নারী ইস্যুতে নির্লজ্জ হিন্দু পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইন

0

নীল জোনাকি:

নারী বৈষম্য ও নারী অধিকার প্রসঙ্গে কথা বললেই সাধারণত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা গলাবাজির প্রতিযোগিতায় নামেন। প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীরাই দাবি করেন- একমাত্র তার ধর্মই দিয়েছে নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও অধিকার। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, নারী অধিকারের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রতিটি ধর্মই একে অপরের চেয়ে এক কাঠি সরেস- কে কতোটা নারীর অধিকার হরণ করতে পারে, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করতে পারে সেই চেষ্টায়।

উপমহাদেশের বৃহৎ দুটি ধর্ম ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের মতামত ও বক্তব্য খেয়াল করলে বিষয়টি স্পষ্ট অনুধাবন করা যায়। এবং ধর্মগ্রন্থগুলো পাঠ করলে জানা যায় ধর্মগুলো নারীর জন্য আদৌ কোনো সম্মান ও অধিকারের কথা বলে কী না!

উত্তর আধুনিক যুগে ধর্মীয় বিধানের বাইরে রাষ্ট্র কাঠামো পরিচালিত, রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়ন করা হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্মের ছদ্মাবরণেই তা প্রণয়ন করা হয়েছে আমাদের দেশে। যেমন- মুসলিম পারিবারিক আইন ও হিন্দু পারিবারিক আইন, যা সাধারণত বিয়ে ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়ে থাকে। মুসলিম পারিবারিক আইনে পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে নারীকে ৩ঃ১ অনুপাতে অধিকার দেয়া হলেও হিন্দু পারিবারিক আইনে নারীকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী বিষয়ে হিন্দুদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে কট্টর ধর্মীয় অনুশাসন থেকে সরে এলেও সম্পত্তির ভাগ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে তারা আজও অনড় রয়েছেন নির্লজ্জভাবে।

হিন্দু পারিবারিক আইন বলতে বিবাহ, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক সম্পর্ক হতে উদ্ভূত অন্যান্য বিষয়, উত্তরাধিকার, দান, উইল, দত্তক, নাবালোকের তত্ত্বাবধান ও অভিভাকত্ব সম্পর্কে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনূসৃত ধর্মীয় আইনকে বোঝানো হয়ে থাকে।

পরিবর্তনশীল সমাজের প্রয়োজনে যাপিত জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিন্দুরা ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে অনেকাংশে বের হয়ে এলেও নারীর ওপর চাপিয়ে দেয়া পুরুষের সামন্তবাদী ও প্রভুত্ববাদী পারিবারিক আইনের আশ্রয়ে নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার হতে বঞ্চিত করার হীন মানসিকতা থেকে আজও বের হতে পারেননি। বরং নির্লজ্জভাবে পুরুষের একতরফা স্বার্থ রক্ষাকারী এই আইনকে টিকিয়ে রেখে পেশীশক্তি প্রদর্শনের একচ্ছত্র অধিকারী হয়ে নারীকে কোণঠাসা করে রাখার পক্ষেই শক্ত অবস্থান নিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে আইন কমিশন একাধিকবার এই আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন হিন্দু সংঘের বিরোধিতা ও অসহযোগিতার কারণে তা শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। সংঘগুলোর দাবী- ‘নারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার ভোগ করছে তাদেরকে জীবনসত্ব অধিকার প্রদানের মাধ্যমে এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পাঁচটি ক্ষেত্রে নারীদেরকে সম্পদের উত্তারাধিকার দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও হিন্দু ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এনজিও এসব অপপ্রচার ও অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

পাঁচটি ক্ষেত্রে সম্পত্তিতে নারীর উত্তরাধিকার লাভের প্রসঙ্গে ধর্মীয় সংঘগুলোর দাবী কিয়দ সত্য বটে। তবে তার মাঝে রয়েছে অনেকগুলো কিন্তু, যদি, তবে ও অথবার ব্যবহার। যা ডিঙিয়ে কোনো নারীর পক্ষে সম্পদের প্রাপ্য হিস্যার অধিকার লাভ করা আদৌ সম্ভব নয়।
এখন দেখে নেয়া যাক পুরুষ সৃষ্ট ধর্ম অনুযায়ী হিন্দু পারিবারিক আইন নারীকে কিভাবে সম্পদের কতটুকু অধিকার দিয়েছে এবং তা নারীর আয়ত্তের মাঝে আছে কী না;

হিন্দু আইনের সবচেয়ে কঠোর অংশ হলো মেয়ে সন্তানের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের বিষয়টি। ১৯৩৭ সালে তৈরি এই আইনে বাবার সম্পদের উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত করা হয় মেয়েদের। আর সীমিত ক্ষেত্রে পাঁচ পর্যায়ের হিন্দু নারীকে জীবনস্বত্ব ভোগ করার অধিকার দেয়া হয়। তবে ভারতে ১৯৫৬ সালে এই হিন্দু আইন সংশোধন করে সাংবিধানিকভাবে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
জীবনস্বত্ব হচ্ছে- স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী তার জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। তবে সেই সম্পত্তি তিনি কোনভাবেই বিক্রয় করতে পারবেন না, অন্যের কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না, এমনকি নিজের সন্তানকেও দান করতে পারবেন না। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ হিন্দু দায়ভাগ আইন অনুযায়ী নামেমাত্র বিধবার সম্পত্তি বা উইডোজ এস্টেট হিসেবে পূর্বে মৃত স্বামীর পুরুষ উত্তরাধিকারের দখলে চলে যায়। মৃত ব্যক্তির ছেলে থাকলে মেয়েরা সম্পত্তির কোনো ভাগ পান না। আর যদি ছেলে না থাকে সেক্ষেত্রে অবিবাহিত ও ছেলে সন্তান জন্মদানকারী মেয়েরা জীবনস্বত্বে সম্পত্তি ভোগের অধিকার পান। বন্ধ্যা, বিবাহিতা বা বিধবা ও মেয়ে সন্তান জন্মদানকারী নারীরা বাবার সম্পত্তি পান না। অর্থাৎ মেয়ে বা নারীকে সম্পত্তি ভোগ করার ন্যুনতম যে অধিকার দেয়া হয় তাও নির্ভর করে ছেলে সন্তান বা ভবিষ্যতের পুরুষ জন্ম দেয়ার ওপর।

বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু দায়ভাগ আইন অনুযায়ী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পাঁচ পর্যায়ের নারী উত্তরাধিকারী হচ্ছে বিধবা, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা ও পিতার পিতার মাতা। এ ধরনের অধিকার বিধবার সম্পত্তি বা উইডোজ এস্টেট হিসেবে পরিচিত। যদিও বিধবা ছাড়াও অন্যরা এ অধিকার পেতে পারে। তবে তা কেবল জীবনস্বত্বে। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এ সম্পত্তি পূর্বে মৃত ব্যক্তির পুরুষ উত্তরাধিকারীর দখলে চলে যায়।

পৃথিবীতে যতগুলো প্রাচীন আইন আছে এর মধ্যে হিন্দু আইন অন্যতম। তবে কোথায় কিভাবে এর সূচনা হয়েছে তা কারো জানা নেই।

হিন্দুরা কেউ মারা গেলে শ্রাদ্ধের সময় পিতৃকূলের শীর্ষ তিন পুরুষ ও মায়ের বংশের উর্ধ্বতন তিন পুরুষকে মৃতের আত্মার উদ্দেশ্যে আতপ চাল, দুধ, কলা, মিষ্টি ইত্যাদি দিয়ে মণ্ড তৈরি করে নিবেদন করতে হয়। একে বলা হয় পিণ্ডদান। পিণ্ডদানের অধিকারী ব্যক্তিরা সপিণ্ড নামে পরিচিত। জীবিত ব্যক্তির পিণ্ডদানে যারা বাধ্য তারা জীবিত ব্যক্তির সপিণ্ড। এই দলে তার নিকটতম তিনজন পূর্বপুরুষ পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ এবং নিকটতম তিনজন মাতৃ পূর্বপুরুষ মাতামহ, প্রমাতামহ ও প্রপ্রমাতামহ অন্তর্ভুক্ত।
আর কেউ মারা গেলে তিনি যার কাছ থেকে পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী, তারা সবাই ওই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড। এই দলে তার পুত্রের দিক থেকে নিম্নতম তিন পুরুষ পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, এবং কন্যার দিক থেকে নিম্নতম তিন পুরুষকন্যার পুত্র, পুত্রের কন্যার পুত্র, প্রপৌত্র অন্তর্ভুক্ত। পূর্বসূরী ও উত্তরসূরি মিলিয়ে উপযুক্ত মোট ১২ সপিণ্ড ছাড়াও তিন পুরুষের মণ্ডলী বা বৃত্তের মধ্যে যেসব পুরুষ পিণ্ডদানের সাথে সম্পর্কযুক্ত তারা সবাই পরস্পরের সপিণ্ড। এই নিয়মে সপিণ্ডের সংখ্যা ৩৬। এর বাইরে বিশেষ পাঁচজন মহিলা সপিণ্ড আছেন।
যেমন- বিধবা, কন্যা, মাতা, পিতামহী ও প্রপিতামহী। সব মিলিয়ে মোট সপিণ্ডের সংখ্যা ৫৩। সকুল্যগণ সপিণ্ডের পরবর্তী সারির উত্তরাধিকারী। এরা প্রপিতামহের উর্ধ্বতন তিন পুরুষ। সপিণ্ডের অবর্তমানে তারা উত্তরাধিকারী হয়ে থাকেন। আর সমাদোকরা ৩য় শ্রেণির ও দূরবর্তী উত্তরাধিকারী। সকুল্যের উর্ধ্বতন সাত পুরুষ সমানোদক হিসেবে অভিহিত। তারা সবাই পুরুষ এবং সংখ্যা ১৪৭। সপিণ্ডের কেউ বেঁচে থাকলে সকুল্য ও সমানোদকরা কেউ সম্পত্তি পাবে না। এভাবে তিন শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের অধিকার ক্রমান্বয়ে আসবে। ক্রমানুসারে সপিণ্ডের সংখ্যা এতো বেশি যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি মেয়েদের পাওয়ার কোনই সুযোগ নেই। কিন্তু কেন এই বৈষম্য তারও কোন জবাব নেই।

ঔপনিবেশিক শাসনামলের প্রথমদিকে হিন্দু আইনের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। কারণ শাসকরা নিজেদের স্বার্থে সর্বসাধারণের জন্য দেওয়ানি ও বানিজ্য বিষয়ক আইন তৈরিতে অধিক আগ্রহী ছিল। ১৯৪১ সালে আইন পেশা ও ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ও কতিপয় আইন প্রণেতার সুপারিশে হিন্দু আইনকে বিধিবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এই হিন্দু আইন কমিটি ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা মতবাদের সমন্বয়ে হিন্দু আইনের একটি অভিন্ন কোডের ‘Hindu Law Bill’ বা সংহিতা উপস্থাপন করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর যারা ভারত সরকারের দায়িত্বে ছিলেন তারা রাও কমিটির খসড়া বিলটিকে খণ্ড খণ্ড আকারে পার্লামেণ্টে উপস্থাপন করে চারটি আইন পাস করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের কারণে ওইসব আইন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি। এর পেছনে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে আরো কিছু রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণও রয়েছে যার আরেক নাম পুরুষতন্ত্র।

১৯৫৬ সালে ভারতে আইন করে হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকার দেয়া হয়। ২০০৫ সালে তা আবার সংশোধন করে ভারত সরকার। ফলে বর্তমানে মৃত ব্যক্তির ছেলে-মেয়ে সমানভাবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হোন। কিন্তু বাংলাদেশে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের বিরোধিতা ও সরকারের সদিচ্ছার অভাবে হিন্দু পারিবারিক আইন সংস্কারের বিল আজও হিমাগারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বেশ কয়েকটি সংগঠন প্রচারণা চালাচ্ছে এই বলে যে, হিন্দু নারীরা এই সংস্কার চান না এবং এটি এনজিওদের চাপিয়ে দেয়া বিষয়! কেউ কেউ মনে করেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে পারিবারিক আইনের সংস্কার ঠিক নয়। যারা এর বিরোধিতা করছেন তারা সংখ্যায় অল্প হলেও বিভিন্ন ফোরামে তাদের প্রভাব বেশী। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ সংস্কারের পক্ষে থাকলেও তারা তাদের মতামত জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারছেন না। বিশেষ করে নির্যাতিত বা সহায় সম্বলহীন নারীরা তাদের বক্তব্য জনপ্রতিনিধিদেরকে জানাতে পারেন না।

সংগঠনের দাবি অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত পারিবারিক আইন সংশোধন সম্ভব নয় এমন যুক্তিও দুর্বল। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে হিন্দু আইন অপরিবর্তনশীল এই যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা হিন্দু আইনের উৎস ও ক্রমবিকাশের ধারা লক্ষ্য করলে বোঝা যায় কিভাবে কিছু আইন যুগের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমেও সংস্কার হয়েছে।

প্রচারণা চালানো হয় যে, হিন্দু নারীরা সম্পত্তি পেলে তা বেহাত হওয়ার আশংকা রয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীর সাথে বিয়ে হলে ওই সম্পত্তি আর হিন্দুদের থাকবে না। এই যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো হিন্দু নারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করে পিতার সম্পত্তির ভাগ নিয়ে সেই সম্পত্তি সে কিভাবে ভোগ করবে সেটা সম্পূর্ণই তার ব্যাপার। তাছাড়া ‘যদি কেউ বিয়ে করে’ এমন সম্ভাব্য চিন্তা মাথায় নিয়ে সমগ্র হিন্দু নারীদেরকে তাদের প্রাপ্য উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত করা মূলত পুরুষের চিরাচরিত শোষণ ও দমননীতিরই অংশ।
তবে বাংলাদেশে যেহেতু হিন্দুরা নিরাপদ নয়, সেক্ষেত্রে সম্পত্তির লোভে হিন্দু নারীকে প্রভাবিত করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে এবং পরবর্তীতে সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে জুলুম-নির্যাতন করে বিতাড়িত বা হত্যা করার একটা আশংকা থেকে যায়। সেক্ষেত্রে ‘হিন্দু ধর্ম ত্যাগকারী ব্যক্তি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন না’ মর্মে একটি অনুচ্ছেদ সংযোজন করে হিন্দু পারিবারিক আইনের সংস্কার করতে কোন বাঁধা নেই।

মুসলিম পারিবারিক আইনে কন্যা তার পিতার সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। স্বামী মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির নির্ধারিত অধিকার ভোগ করেন। স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রীকে তার অধিকার হতে বঞ্চিত করা যায় না, বঞ্চিত করা যায় না পিতার সম্পত্তি থেকেও। এমনকি নিজের সন্তানদেরও ক্ষমতা নেই আইনত তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার। যদি স্ত্রীকে তার মৃত স্বামীর সম্পত্তি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা হতে এবং কন্যাকে পিতার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত বা উপেক্ষিত করা হয়, তবে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। রাষ্ট্রও তার পক্ষেই দাঁড়াবে। নানা বৈষম্যের মাঝে নারীকে অন্তত এই সুরক্ষাটুকু দিয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলিম পারিবারিক আইন।

আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সবার সমান অধিকার হলেও হিন্দু নারীর জন্য এই পারিবারিক, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় রক্ষাকবচটুকু নেই। নেই ধর্মে, নেই সংবিধানে যা আজকের এই আধুনিক যুগে অমানবিকতা ও বৈষম্যের চূড়ান্ত রূপ। একটি রাষ্ট্রে শুধু ধর্মের কারণে ভিন্ন ভিন্ন আইন কেন থাকবে তার কোন সদুত্তর নেই। নেই সদুত্তর দেয়ার মত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। একটি সচল রাষ্ট্রে কোন একটি জনগোষ্ঠীকে শুধু অন্য একটি শ্রেণির স্বার্থরক্ষায় তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা খুবই দুঃখজনক। এটি সংবিধান পরিপন্থীও বটে।

এই ইস্যুতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, নারী ও নারী অধিকার সংগঠনসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে সোচ্চার হতে হবে। সরকারকেও এ নিয়ে ভাবতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নের কথা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, অথচ হিন্দু নারীরা তাদের ন্যুনতম অধিকার হতে বঞ্চিত- এটা নারীর সাথে তামাশা বৈ ভিন্ন কিছুই নয়। কারণ দেশের কোন একটি জনগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়লে সাধারণত সেই দেশটিই পিছিয়ে পড়ে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 602
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    602
    Shares

লেখাটি ১,৪৯৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.