা চিন্তায় বা প্রথাতে নারীর অবস্থানের যে খুব একটা উন্নতি হয়ে সেকথাও বলা যায়না।

এই যেখানে নারীর অবস্থান, সেখানে একজন নারী যদি বলে যে নারীও পুরুষের সমানই মানুষ বা নারীই তার শরীরের মালিক বা এইরকম কোন কথাবার্তা তাইলে তাকে যে পুরুষরা গালি দিবে বা নষ্টা বলবে বা মন্দ কথা বলবে তাতে তো অবাক হওয়ার কিছু নাই। আর শুধু পুরুষরা কেন? নারী পুরুষ রাজনিতিত বর্তমান সমীকরণটাকে যারা ঠিক মনে করেন সেরকম নারীরাও তো আপনাকে গালি দিবে। আর এইরকম নারীদেরও সংখ্যাই তো বেশী- যারা বর্তমান সামাজিক কাঠামো ধরে রাখতে চায়, স্ট্যাটাস কো বজায় রাখতে চায়।

এখন কিছু আবার মডারেট বেরিয়েছেন, এরা মুখে নারীবাদের বিরোধিতা করবে না বটে, কিন্তু নানা ভাবে প্যাঁচ মেরে বলতে সানুনাসিক উচ্চারণে বলতে থাকবেন যে, না এইটা নারীবাদ না ঐটা নারীবাদ না বা নারীবাদী হলে কী এটা করতে হবে বা ঐটা করতে হবে ইত্যাদি।

(২)
দেখেন, নারীবাদ ব্যাপারটা খুব কঠিন কিছু না, জটিল তো নয়ই। নারীবাদ হচ্ছে একটা মতবাদ (অথবা নীতি বা আদর্শ বা এরকম যে নামই দেন) যার মূল কথা হচ্ছে, নারী ও পুরুষ সমান এবং ওদের অধিকারও সমান। এটা হচ্ছে অধিকারের প্রশ্ন, কল্যাণের প্রশ্ন নয়। এই কথাটা ঠিকঠাক মনে রাখবেন- অধিকার ও কল্যাণ। নারী ও পুরুষ সমান এবং ওদের অধিকারও সমান এইটাই যদি মূূল কথা হবে তাইলে নারীবাদীদের মধ্যে এতরকম ভাগ বিভক্তি গ্রুপ এইসব কেন?

এই যে একেকরকমের নারীবাদীদের গ্রুপ সেসব হচ্ছে লক্ষ্য অর্জনের পথ, তার ধরন ও সংগ্রামের কায়দা এইসব নিয়ে নানাপ্রকার চিন্তার ভিন্নতা। যেমন যারা মনে করেন যে পৃথিবীতে একদিন সাম্যবাদী সমাজে প্রতিষ্ঠা হবে এবং সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে পর্যন্ত সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে ওদের হিসাবে সমাজতন্ত্র হলে এবং চূড়ান্তভাবে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা হলে নারী পুরুষের বৈষম্য থাকবে না। সকলেই কিন্তু এইটা ঠিক মনে করেন না। নারীবাদীদের অনেকেই মনে করেন যে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে সমাজতন্ত্র সেরকম জরুরী কিছু না। আবার একজনের লেখা পড়েছিলাম যিনি একটা নারীবাদী রাষ্ট্র ও নারীবাদী লিগ্যাল সিস্টেমের কথা বলেছেন। এই লেখকের নামটা মনে করতে পারছি না।

এই যে একেকরকমের চিন্তা, এদের সকলের মুল কথাটায় কিন্তু কারো মতপার্থক্য নেই- নারী ও পুরুষ দুইই মানুষ, কেউ কম নয় বা কেউই বেশী মানুষ নয় সুতরাং ওদের অধিকারও সমানই।

এই যে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে লোকজন, দেখবেন যে কিছু লোক এদেরকে মাঝে মাঝেই খোঁচাতে আসবে। বলবে যে ‘ও তো নারীবাদী নয়’ ‘ঐ কাজটা তো নারীবাদ নয়’ ইত্যাদি। এইসবে কিছু আসে যায় না। কেননা নারীবাদী হিসাবে আপনার লেবেলটা বা তকমাটা জরুরী না, আপনি যে কাজটা করছেন সেটা জরুরী। যিনি লিখছেন তার লেখাটা জরুরী। যিনি হাতে মাঠে ঘাটে নারীদের শতাব্দিপ্রাচীন মৌনতা ভাঙার চেষ্টা করছেন তার সেই কাজটা জরুরী। যিনি সিনেমা বানিয়ে বা ছবি একে বা গান লিখে বা গান গেয়ে বা যেভাবেই হোক কথাটা বলছেন- যে নারীও মানুষ এবং পুর্নাঙ্গ মানুষ- ওদের কাজটাই জরুরী।

আর যারা ফেসবুকে কে নারীবাদী আর কী নারীবাদী এইসব নিয়ে বসেছেন বা বিজ্ঞের মত ‘তসলিমা নাসরিন কি নারীবাদী’ এইরকম পোস্ট দিয়ে মনে মনে ভাবছেন যে ‘যাহ্‌, দিলাম একটা’- এদের মতলব নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা নয় বা তার জন্যে লড়াই করা নয়। লিখে রাখুন।

(৩)
এবং আপনি যখনই নারীর অধিকারের কথা বলবেন, প্রচলিত প্রথা প্রতিষ্ঠানের ভিভিন্ন জায়গায় সেটা আঘাত করবেই। ছোটখাটো চুলকানি না, না মৃদু ড্র চাপড় না- নারী অধিকারের পক্ষে প্রতিটা বাক্য পুরুষতন্ত্রের পায়ের ফাঁকে ঝুলে থাকা বটুয়ায় যে গোল্লা থাকে সেইসব গোল্লায় একেকটা পদাঘাতের মত গিয়ে লাগে। আর এইরকম পদাঘাতের। আর এইরকম আঘাতের যে প্রতিক্রিয়া সেইটা কিরকম হবে? আপনাকে গালি দিবে, চিৎকার করবে, চেঁচাতে থাকবে, প্রলাপ বকতে থাকবে। আপনার আঘাত যত তীব্র হবে ওদের এইসব আচরণও ততো বেশী হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হবে।

উদাহরণ দিই।

আপনি যদি বলেন যে নারীরই শরীরের মালিক নারী নিজেই- পুরুষ নয়। এই কথাটি বলার সাথে সাথে গালির ছররা শুরু হবে। কথাটার মধ্যে তো আপাতদৃষ্টিতে কোন বড় রকমের ইয়ে নাই। একজন মানুষের শরীরের মালিক সে নিজে হবে না তো কে হবে? একজন নারী যদি বলে যে আমার শরীর আমার, আমার চোখ আমার আমার হাত পা বুক পেট জরায়ু জননেন্দ্রিয় সব কিছুই আমার নিজের- তাইলে সংখ্যাগুরু পুরুষরা সেই নারীটিকে ঐসব গালি দিতে থাকবে। সাথে তাদের দাসী নারীরা যারা আছেন, পুরুষবাদী নারী, ওরাও। কেন? কারণ আঘাতটা ওদের ঐখানে গিয়ে লাগে। এটাতে আঘাতের কি আছে? আছে। কারণ আমরা তো মনে করি যে নারীরই মালিক পুরুষ। তাইলে সে কি করে তার অঙ্গের মালিক হবে?

আজ থেকে বছর পঁচিশ কী আরও আগে একবার কী প্রসঙ্গে যেন জরায়ুর স্বাধীনতা কথাটা এসেছিল আমাদের খবর কাগজ ম্যাগাজিন ও বইপত্রে। আমাদের পিতৃপুরুষ ধরনের লোকজন তো সকলেই রেগে গেলেন, কী সর্বনাশা কথা! জরায়ুর স্বাধীনতা আবার কী? আমি তো বেকুব ধরনের মানুষ, আইনের ছাত্র ছিলাম তখন, আমি তো বুঝে উঠতে পারছিলাম না এটাতে এতো গোসসার কী আছে! আমার শরীরের একটা অংশ আমি বলছি, এটার ব্যাপারে যা কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেটা আমিই নিব, নারী হই বা পুরুষ হই এটাই তো স্বাভাবিক। এটাতে এতো ইয়ের কি আছে!

(৩)
না, আমাকে লোকজন জ্ঞান দিতে থাকলো, এইসব কথাবার্তা ভালো না, নারী কেন যা ইচ্ছা তাই করবে যা ইচ্ছা তাই বলবে। কোন ভদ্রঘরের মেয়ে কেন এইসব বলবে। নিতান্ত ঐ পেশার নারী না হলে কেউ জরায়ুর স্বাধীনতা চায়? ইত্যাদি। আমি এইসব জ্ঞানের কথা বুঝতে পারি না। জিজ্ঞাসা করি জরায়ুর স্বাধীনতার সাথে দেহব্যাবসার কি সম্পর্ক? ধরেন একটি নারী গর্ভধারণ করবে কি করবে না এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার অধিকার কি নারীটির নেই? বা ধরেন আপনার সাথে শোবে কি শোবে না এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার হোক কি নারীটির নেই? অথবা ধরেন আপনার স্ত্রীর কথাই, আজ রাতে তিনি আপনার সাথে মিলিত হবেন কি হবেন না সেই সিদ্ধান্তটা কি তিনি নিতে পারবেন না? অথবা ধরেন একজন নারী স্বমেহন করবেন কি করবেন না এটার সিদ্ধান্তও কি তিনি নিতে পারবেন না?

দেখবেন সকলে তখন আপনাকে বলবে যে না, এইসব কি অশ্লীল কথাবার্তা, একজন মেয়ে যারতার সাথে ইয়ে কর বেড়াবে? ও ভাই, সেই কথা আসছে কেন? এখানে তো নারীরা উল্টাটা বলছেন- যে কেউ চাইলেই আমার শরীর নিয়ে ফাতরামি করবে কেন? আমি তো কেবল আমার পছন্দমতো আমার ইচ্ছা মত মিলিত হতে চাই। এইখানে যার তার সাথে শোয়ার কথা বা ঐসব গালাগালির কথা হচ্ছে কেন? আসলে একজন নারী যে নিজের বিষয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নিবে স্বাধীনভাবে এই ধারনাটাই পুরুষ মস্তিষ্কে ঢুকে না। কেন? কারণ নারী যে মানুষ, সেইটাই তো আমরা মানি না। আমরা মনে করি যে নারী হচ্ছে গরু ছাগলের চেয়ে উন্নত একটি প্রাণী যাকে পুরুষের মালিকানায় থাকতে হবে। আর যে নারীর মালিক নাই সে হয়ে গেল ছাড়া গরু।

সম্পূরক উদাহরণ চলে আসে। আপনাদের নিশ্চয়ই অভিজ্ঞতা আছে যে আপনি যখনই নারীর স্বাধীনতার কথা বলবেন তখন খুব পরিচিত পুরনো কিছু কথা শুনতে হয়। আপনি যদি পুরুষ হন, তাইলে আপনাকে ওরা বলবে যে কেন আপনি নিজের বৌ বাচ্চা মা বোনকে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন। আর যদি নারী হন, তাইলে আপনাকে বলবে যে আপনি যেহেতু নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী তাইলে আমিও আপনাকে ইয়ে করতে চাই ইত্যাদি। আমাকেও বলেছে কেউ কেউ এইসব কথা। আমি অবাক হই। প্রথমে ভাবতাম যে কি পর্যায়ের গাধা হলে মানুষ এইসব ভাবতে পারে। কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য করে দেখেন, দেখবেন এইসব কথাতে কিন্তু পুরুষবাদের দর্শনটাই প্রতিফলিত হয়- নারী নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্য নয়, সুতরাং নারী স্বাধীনতা মানে হচ্ছে সিদ্ধান্তহীনতা, স্বেচ্ছাচার ইত্যাদি।

(৪)
প্রসঙ্গ হারিয়ে ফেলি। যা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেখানে আসি।

আমাদের এখানে তো অপেক্ষাকৃত তরুণ একদল নারী অধিকার কর্মী শক্ত পায়ে ঢাকার মাটির উপর দাঁড়িয়েছেন। এদের নিজেদের মধ্যে টুকটাক মত পার্থক্য থাকলেও একটা বিষয়ে ওরা প্রায় সকলেই স্থির এবং অবিচল- নারীর মর্যাদা পুরুষের নিচে নয়, (এবং উপরেও সম্ভবত নয়), সমান। মত পার্থক্য তো থাকবেই- রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা আছে, সামাজিক কারণ আছে আর আছে একেকজনের অগ্রাধিকারের জায়গা। বাস্তব কারণেই সকলের অগ্রাধিকারের জায়গাটা একরকম হয় না। আপনি যেখানে বৈষম্যের তীব্রতা দেখতে পান, সেই জায়গাটা হয়তো আমার দৃষ্টিগোচর হয় না। আবার উল্টোটাও হয়- আমি যেটাকে জরুরী কাজ মনে করছি সেটার জরুরতটা হয়তো আপনি টের পান না। এটা তো হবেই।

এই যে নারী অধিকার কর্মীরা রয়েছেন, এরা নিজেদেরকে নারীবাদী বলতে লজ্জা পান না। এইটা একটা বড় ব্যাপার। অনেক বড়। এ যেন অনেকটা পুরো সমাজের সামনে দাঁড়িয়ে বলা- তোমরা মন্দ, তোমরা নারীকে মানুষ মনে কর না, তোমাদের মুখে থুঃ, তোমাদের এই সমাজ আমি ভাঙবোই। এটা অনেক সাহসের কাজ।

এদের সাথে সাথে একদল নারীবাদের নাপিতও বেরিয়েছেন। (নাপিত কথাটা কমন জেন্ডারে বললাম বটে, এদের দলে নাপিত যেমন আছে নাপিতনিও আছে। বরং মাঝে মাঝে মনে হয় স্ত্রী লিঙ্গের নাপিতেরাই সংখ্যা বেশী)। নাপিত মানে কি? এরা চুল চেরেন, চুল ছেঁড়েন তথা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। একজন নারী অধিকারকর্মী যখন একটা কথা বলেন, হোক সেটা ফেসবুকে বা অন্যত্র, বা যখন কোন কাজ করেন, এই নাপিতরা তখন সেই নারীবাদীর কেশচ্ছেদন করতে থাকেন। হায় রে সে কি বিচার বিশ্লেষণ! সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরিমাপক যন্ত্র এনে হাজির করেন- না এইটা ঠিক পুরোপুরি নারীবাদী কাজ হল না ইত্যাদি।

আর সে কি সমালোচনা! ও তো কোনদিন বস্তিতে যায়নি, নারী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি, সে কিসের নারীবাদী! ও তো গুলশানে থাকে বড় চাকরী করে সে কিসের নারীবাদী! ও তো বিদেশে থাকে বা আরেকজন তো বিবাহ করেছে সুখে সংসার করে ওরা কিসের নারীবাদী ইত্যাদি। শুনলেও হাসি পায়।

(৫)
ও ভাই, যা নারীটি বা পুরুষটি অভিজাত এলাকায় থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় বা সেরকম কোন ভাল চাকরী করে কোনদিন বস্তিতে যায়নি তিনিও বলতে পারেন যে নারী ও পুরুষ সমান। আবার যারা মাঠে ময়দানে নারীর পাশে দাঁড়িয়ে নারীর কল্যনের জন্যে কাজ করেন ওদের মধ্যেও নারীবাদবিরোধী মানুষ থাকতে পারে। একই পেশায় বা একই ধরনের কাজ করেন এইরকম দুইজন মানুষ নারীর অদিকার প্রশ্নে দুইরকম মতামত পোষণ করতে পারেন। লক্ষ্য করলেই দেখবেন যে নারী মন্ত্রী বা নারী এমপিরা প্রায় সকলেই পুরুষতান্ত্রিক কথাবার্তা বলেন, আবার একই সাথে নারী কল্যাণের জন্যেও কাজ করেন। কল্যাণ বা ওয়েলফেয়ার আর অধিকার তো এক জিনিস না। কল্যাণটাও জরুরী- সেটাকে ফেলে দিতে পারবেন না। অনেকেই কল্যাণ আর অধিকার দুইটা নিয়েই একইসাথে কাজ করেন। কিন্তু সকলেই তো আর সমাজ পাল্টাতে চাচ্ছেন না।

নারীবাদীরা হচ্ছেন গোটা সমাজকে আগাপাশতলা বদলে ফেলার লড়াইয়ের একটা আর্টিলারি ব্যাটারি। ওরা আক্রমণ করছেন পুরুষতন্ত্রের দুর্গটা ভাঙবেন বলে। ভাঙার লক্ষ্যটা সকলেরই এক বটে, এর মধ্যে সকলের সকল চিন্তা ও সকল কাজ একরকম হবে এইরকম কোন কথা নাই। আপনি পুরুষতন্ত্রের দুর্গের উঁচুতে দাঁড়িয়ে দূরাগত এই বাহিনীর নানাপ্রকার সমালোচনা করতে পারেন বটে, কিন্তু ওদের যাত্রা থামাতে পারবেন না। ওরা এই দুর্গ ভাঙবেই- জগদ্দল সরাবেই। আপনি বরং সিদ্ধান্ত নিতে বসুন, আপনি কি এখনো ঐ দুর্গ প্রাচীরের উপরে দাঁড়িয়ে এই নাপিতগিরি চালাতেই থাকবেন? নাকি এই ক্যাভালরিতে যোগ দিবেন।

শেয়ার করুন:
  • 176
  •  
  •  
  •  
  •  
    176
    Shares

লেখাটি ৬২৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.