মেয়েরা যখন কষ্টগুলো আপন করে নেয়

0

তাসলিমা শাম্মী:

একটানা দুই থেকে তিনদিন ধরে তলপেটের নিচে থেকে থেকে তীব্র একটা ধারালো যন্ত্রণা…সাথে সারা শরীর জুড়ে জ্বর জ্বর ব্যথা, মাথায় ভোঁতা একটা যন্ত্রণা, খিটখিটে মেজাজ আর সেই সাথে অনবরত শরীর থেকে ঝরতে থাকা দুষিত, চিটচিটে তরলের আড়ষ্টতা…! সেই বারো, তেরো বছর বয়স হবার পর থেকে একজন বাচ্চা মানুষের মানুষ হিসেবে নয়, একজন মেয়ে হিসেবে এই কষ্টগুলোকে আপন করে নিতে হয়!

বয়স বাড়তে বাড়তে মানুষটার তলপেটের ব্যথা, শারীরিক যন্ত্রণাগুলো সব একইরকম থাকে, শুধু মানুষটাই অভ্যস্ত হয়ে যায় যন্ত্রণাগুলোর সাথে! কারণ সে জেনে যায় সে সাধারণের মাঝেও বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে জন্মানো একজন মানুষ, একজন মেয়েমানুষ! তার নরম শরীর আর শরীরের সাথে সাথে আবেগগুলোকে লুকিয়ে রাখতে শিখতে হয়! সেই বারো বছর বয়সে পুতুল খেলতে খেলতে পুতুলের শরীরটাকেও ঢেকে রাখতে সে শিখে যায়!

তার জন্যই অভিধানে বিশেষ কিছু শব্দের সৃষ্টি হয়!
এই যন্ত্রণার সাথে সাথে আরো একটা যন্ত্রণা দিনের পর দিন তাঁর নরম শরীরে চেপে রেখে একজন মেয়ে জাগতিক সব কাজ হাসি মুখে করে যায়! সেটা হচ্ছে ওভুলেশন টাইম।

ওভুলেশন টাইমে একজন মেয়ের শরীর খারাপ লাগে কিন্তু। একটানা বসে থাকতে কষ্ট হয়, একটানা কাজ করতে অসহ্য লাগে! প্রতি পাঁচজন মেয়ের একজন ওভুল্যশানের সময় এ ধরণের যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে যায়!! এই যন্ত্রণার বাহ্যিক প্রকাশ হয়না বলে সে নিজেও তাঁর এই ব্যাথাটুকু আমলে আনেনা!!
আহারে মেয়ে!! আহারে মেয়ে!!

কোনদিন কি জানতে ইচ্ছে করেছে আপনার? কেন মাঝে মাঝে আপনার ঘরের বউটির একটু বেশিই আরাম করতে ইচ্ছে করে? কেন সারাদিন তাঁর আলসেমি করে বিছানায় গড়াগড়ি খেয়ে নিজেকে আরাম দিতে ইচ্ছে করে?
কোনদিন একটু ভেবে দেখেছেন নিত্যদিন নীরবে আপনার সব ঝামেলা মিটাতে থাকা বউটির কেন হঠাৎ হঠাৎ অকারণে মেজাজটা খারাপ হয়ে উঠে? সেই সময়টাতে কি গরম এককাপ চায়ের উষ্ণতা দিয়ে দেখেছেন তাঁর নরম হাতে?
আপনি কি কোনদিন একটু জানতে চেয়েছেন? এই সময়টাতে সে কতটুকু জীবন ঝুঁকিতে থাকে?

হয়তো সংসারের সব কাজ করতে করতে সে তাঁর নিজের যত্ন নিতে ভুলে যায়! সে হয়তো মনে রাখারও প্রয়োজন মনে করেনা এই সময়ে তাঁর ঠাণ্ডা পানি, কোমল পানীয়সহ আরো কী কী সব খাওয়া উচিৎ না বলেছিল ডাক্তার! নিজের শরীরের প্রতি একটুখানি উদাসীনতা, অবহেলা তাকে দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, জরায়ু ক্যান্সার, জরায়ুতে ঘাঁ কিংবা বন্ধ্যাত্যের ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়!

একজন পুরুষ নয়, একজন সাথী হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার পাশের মানুষটির যত্ন নিন। ভালবেসে মাঝে মাঝে হটাত করে তাকে জিজ্ঞেস করুন ক্ষুধা লেগেছে কিনা!! সকালের চায়ের মগটা নিয়ে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়ে দেখুন ……আপনার এই মাঝেমধ্যের ভালবাসা বহুগুণ হয়ে আপনার কাছেই ফিরে আসবে। গ্যারান্টি দিলাম।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 991
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    991
    Shares

লেখাটি ২,৮৫৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.