আপনার মেয়েটি ‘নিরাপদ’, তাই আপনি চুপ?

0

অনামিকা রহমান:

ঢাকার গ্রিনরোডে একটি মেয়েশিশু পাশ দিয়ে এক হুজুর যাবার সময় সালাম দেয়। হুজুরটি দু একটি কথা বলে শিশুটির গায়ে হাত দেয়, বুকে চাপ দেয়। যারা জানেন না তাদেরকে বলছি- এটাকে যৌন নির্যাতন বলে। কোন এক বিল্ডিংয়ের তিনতলা থেকে ঘটনাটি দেখে একজন নারী চিৎকার করে লোকটিকে ধরার জন্য সাহায্য চায়। মানবিক মানুষগুলো ছুটে ধরে ফেলে। এরপরের ভিডিওটিই আমি দেখেছি।

হুজুরটি শেষপর্যন্ত হাত জোড় করে বলে -‘হয়ে গেছে’। এই হয়ে যাওয়াটা খুব সাধারণ স্বাভাবিক? ভিডিওতে হুজুরের স্বাভাবিক চেহারা দেখে তাই মনে হয়েছে, বিন্দুমাত্র ভয় কিংবা অপরাধবোধ নেই। হয়তো সে খুব ভালোমতো জানে এই অল্প(!!) পরিমাণ ঘটনায় তার বিচার খুব বেশি হবে না, সে ছাড়া পেয়ে যাবে।
এদেশে যৌন হয়রানির বিচার কতটুকুই হয়? এদেশে ধর্ষণ না হওয়া পর্যন্ত বাকিসব ‘একটু আধটু হয়ে গেছে’ ধরনের ঘটনা। আর নারী মানে যেখানে দুর্বল, পুরুষের কুক্ষিগত সম্পত্তি সেখানে মেয়েমানুষ(!!) গায়ে হাত পড়লে প্রতিবাদ করবে কেনো? এগুলো ‘একটু আধটু হতেই পারে’।

ঘটনার লিংক: https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2230086127231967&id=100006918048711

যে কন্যাশিশুটি এ ঘটনার শিকার হলো, আজ সেই কন্যাশিশুটির কী কী সমস্যা ছিলো? পোশাকের দোষ? আচরণের দোষ? কিংবা যৌবনের দোষ? কোনটাই না। যারা ভিক্টিম ব্লেমিং করে অভ্যস্ত তারা কী বলবেন এখানে? শফি হুজুরের মতো বলবেন-‘মেয়েদের বেশি পড়াশোনা করানো উচিত না?’
আপনারা কবে প্রতিবাদ করবেন, কবে আপনাদের উপলব্ধি হবে যে কোন ঘটনাতেই ভিক্টিমকে ব্লেইম করা মানে হলো সেই ঘটনায় একাত্মতা প্রকাশ করা?
আপনাদের মেয়েটি নিরাপদ হচ্ছে আপনাদের এ অবস্থানের জন্য?
এই পুরুষদের বাড়তে দিতে আপনাদের ভূমিকাও নেই? যে হুজুরটি এই কাজ করলেন তিনি ধর্ম মেনে কী কী শিক্ষা পেলেন? নারী হচ্ছে শস্যক্ষেত্র, নারী ভোগের বস্তু, নারীকে পুরুষের আনন্দদানের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে? নতুবা একজন কন্যাশিশুর গায়ে নিজের আনন্দের জন্য কিভাবে হাত দিতে পারেন তিনি?

বর্তমানে বাংলাদেশে পাবলিক প্লেসে যৌন সহিংসতার শিকার হয় ৯৪% নারী। যাদের একটা বড় অংশ মনে করেন-‘প্রতিবাদ অভিযোগ করে লাভ নেই। নারীর প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি, প্রতিবাদ করলে আরো হ্যারাজড হতে হয়।’ এই কন্যাশিশুটি বড় হয়ে ভুলে যাবে আজকের ঘটনা? নাকি পুরুষের প্রতি তার বিদ্বেষ ভয় ঘৃণা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক হবে?

আমরা কী আমাদের কন্যাশিশুকে একটি নিরাপদ নির্ভরযোগ্য সমাজ দিতে পারছি? যদি না পারি তবে এ কন্যাশিশুদের পৃথিবীতে এনে আমরাই অপরাধী হচ্ছি না কোনভাবে? অপরাধবোধ অবশ্য সবার থাকবে না, কেউ কেউ বলবে-‘এরকম একটু আধটু হতেই পারে’।

নারীদের উচিত একত্রিত হয়ে জোর প্রতিবাদ করে রাষ্ট্রের কানের কাছে বলা-‘আমরা মুক্তি চাই, নিরাপত্তা চাই। আমরা মানুষ।’ রাষ্ট্রযন্ত্র বিকল হলে সময় বসে থাকবে না। হাতে হাত রেখে এদের প্রতিহত করতে হবে। পথে ঘাটে যেখানেই ঘটুক, ধরে সবার আগে ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা পরবর্তী জেনারেশনের কাছে আপনার জবাবদিহিতা আপনাকে কাবু করবে, অপরাধী করবে দ্বিগুণ।

শেয়ার করুন:
  • 934
  •  
  •  
  •  
  •  
    934
    Shares

লেখাটি ১,০৯৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.