যেতে হবে বহুদূর

0

তাহিরা ফারজানা:

শ্রম বাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত, শ্রম বাজারে অংশগ্রহণকারী নারীর পার্সেন্টেজ ৩৫.৬। বিভিন্ন সেক্টরে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণের চিত্রটা অনেকটা একই রকম।
এই চিত্র অব্যাহত রাখার জন্য বা এর আরও উন্নতির জন্য আমাদের এখনো বহুদূর যাওয়ার বাকি।

নারী চরিত্রের ব্যাপকতা অনেক। তার একটা বড় কারণ হলো তার বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে হয় এবং এই ভূমিকা সে যত্ন সহকারে দায়িত্ব নিয়ে পালন করতে চায়। অথচ তাকে এই সামান্য সহযোগিতা করার ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ নেই। সরকারি সহযোগিতা (অবকাঠামোগত) খুবই অপ্রতুল।

মায়েদের একটা বড় গ্রুপ এ সংযুক্ত থাকার কারণে সেখানে একটা সাধারণ বিষয় প্রায়ই চোখে পড়ে। তা হলো –
চাকরিজীবী মায়েরা সন্তানধারণ করার সাথে সাথে চিন্তিত হয়ে পড়েন যে ছোট শিশুটিকে কোথায় রেখে তারা অফিসে যাবেন। এমন অনেক সহযোগিতার পোস্ট সেই গ্রুপ এ প্রতিনিয়ত দেখা যায়। চাকরি ছেড়ে দেয়াটা ঠিক হবে কিনা তা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন থাকে। কয়জন চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, এই প্রশ্ন করার পর শ’খানেক হাত উঠে যায় গ্রুপে।

একটা ছোট শিশুকে বাসায় রেখে আশা প্রসঙ্গে বেশ কিছু মিমিক দেখেছি তার মধ্যে, একটা হলো –
“মা, তুমি তোমার দামি জিনিসগুলা আলমারিতে সযত্নে নিরাপদে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছো, তাহলে আমাকে তুমি কতোটা নিরাপদে রেখে যাচ্ছো? ”

আমি জানি না যে এইটা তৈরি করেছে সে আদৌ কোনোদিন একজন মায়ের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি চিন্তা করেছে কিনা! একজন মা তার সন্তানকে কতটা ভালোবাসেন, আর ঠিক কোন পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি সন্তানকে বাসায় এভাবে রেখে যান, তা এই সব আবেগী মিমিক তৈরিকারি ব্যক্তিবর্গ জানেন কিনা!

সবচাইতে বড় যে বিষয়টা বার বার এসেছে, তা হলো সমন্বিতভাবে একটি পরিবার বেড়ে উঠা খুবই কম এখানে। আমরা একজন নারীর বেড়ে উঠাকে পরিবারের বেড়ে উঠার সাথে এখনও চিন্তা করতে পারি না।

যার ফলাফল হলো, মাঝপথে এসে চাকরি ছেড়ে দেওয়া। এতে সবাই খুশি। প্রতিষ্ঠান ও হয়তো খুশি আরও কম বেতনে কর্মী নিয়োগ দেয়া যাবে। আবেগী মিমিক তৈরিকারী খুশি তার প্রচেষ্টা কাজে লেগেছে।

স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে অনেক ক্যাম্পেইন দেখেছি, যেখানে তাদেরকে আবার স্কুল শুরু করার ব্যাপারে প্রেষণার যোগান দেয়া হচ্ছে। এই বিষয়টা নিয়ে সরকার কেন চিন্তিত? অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা কারণ পরবর্তীতে দক্ষ জনশক্তির অভাব হতে পারে। আর সে কারণেই মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষাসহ বিভিন্ন আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টা বাড়ানো হয়েছে।

এখন ধীরে ধীরে সকল সহযোগিতা নিয়ে বেড়ে উঠা নারীকে যদি আপনি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ না করতে দেন, তাহলে সেখানে একটা ইমব্যালেন্স তৈরি হবে, আবার আরেকটা জায়গাতেও বড় সমস্যা রয়ে গেছে, আর তা হলো – কর্মক্ষেত্রে যোগ দেয়ার পর মোটামুটি দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর ঝরে পড়া।

ঝরে পড়া চাকরিজীবী নারীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, আর যারা ঝরতে ঝরতে টিকে আছে, তাদের করুণ অবস্থা বিবেচনায় সঠিক পদক্ষেপ শীঘ্রই নেয়া হবে এইটুক আশা তো করতেই পারি?

সেদিন দেখতে চাই না যেখানে একজন চাকরিজীবী নারীকে বলতে হবে “হোয়াট আই নিড ইজ এ চান্স”
এই ক্যাম্পেইন ঝরে পড়া চাকরিজীবী নারীদের সাথে খুবই মিলে যায়, আর এতোক্ষণ যা বললাম তার মূলকথা নিহিত এই ক্যাম্পেইন এ –
https://www.youtube.com/watch?v=TV90IN2V-gw

সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা!!

লেখক: শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 49
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    49
    Shares

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.