জরায়ু

0

ডা. ফাহমিদা নীলা:

-এখন থাইক্যা তুমি ওই কোণার ঘরটাতে থাকবা। তোমার জিনিসপত্র ওই ঘরে পার কইরে দিছি।

জামিলা হতভম্ব হয়ে শাশুড়ির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। সাত বছরের সংসারে এতোদিন সে রানীর হালেই থেকেছে। খানিকটা শুচিবাই রোগ আছে বলে নিজের ঘরে সহজে কাউকে ঢুকতে দিতো না সে। আর আজ কিনা সে নিজেই নিজের ঘরে ঢুকতে পারছে না! অসহায়ের মতো আশেপাশের মুখগুলোতে খানিকটা প্রশ্রয়ের আশায় ব্যাকুল হয়ে তাকায়।

বাড়ির কাজের মেয়ে নুরী, পাশের বাড়ীর রহিমা চাচী, চাচাতো জা পারুল, চাচাতো ননদ সুফি ছাড়াও আশেপাশের দু’চার বাড়ির বউ ঝিদের নানান উৎসুক মুখের ফাঁক দিয়ে কমলা আঁচলে ঘোমটা দেয়া আরেকটা নতুন মুখও জামিলার চোখে পড়ে। তার ঘরের দুয়ার জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে কমলা রঙের মালা শাড়ি পরা এ সংসারের নতুন অতিথি, জামিলার সতীন রমিজা। জামিলার চোখ অনুসরণ করে রমিজার দিকে তাকায় ওদের শাশুড়ি রাবেয়া।

ডা. ফাহমিদা নীলা

খানিকটা আদর মাখা গাঢ় কন্ঠে নতুন বউকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে,
‘ঘরে যাও বউ। সাত সকালে অপয়ার মুখ দেখতে নেই।’

‘অপয়া’ শব্দটা শুনে বুকের ভিতর ছ্যাঁত করে উঠে জামিলার। এমন না যে গেল সাত বছরে শাশুড়ি তাকে ছোটবড় কথা শোনায়নি! বাঞ্জা, মুখপুড়ি, অলক্ষী, কত কী! উত্তরে অবশ্য জামিলাও তাকে দু’কথা বলতে ছেড়ে দেয়নি। সেদিন ওর গলায় জোর ছিল। ছয় বছর বাচ্চা পেটে আসে নাই দেখে শাশুড়ি তাকে মুখ ঝামটা দিয়ে এটা-সেটা বলে খোঁটা দিলেও ঠিকই জামিলা সুযোগমতো সেই ঝাল ঝেড়ে ফেলেছে শাশুড়ির উপর। শাশুড়ির একমাত্র ছেলের বউ হিসেবে সে বুঝেই গিয়েছিল, সে ছাড়া শাশুড়ির আর কোনো গতি নাই। তার স্বামী পলাশ বউ বলতে ছিল একেবারে অজ্ঞান। যতোক্ষণ স্বামী হাতে আছে, শাশুড়ি নিয়ে টেনশান কী!

স্বামী পলাশ শুধু জামিলার হাতে নয়, একেবারে আঙ্গুলের ডগায় ছিল। বাচ্চা-কাচ্চা হয়নি বলে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের গঞ্জনা শুনে সে যতোটা অস্থির ছিল, পলাশ ছিল ততোটাই ঠাণ্ডা। তার এক কথা,
‘উপরওয়ালার উপর ভরসা রাখো। হেই সবকিছুর মালিক। হেই দিলে হইবো, না দিলে নাই। পোলাপান নিয়া অতো টেনশান করনের কাম নাই। ‘

তবু জামিলার মন রাখতে পলাশ তাকে নিয়ে ছুটে গেছে কবিরাজ, মৌলভী, হোমিও দোকানসহ সব জায়গায়। শেষে আশা যখন প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল, তখন চাচাতো ভাই শয়ফুলের কথা শুনে সে শহরের বড় গাইনি ডাক্তারের কাছে ছুটেছে। বউয়ের বড় মা হওয়ার সাধ। ডাক্তারের কথামতো সব পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছে নিয়ম মেনে।

শেষটায় ডাক্তার বললেন,
‘সমস্যা দুজনেরই অল্প-স্বল্প। ওষুধ খাও। কাজ হবে।’

রাবেয়া বেয়ানের তাড়া খেয়ে জামিলার মা জরিনা কাপড়ের পোটলা এক হাতে নিয়ে আরেক হাতে মেয়ের হাত ধরে টান দেয়। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে জামিলা। পেটের কাটা জায়গায় হাত দিয়ে নিজের অজান্তেই অস্ফুটস্বরে গুঙিয়ে বলে,
‘আস্তে যাও মা। বেতা লাগে।’

ওষুধ শুরু করার দু’মাস যেতে না যেতেই আল্লাহ্ মুখ তুলে তাকিয়েছিলেন জামিলার দিকে। আহা! কী আনন্দের ছিল সেই দিনটা, যেদিন কাঠি পরীক্ষায় দু’দাগ উঠেছিল ওর। সেকথা মনে পড়তেই পুরনো খুশির একটা ঝিলিক বয়ে যায় জামিলার শরীরে। এক মুহূর্তের জন্য ও ভুলে যায় শরীরের সকল ব্যথা। জোরে জোরে পা চালায় মায়ের পিছে পিছে।

পশ্চিম কোণার এই ছোট্ট ঘরটা এতোদিন গুদামঘরের মতো ব্যবহার করেছে জামিলা। অদরকারি নানান জিনিস এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সারা ঘরময়। নতুন পাতা ভাঙা চৌকির এক কোণে মেয়েকে বসিয়ে ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করে জরিনা বেওয়া।

‘ও মা,তুমি যে কিছুই কইলা না! এই ঘরে আমি থাকুম ক্যান? আমার ঘর আরেকজনরে দিয়া দিল ক্যান? হেরে অন্য ঘরে তুলতে পারতো না?’

‘চুপ থাক মা। কাঁচা শরীলে অতো কতা কওন ঠিক না।’
‘ক্যান চুপ থাকুম? আমার এতদিনের সাজানো ঘর…’
একটু জোরে কথা বলতে গিয়ে আবারো টান পড়ে জামিলার সেলাইয়ে। ব্যথায় চোখ-মুখ কুঁচকে চুপ করে যায় সে। মাস দেড়েক হয়ে গেছে তবু অপারেশনের জায়গার টনটনে ভাবটা যায়নি।
‘আল্লাহ আমারে আর কত কষ্ট দিবা?’

মেয়ের আহাজারি শুনে থেমে যায় জরিনার হাত। আহারে সেইদিন সময়মতো মেয়েটারে হাসপাতালে নিতে পারলে আজ বাচ্চাটাও বাঁচতো, মেয়েটাও এতো কষ্ট পেতো না! অজান্তেই ধেয়ে আসা অশ্রুতে আঁচলের বাঁধ দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে জরিনা। নয়টা মাস কী কষ্টটাই না করেছে মেয়েটা! তেমন বড় সমস্যা হয়নি বলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়নি। কতবার যে সে ডাক্তারের কাছে যাবার বায়না ধরেছে!

‘কী দরকার! খামাকা ডাক্তার ভিটামিন দিবে, খেয়ে বাচ্চা বড় হয়ে যাবে। শেষে সিজার ছাড়া আর উপায় থাকবে না।’
মা আর শাশুড়ির ওই এক কথা। ব্যথা উঠার পর মাটিতে গড়াগড়ি দিতে দিতে মা আর শাশুড়ির পা ধরেছে জামিলা।
‘এইবার আমারে ডাক্তারের কাছে নিয়া যাও গো। আমি মইরা যাইতাছি। আমারে বাঁচাও, আমার বাচ্চাটারে বাঁচাও।’
কেউ শোনেনি সেদিন জামিলার আহাজারি। এমনকি জরিনা নিজেও কি পাত্তা দিয়েছে মেয়ের কথায়? প্রসব বেদনা উঠলে সব মেয়েই এমনটা করে ভেবে কাঠ হয়ে থেকেছে। শেষতক যখন একদিন একরাত পেরিয়ে মেয়েটা যন্ত্রণায় প্রায় মরণাপন্ন, দাই বেটি সাফ জানিয়ে দিল তার অপারগতার কথা, তখন না তাকে ভ্যানে তুলে ছুটে গেছে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে! ডাক্তাররা দেখে সোজা রেফার করে দিলেন ঢাকায়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গাড়ি জোগাড় করে নিয়ে যেতে যেতে জামিলার প্রায় অচেতন অবস্থা। মাঝে মাঝে বিকট চিৎকার ছাড়া বাকিটা সময় পড়েছিল মরার মতো। পেটটা কেমন শক্ত লোহার মতো হয়েছিল। প্রশ্রাব পায়খানা সব বন্ধ।

‘আপনারা তাড়াতাড়ি রক্ত জোগাড় করেন। দ্রুত অপারেশন করতে হবে। আপনার মেয়ের জরায়ু ফেটে গেছে।’
ডাক্তারের কথা শুনে ছোটাছুটি শুরু হয়ে গেল। পাক্কা ছয় ব্যাগ রক্ত লাগলো। অপারেশন হলো বটে। তবে সেটা সিজার নয়। যে সিজারের ভয়ে ওরা মেয়েটাকে হাসপাতালে নেয়নি, সেটা না হয়ে আরো বড় অপারেশন হলো। জরায়ু ফেটে বাচ্চা বেরিয়ে গিয়েছিল পেটের মধ্যে। মরা বাচ্চাটা বের করার পরে জরায়ুটাও আধা কেটে ফেলে দিতে হলো শুধু মাকে বাঁচাতে। সেদিন জরিনা ডাক্তারের সব কথাই মাথা ঝাঁকিয়ে মেনে নিয়েছিল। মরা নাতনিটাকে কাপড়ে পেঁচিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেও ওর জন্য কাঁদেনি সে। বিড়বিড় করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছে,
‘আল্লাহ, আমার মেয়েডারে বাঁচায়ে দাও।’

‘আল্লাহ আমার মেয়েডারে বাঁচতে দিল না!’ হু হু করে কাঁদতে থাকে জামিলা।
‘কান্দিস না মা, কান্দিস না। ধৈর্য্য ধর।’
মেয়ের কাঁধে এক হাত দিয়ে আরেক হাতে মুখে কাপড় গুঁজে ফেলে জরিনা। নিজের বোকামির কথা ভেবে মাথা চাপড়াতে ইচ্ছা করে। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করে। মনে মনে ভাবে, কোনভাবে যদি ভুলটা শুধরানো যেতো! কিছু ভুলের আসলে কোন মাফ হয় না। নিজের মনেই জরিনা নিজেকে তিরস্কার করতে থাকে।

‘ও মা, ওরা আমার সাথে ওরাম কর‍্যে কতা কয় ক্যা? আমার সংসার!’
জরায়ু ফেলার এক মাসের মাথায় স্বামী পলাশকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেয়ার সময় একবারও জামিলার মনে হয়নি তার সংসার দখল হয়ে যাবে এভাবে! পলাশ বাপের একমাত্র ছেলে। বংশ রক্ষার খাতিরে বিয়ে করেছে। নতুন বউ আসবে সন্তান জন্ম দিতে। ভালো মানুষের মতো তাই স্বামীর দখলটা মেনে নিয়েছে সে। কিন্তু তাই বলে তার সংসারটাই পুরো দখল করে নিবে?
রাতে বিছানায় শুয়েও দমকে দমকে ফুঁপিয়ে ওঠে জামিলা। সারাদিন সংসারের কাজ করতে করতে পেটের ব্যথাটা আরও বেড়েছে। মেয়ের পিঠে হাত বুলিয়ে দেয় জরিনা।
‘কান্দিস না মা! মাইয়া ম্যানষের জরায়ুই হইল আসল। জরায়ু না থাকলে তাগো কুনু দাম নাই। সংসারে তুই অচল।’

মা চলে গেছে আজ কত দিন! জামিলার গায়ে হাত বুলিয়ে কথা বলারও কেউ নাই। চোখের পানি শুকিয়ে গেছে সেই কবে! কাটা ব্যথাটা সয়ে গেছে ধীরে ধীরে। মাঝে মাঝে ভারী কাজ করার সময় কেবল হ্যাঁচকা টান দিয়ে জামিলাকে সাবধান করে দেয়। শরীরের ভেতরের ঘা হয়তো শুকিয়ে গেছে এতোদিনে। কেবল মনের ঘাটাই শুকাতে পারে না ‘অপয়া’ শব্দের তীক্ষ্ণ ফলার আঘাতে।

আজ প্রায় নয় মাস জামিলার উপরে কড়া নজর রেখেছে ওর শাশুড়ি রাবেয়া। পাছে ওর মতো অপয়ার মুখ দেখে রমিজার বাচ্চাটা যদি নষ্ট হয়ে যায়! জামিলার ঘর থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত আলাদা করে ঘিরে দেয়া হয়েছে। রান্নাঘরের পেছন দিকে একটা আলাদা দরজা বানানোও হয়েছে। ওই পথে জামিলা পুকুরে যায় পানি আনতে, গোসল করতে, কাপড় কাচতে, থালাবাসন ধুতে। অন্দরমহলে তার যেতে মানা। রান্নাঘরে শাশুড়ির সাথে দেখা হলে মুখ ঘুরিয়ে কথা বলে। এসব জামিলা গায়ে মাখে না আর। কেবল রান্নাঘরে বসে একা একা খেতে বড় কষ্ট হয়। কেউ তার সাথে না খাক, তবু পাশে বসে থাকতো! কেউ তার পাতে খাবার তুলে না দিক, তবু কথা বলতো!

জামিলা কাজের ফাঁকে ফাঁকে রান্নাঘরের সাজানো ইটের ঘুঘলি দিয়ে চুপিচুপি রমিজাকে দেখে মাঝেমধ্যেই। কেন যেন ভরাপেটের সতীনকে দেখতে ভালোই লাগে ওর। ওকে দেখতে দেখতে অজান্তে নিজের পেটের উপর হাত বুলায়। কী যেন নড়ে উঠে সেখানে। চমকে তাকায় জামিলা। পেটের উপরের শাড়িটা সরাতেই কাটা জায়গায় চোখ পড়ে। দু’চোখ বেয়ে ঝরে পড়ে ঝর্ণাধারা। না, দুঃখে নয়, কষ্টে নয়, হারানো অনুভূতিটা নতুন করে অনুভব করার আনন্দে। হোক না সে মিথ্যে! তবু বারবার তা অনুভব করার তাগিদেই আবার গিয়ে দাঁড়ায় রান্নাঘরে ঘুঘলির সামনে।

আজ রমিজা আলট্রাসনো করে দেখে এসেছে, তার নাকি মেয়ে হবে। এক হাঁড়ি মুখ করে রান্নাঘরে ঢোকে রাবেয়া। নুরীর কাছে জামিলা আগে খবর পেলেও আবার জিজ্ঞেস করে শাশুড়িকে।
‘কী ছাওয়াল হবি?’
‘তুমার অতো খোঁজে কাম কী? তুমারে না কইছি ওইদিকে চোখ দিবা না!’
মুচকি হাসে জামিলা। কথা শুনানোর সুযোগটা হাতছাড়া করে না।
‘ক্যা মা, রাগ করো ক্যা? আমার জরায়ু নাই দেইখ্যা আমারে তুমি অপয়া ডাকো। আর আইজ জরায়ুওয়ালা বাইচ্চা জন্ম হইবো শুইন্যা মুখ কালা করো ক্যা? তুমার তো খুশি হওনের কতা!’
রাগে গরগর করতে থাকে রাবেয়া। জামিলার কথার যুত মতো উত্তর খুঁজে পায় না দেখে কাজের বাহানায় ঢুঁকে পড়ে অন্দরমহলে।

রমিজার আর্তচিৎকারে ফজরের সময় ঘুম ভাঙে জামিলার। ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে কান পেতে রাখে সে। পলাশ কিছুদিন যাবৎ প্রায় আসে জামিলার ঘরে। গতরাতেও এসেছিল। স্বামীর হাত ধরে অনুরোধ করেছে জামিলা, ব্যথা উঠলে রমিজাকে যেন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সূর্য উঠে ধীরে ধীরে পশ্চিমে হেলতে শুরু করলো। রমিজার চিৎকারও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চললো। কিন্তু এ বাড়ির কারও মধ্যে কোনো চাঞ্চল্য দেখা গেল না। সবাই যে যার মতো কাজ করছে। কেবল জামিলাই আজ কোন কাজে মন বসাতে পারছে না। রমিজার প্রতিটা চিৎকারের সাথে সাথে সে নিজেও যেন প্রসব বেদনা অনুভব করছে। খুব ইচ্ছা করছে রমিজার পাশে গিয়ে হাত ধরে একটু বসতে। সারাটা সময় উসখুস করলো সে। জোহরের পরে দাই এসে ঢুকলে আর থামতে পারলো না জামিলা। ঘোমটাটা মাথায় টেনে বেরিয়ে পড়লো পেছন দরজা দিয়ে। দক্ষিণপাড়ার মকবুলের ভ্যানটা ডেকে গলিতে দাঁড় করিয়ে সোজা গিয়ে ঢুকলো রমিজার ঘরে।

আজ আর কারও কথা শুনবে না জামিলা। রমিজার হাত ধরে টেনে ভ্যানে তুলে পলাশকে বললো,
‘তুমি গেলে চলো, নাইলে আমি একাই যাবো। মায়ের জরায়ু থাইক্যা বাইর হইয়াও তো জরায়ুর দাম দিতে শেখো নাই! আমি নিজেরডা হারায়ে শিখছি। আর কারও সব্বোনাশ হইতে দিমু না।’

জামিলার তাড়া খেয়ে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে ভ্যান চালাচ্ছে মকবুল। কাপড়ের বস্তা হাতে কখনো জোর কদমে হেঁটে, কখনো দৌড়ে ভ্যানের পাশে পাশে ছুটছে পলাশ। কাটা পেটের সমস্ত ব্যথা উপেক্ষা করে পেছন থেকে ভ্যান ঠেলতে ঠেলতে রমিজাকে নিয়ে জামিলা দৌড়ে চলেছে হাসপাতালের দিকে। সময়ের আগে আজ তাকে পৌঁছাতেই হবে। বাঁচাতেই হবে রমিজার জরায়ু, জরায়ুতে ধারণ করা জরায়ুধারী সন্তান।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 605
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    605
    Shares

লেখাটি ২,৭১৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.