নারী জীবনের ভয় যখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে

0

সায়ণী সিংহ রায়:

বারান্দা দিয়ে ঢুকে শুরুতেই আমাদের ঘর। সকালে যখন কাকিমা রান্না করতে আসে, আমি উঠে দরজা খুলে দিই। কাকিমা রান্নাঘরে চলে গেলে আমি বন্ধ করি। নিজে হাতে। যদি আমার ঘুমের মধ্যে কুট্টুসকে কেউ নিয়ে যায়।

রমিত বেরিয়ে যাওয়ার পরে আরেকজন কাকিমা আসে। ঘর মোছে, বাসন মাজে। এই সময়টায় আমি ছাদে যাই। জামাকাপড় মেলে দিই। কোনোদিন কুট্টুস ঘুমায়। কাকিমা চলে যায়। আমি ছুটে গিয়ে দরজা দিই। আমি বাথরুমে যেতে ভয় পাই।কুট্টুসকে কেউ নিয়ে যায় যদি!

আমি কারো কাছে ওকে রেখে যেতে ভয় পাই। আমি ফেসবুক খুলি। আঠাশ দিন থেকে আট মাসের “রক্তাক্ত যোনি” (রেচনাঙ্গ বই কিছু নয়!) আমায় ভয় দেখায়। দাদু থেকে পিসতুতো দাদা, পাড়ার উঠতি যুবক থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ, মামা থেকে বাবা, সবাইকে সন্দেহ করি।

স্নেহ আর পার্ভারশন এর তফাত করি চোখ কুঁচকে। কুট্টুস ঝড়ের মতো বড় হয়। বসতে শেখে, হামাগুড়ি দ্যায়, দাঁড়ায়, এগোয় এক পা, এক পা। আমি ভয় পাই। ওর স্কুলে লুকিয়ে থাকতে পারে সেই দুষ্টু কাকুটা।

আমি অপারেশন টেবিলে শুয়ে সবুজ কাপড়ে জড়ানো কুট্টুস এর রেচনাঙ্গ দেখে ভাবি, “কেন জন্মালি মা? আমার শরীরেই তো থাকতে পারতিস!”

আমি ওর হিসু পটি পরিষ্কার করতে গিয়ে ভাবি, কীভাবে সম্ভব! আমি ভাবি ওর শরীরটা লৌহবর্মে ঢেকে দিই।

আমার ভয় করে ফেসবুকে ওর মতো কোনো খুদের নেংটুপুটু ছবি দেখলে। কোন পিডোফাইল লুকিয়ে আছে কোথায়! হয়তো “উলি বাবালে” কমেন্ট করা একজনের মধ্যেই!

সন্দেহ করতে চাই না জানেন! তবু করি। যে বয়সে হয়তো অন্য বাচ্চার মায়েরা পেট খারাপ, জ্বর, টীকা নিয়ে ভাবে, আমি এসব ভাবি। বাধ্য হই।

আমি ভুলতে পারি না টানা দুঘন্টা রেপ হওয়া বাচ্চাটার বয়স দেড় বছর। সবার সব কুট্টুসদের জন্য আমি ভয় পাই। ঘুমের মধ্যেও আঁতকে উঠি। ব্যস্ততা দিয়ে চাপা দিই সব।

মাঝে-মধ্যে শুধু “ঘটনা” হতে থাকা খুদেগুলোর কান্না ভেসে বেড়ায়।

গতবছর লিখেছিলাম। কিচ্ছু পালটায়নি। স্রেফ ভয়টা বেড়েছে।

শেয়ার করুন:
  • 303
  •  
  •  
  •  
  •  
    303
    Shares

লেখাটি ১,২৯১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.