আই উইশ আয়শা, তাহা’দের জন্যও দাঁড়াতো পুরুষগুলো!

দিলশানা পারুল:

গত দুইদিন ধরে নিজেকে পরকীয়া, মিতু বা আত্মহত্যা, এই বিষয়গুলো থেকে দূরে রােখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু নারীর প্রতি আপনাদের উপচে পরা ঘৃণা আমাকে এই লিখাটা লিখতে বাধ্য করলো।

বাংলাদেশে থেকে একটা মেয়ে আমাকে হঠাৎ হঠাৎ ফোন দেয়। ভয়ের চোটে এই মেয়েটার ফোন আমি ধরি না। কারণ ও যে ধরনের সমস্যা বলে তাতে কী বলতে হয় আমি জানি না। একদিন কাঁদতে কাঁদতে দম বন্ধ করে ফেলার মতো করে বললো, ওর স্বামী পরকিয়া করে সেইটাও সমস্যা না, সমস্যা সে বাইরে ডেট করে এসে নিয়ম করে বৌকে পেটায়। একদিন মাথায় বাড়ি দিয়ে অজ্ঞানও করে ফেলেছিলো। এই যে মেয়েটা সে ছেলেটাকে ছেড়ে যায় না কেন? কারণ মেয়েটা এইচএসসি পাশ করার পর প্রেম করে পালিয়ে যাওয়ায় বাবা-মা বলেছে তার দায়িত্ব তারা নেবে না। তার দুইটা কন্যা সন্তান। এই দুই সন্তানের ভরণপোষণ দেয়ার মতো ক্ষমতা তার নেই। তার সত্যিকার অর্থেই যাওয়ার কোন জায়গা নেই।

তার স্বামী যে মেয়েটার সাথে পরকিয়া করে, সেও তো নারী, তাই না? তাহলে দোষতো নারী-পুরুষ দুইজনেরই, তাই না? শুধু ছোট্ট একটা পাথর্ক্য। অপর নারীটি ঘরে ফিরে স্বামীকে পেটায় না। কিন্তু পুরুষটি ঘরে ফিরে নিয়ম করে স্ত্রীকে পেটায়।

নওগাঁ গেছি বেইস লাইনের ডাটা কালেকশনের জন্য। চোখের সামনে দেখলাম ভর দুপুরে এক পুরুষ তার স্ত্রীকে বেধড়ক পেটাচ্ছে, পাড়াভর্তি লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। অল্প বয়সী ছেলেগুলো দাঁত কেলিয়ে হাসছে। বললাম কী বিষয়? বৌ বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে পরপুরুষের সাথে কথা বলেছে। এবং স্বামীর মনে হয়েছে, সে সেই পুরুষের সাথে পরকিয়া করে। তার আগে আরো দুইটা বৌ ছিলো।

আমি এমন নারী চিনি, যার স্বামী নিয়মিত বিরতিতে নিয়ম করে কাজের মেয়ের সাথে সহবাস করে, তিনি সেইটা জেনে না জানার ভাণ করেন, কারন তার দুইটা সন্তান আছে। আমি এমন গুটি কয়েক পুরুষ এর কথা ব্যক্তিগতভাবে জানি যারা ১৪ বছর বয়স থেকে বাড়ির কাজের মেয়ের সাথে যৌন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতো। প্রেমিকা শরীরী সম্পর্কে রাজী নয় বলে প্রেমিক পতিতালয়ে নিয়ম করে যায়। প্রেমিকা শরীরী সম্পর্কে রাজি নয় বলে প্রেমিক অন্য নারীকে প্রেম নিবেদন করেছে।

বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে এইচআইভি এইডস ছড়ায় কীভাবে জানেন? সবচেয়ে বেশি সংখ্যক স্বামীর মাধ্যমে। তার মধ্যে দেশের বাইরে একা যে পুরুষ থাকে, সবচেয়ে বেশি ছড়ায় তাদের মাধমে। বাংলাদেশের যৌনকর্মীরা এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হয়, কারণ তাদের খদ্দেররা কনডম পরতে রাজি হয় না। উঠতি বয়সে বেশির ভাগ মেয়ে বড় হয় বুকে এবং পশ্চাত দেশে অবাঞ্ছিত হাতের কুৎসিত অভিজ্ঞতা নিয়ে।

এইগুলা যে বললাম, এইগুলা হলো ফ্যাক্টস! এখন এই বাস্তবতা কি মিতুর পরকিয়ার মতো জঘন্য (?) অপরাধকে জাস্টিফাই করে?

এই উত্তর দেয়ার আগে আমার কিছু প্রশ্ন আছে:
১. মিতুকে মারলো কে? কেন? স্বীকারোক্তি গ্রহণের উদ্দেশ্য কী ছিলো?
২. আমেরকিা থেকে ফেরত মিতু আবার আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিলো কিনা? তার কি স্বামীকে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো?

আপনি যেমন জানেন না, আমিও জানি না। ঠিক যেমন জানি না এবং প্রমাণ নেই মিতু আসলেই পরকিয়া করেছিলো কিনা। কারন যেই ভিডিও আপ হয়েছে, সেইখানে স্পষ্টত তাকে ভয় দেখিয়ে, মারধর করে, রক্তাক্ত করে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। যেই স্বীকারোক্তি সত্যি ধরে নেয়ার কারণ নেই।

গত মাসে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিলো। পরিবার থেকে সুনির্দিষ্ট নাম ধরে বিচার চাওয়া হয়েছিলো আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য। কেউ আ্যরেস্ট হয়েছে? মিতুকে কিন্তু ঠিকই ডাণ্ডা বেড়ি পরিয়ে হ্যাচরাতে হ্যাচরাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এবার আসি জাস্টিস ফর আকাশ। আই উইশ এতোগুলো লোক আয়শার জন্য আয়শার মায়ের সাথে জড়ো হতো! আই উইশ জাস্টিস ফর তাহা বলে আমাদের পুরুষেরা আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করতো! আই উইশ আই উইশ আই উইশ …! কিন্তু সেই উইশ ধুলোয় মিশে যায় যখন দেখি সদা বিপ্লবী, মেলা বই পড়া তত্ত্ব কপচানো পুরুষটিও যখন কেবলই পুরুষ হয়ে যায়!

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.