একটি কন্যাশিশু তাহলে কোথায় নিরাপদ?

0

সুমনা গুপ্তা:

তীব্র ঘৃণায়, ক্ষোভে আর একধরনের মানসিক অস্থিরতায় মনটা বিষিয়ে উঠেছে এটা ভাবলেই যে একটি কন্যা শিশু তাহলে ঠিক কোথায় নিরাপদ? ঠিক কতোটা যৌন বিকৃতি অথবা মানসিক বৈকল্য থাকলে একটি শিশুকে তার নিজের পুরুষ পিতাটি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে পারে? একটি ফুটফুটে দশ বছরের শিশু, যে কিনা তার বাবার হাত ধরে এই অনিরাপদ পৃথিবীতে নিরাপদ বোধ করবার কথা, অথবা বাবার হাতটি ধরে পরম মমতায় নিজের ছোট ছোট চাওয়া, পাওয়া আর আবদারগুলো পূরণ করবার স্বপ্নে মাতোয়ারা থাকবার কথা, সেই শিশুটিই কিনা নিজের বাবার দ্বারা শারীরিকভাবে নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত!

এই মানুষরুপী জানোয়ার পুরুষটি একজন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসার, যে তার বাসার তের বছরের গৃহকর্মীকে রেপ করেছিলেন এবং সেই মেয়েটিও প্রগনেন্ট হয়ে যায় এবং এই শিশুটির বাবা-মা এর বিচ্ছেদের এটিও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে কন্যাটির মা প্রকাশ করেন।

প্রশ্ন হচ্ছে যে, ঠিক এইধরনের বিকৃত কামুকতার কারণে কতো নারীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, কিংবা কতটা যৌন বিকৃতি ঘটলে এভাবে বারংবার নিজের পশুরুপী কামুকতার কাছে নিজের সন্তানও পরাস্ত হয়? এই পিতারুপী হায়েনা পুরুষটির পুরুষত্ব শুধুমাত্র লিঙ্গসর্বস্ব যৌন সুড়সুড়িপূর্ণ কামুকতার একটি কদর্য রুপকেই প্রকাশ করে।

প্রসঙ্গতঃ মা বাবার ডিভোর্সের পরে মা কাস্টডি না পাবার জন্য এই শিশুটি তার জন্মদাতা পুরুষটির দ্বারা রেপের শিকার হয়েছে এর আগেও কয়েকবার। হসপিটালে নেয়ার পর ডাক্তার, সিনিয়র ডাক্তার এবং কাউন্সিলার সবাই বিষয়টি নিশ্চিত করে মাকে জানান, ‘এইবারই প্রথম এই ঘটনা হয়েছে তা নয়। এই শিশু মেয়েটার সাথে এর আগেও অনেক বার এটা করা হয়েছে।” সাবেক সেনা বাবা মেয়েকে স্কুলে নামিয়ে দেয়ার নাম করে জোর করে মার কাছ থেকে মেয়েকে নিয়ে যেয়ে শেষবার ধর্ষণ করে। মেয়ে শুধু বলতে পারে মা পেটে ব্যথা। আগেও মেয়ে মাকে বলেছে বাবা রাতে আসে, তাই পেটে ব্যথা। এই ধর্ষণের সাক্ষী মেয়েটার ছোট ভাই।

একইভাবে পুরুষটি তার স্ত্রীর উপরও নির্যাতন চালিয়েছেন শারীরিক ও মানসিকভাবে। ভদ্র মহিলা অসংখ্যবার পুলিশে কমপ্লেইন করেছে, ৯৯৯ এ কল করে সহযোগিতা চেয়েছে, থানায় জিডি করেছে। কিন্তু কোথাও কোন সহযোগিতা পায়নি।

এই সমাজে একজন নারী শুধুমাত্র নারী হিসেবেই নয়, স্ত্রী হিসেবে এবং কন্যা সন্তানের মা হিসেবেও প্রায়ঃশই অনিরাপদ বোধ করেন বা অনিরাপদ ভাবতে বাধ্য হোন। একজন ডিভোর্সি নারী হিসেবে সমাজ এই নারীটিকে যে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়, কিন্তু একজন মা হিসেবেও তাকে পোহাতে হয়েছে একই যন্ত্রণা, কারণ এইক্ষেত্রে ভিকটিম দুজন, শিশু কন্যাটি ও তার মা।

পিতৃত্ব শুধুমাত্র স্পার্ম শেয়ারিং নয়, পিতৃত্ব হচ্ছে তিলে তিলে সন্তানকে স্নেহ, মায়া মমতায় বড় করে তোলা। জন্মলগ্ন থেকে তার দায়িত্ব নিয়ে, সন্তানের কান্না হাসির সাক্ষী হয়ে, স্কুলে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে সন্তানকে সাহস দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সর্বোপরি আদরে আর শাসনে সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলা।

আমি সব পুরুষকে বলছি না, কিন্তু এই সমাজে কিছু পুরুষ শুধুই পুরুষ নামক লিঙ্গসর্বস্ব, যৌন বিকৃত পুরুষরুপী জানোয়ার।এই পুরুষরুপী হায়েনাগুলো ইন্দ্রিয়পরায়ণতার জন্যই সমাজটা এতো কলুষিত। এরা কখনই কারো বাবা, ভাই, স্বামী বা বন্ধুর পরিচয়ে পরিচিতি পেতে পারে না। এরা সবসময়ই মানুষরুপী জানোয়ার।

সহকারী অধ্যাপক
ইংরেজি বিভাগ, জা.বি.

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 109
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    109
    Shares

লেখাটি ৫৮২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.