ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি এর টিকা কেন প্রয়োজন?

0

ডা. রাহনূমা পারভীন:

এইচপিভি ভাইরাসটি যৌনক্রিয়াকালে ত্বকের সংস্পর্শে এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়ায়। অধিকাংশ যৌনক্রিয়ায় সক্রিয় ব্যক্তি (নারী ও পুরুষ উভয়েই) তাদের জীবদ্দশায় এক বা একাধিক এইচপিভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় (প্রতি ১০ জনে একজন)। কিন্তু এই সংক্রমণ আমাদের অজান্তেই ঘটে। এই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঘটে ১৫-২৫ বছর বয়সে।

প্রায় ৪০ ধরনের এইচ পি ভি ভাইরাস দ্বারা মানুষের জনন অঙ্গের আশে পাশের ত্বক আক্রান্ত হতে পারে। এইসব সংক্রমণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোন উপসর্গ যেমন প্রকাশ পায় না, তেমনি নিজে থেকেই এটা ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু প্রজাতি আছে যারা জরায়ু মুখের ক্যান্সার করে এবং আরো অন্যান্য কিছু ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

সাধারণ যৌনক্রিয়া ছাড়াও ওরাল ও এনাল সেক্সের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। ভাইরাসটি মানবদেহের যে অংশে সংক্রমিত হয়, সে অংশেই ক্যান্সার তৈরি করার ক্ষমতা রাখে। একারণে এটি পায়ুপথ, পেনিস বা পুরুষাঙ্গ, যোনি ও যোনিদ্বারের বিভিন্ন অংশ, এবং মুখগহবর ও গলার অভ্যন্তরের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সার তৈরি করে। যেসব প্রজাতি সৃষ্টি ক্যান্সার করে না, তাদের কিছু কিছু নারী ও পুরুষের যৌনাঙ্গে ও অন্যান্য স্থানে আঁচিল সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো তেমন মারাত্মক রোগ না হলেও অনেক সময় অস্বস্তির সৃষ্টি করে ও এগুলোর চিকিৎসা করাও কিছুটা ঝামেলাজনক।

এইচপিভি এর ভ্যাক্সিন নিলে এই রোগগুলো অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এইচপিভি এর টিকা কত প্রকার?

১। সারভারিক্স। এটি এইচপিভি ১৬ ও ১৮ এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। ক্যান্সার এর জন্য দায়ী প্রজাতিগুলোর মধ্যে এই দু’টোই প্রধান। এই টিকা শুধুমাত্র ৯-২৬ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশে পাওয়া যায়, দাম ইন্টারনেট অনুযায়ী ১০০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত। অধিকাংশ বড় হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে ও গাইনী বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে এই টিকা দেয়া যায়।

২। গার্ডাসিল। এইচপিভি ১৬ ১৮, ৬ ও ১১ এর বিরুদ্ধে কার্যকর। এইচপিভি ৬ ও ১১ ক্যান্সার করে না, তবে এরা যৌনাঙ্গের আঁচিলের কারণ। এই টিকা ছেলে ও মেয়ে উভয়েই দিতে পারে। বাংলাদেশে পাওয়া যায়, কিন্তু সহজলভ্য নয়।

৩। গার্ডাসিল ৯। এটি মোট ৯ টি এইচপিভি প্রজাতির বিরুদ্ধে কার্যকর। তাই জরায়ুমুখের ক্যান্সারের জন্য এটি অধিক কার্যকর। এটাও ছেলে ও মেয়ে উভয়েই নিতে পারে। এটি বাংলাদেশে পাওয়া যায় না।

কোন বয়সের মেয়ে/নারীদের এই ভ্যাক্সিন/টিকা নেয়া উচিৎ?

সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সের মধ্যে এই ভ্যাক্সিন নিতে হয়। তবে ৯-২৬ বছর বয়সের মধ্যে এই ভ্যাক্সিন দেয়া যায়। কারণ এই বয়সে সংক্রমণের হার বেশি। তবে অল্প বয়সে নিলেই ভালো, কারণ সে সময় এন্টিবডি বেশি তৈরি হয়, তাই ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা বেশি হয়।

২৬ বছরের পর এই টিকা নেয়া যায় না?

বর্তমানে ২৬ বছর বয়সের পর এই টিকা দিতে বলা হয় না। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে ২৬ বছরের পরে টিকার কোন কার্যকারিতা নেই বললেই চলে।

২৬ বছর বয়সের পর তাহলে কিভাবে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করবো?

নিয়মিত সময় অনুযায়ী স্ক্রিনিং এ অংশগ্রহণ করতে হবে।

টিকার কয়টি ডোজ নিতে হবে? যদি সবগুলো না দেই তাহলে কি এইচপিভি ইনফেকশন প্রতিরোধ করা যাবে?

১১-১৪ বছর বয়সে নিলে দুইটি ডোজ মাংশপেশিতে ইঞ্জেকশন হিসেবে নিতে হবে। প্রথমে একটি, তার ছয়মাস পর আরেকটি।
এর পরে নিলে তিনটি ডোজ নিতে হবে, প্রথমে একটি, তার একমাস (গার্ডাসিল দুই মাস) ও ছয়মাস পর আরো দুইটি টিকা নিতে হবে। সারভারিক্স ও গারডাসিল দুই টিকার ক্ষেত্রে একই নিয়ম।

সব গুলো ডোজ না নিলে পুরোপুরি সুরক্ষা হবে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তাই সবগুলো ডোজ নেয়া আবশ্যক।

যৌনক্রিয়ায় সক্রিয় (সেক্সুয়ালি এক্টিভ)/বিবাহিত নারীদের এই টিকা দিলে কি কোন সুফল পাওয়া যাবে?

নিয়ম অনুসারে এই টিকা যৌনক্রিয়ায় সক্রিয় হবার পূর্বেই, অর্থাৎ এইচপিভি সংক্রমণ হওয়ার আগেই দিতে হয়। তবে এর পরে যদি এই টিকা নেয়া হয়, তাহলেও কিছু সুফল পাওয়া যাবে, কিন্তু তা আগে নিলে যে সুফল পাওয়া যেত, তার থেকে কম হবে। এর কারণ যৌনক্রিয়ায় সক্রিয় হওয়ার পর পরই আপনি এইচপিভি দ্বারা আক্রান্ত হবেন। তাই আপনি যদি ইতিমধ্যেই এই টিকা যে যে প্রজাতির বিরুদ্ধে কাজ করবে(২-৯টি ভাইরাস প্রজাতি), সেগুলোর এক বা একাধিক দ্বারা আক্রান্ত হন, তাহলে সেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই টিকা কার্যকর হবে না। কিন্তু যে প্রজাতিগুলো এখনো আপনাকে আক্রমণ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিনের সুফল আপনি পাবেন। তাই ভ্যাক্সিন আপনার ক্ষেত্রে আংশিক কার্যকর হবে। তাই আপনি যদি বিয়ের পর বা যৌনক্রিয়ায় সক্রিয় হবার পরেও এই টিকা নিতে চান, নিতে পারেন। তবে আরেকটি ব্যাপার মনে রাখবেন, ৩০ বছর বয়সের পর কোন এক অজ্ঞাত কারণে এই ভাইরাসের সংক্রমিত হওয়ার হার অনেক কমে যায়। তাই ৩০ বছর বয়সের পর এই টিকা্র কার্যকারিতা আরো কমে যায়।

গর্ভবতী নারীরা কি এই টিকা নিতে পারবেন?

গর্ভাবস্থায় এই টিকা দেয়া যায় না। তবে এখন পর্যন্ত গবেষণায় নবজাতকের উপর এই ভ্যাক্সিনের কোন ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি, গবেষণা এখনো চলছে। তাই আপনি যদি এই ভ্যাক্সিন নেবার পর পরই গর্ভবতী হয়ে পড়েন, খুব একটা ভয়ের কিছু নেই। আর প্রেগন্যান্সির কারণে কোন ডোজ বাকী পড়লে বাচ্চার জন্মের পর আপনি তা নিয়ে নিতে পারবেন। তবে অবশ্যই সেসময় এ বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।

টিকা নেয়ার পূর্বে কি জরায়ুমুখের ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করিয়ে নিতে হবে?

ডা. রেহনুমা পারভীন

জরায়ুমুখের ক্যান্সারের স্ক্রিনিং শুরু করা হয় ২১ বছর বয়স থেকে। তাই এর আগে টিকা নিলে কোন স্ক্রিনিং টেস্ট করার প্রয়োজন নেই। আর যদি এর পরে আপনি টিকা নিতে চান তাহলেও কোন প্রকার এইচপিভি টেস্ট বা প্যাপস টেস্ট করতে হবে না।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভ্যাক্সিন নেয়ার পরেও অবশ্যই স্ক্রিনিং এর জন্য নির্দিষ্ট সময়ে তিন বছর পর পর প্যাপস টেস্ট করতে হবে। ভ্যাক্সিন আপনাকে অনেক বড় সুরক্ষা দিলেও সব ধরনের জরায়ুমুখের ক্যান্সার থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিবে না, তাই স্ক্রিনিং করতেই হবে। মনে রাখবেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যতগুলো জরায়ুমুখের ক্যান্সার ধরা পড়ে, তার অধিকাংশই ধরা পড়ে কখনো স্ক্রিনিং টেস্টে অংশ না নেয়া নারী অথবা অনিয়মিত স্ক্রিনিং এ অংশ নেয়া নারীদের ভেতর।

এই টিকা কতটা কার্যকর?

বর্তমানে যে তিন ধরনের ভ্যাক্সিন দেয়া হয় সেগুলো সর্বোচ্চ ৯ টি প্রজাতির ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, এই প্রজাতিগুলোই বেশিরভাগ জরায়মুখের ক্যান্সার, আঁচিল ও অন্যান্য ক্যান্সারের জন্য দায়ী। যদি এই এইচপিভি প্রজাতিগুলো দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই এই ভ্যাক্সিন দেয়া হয় তাহলে তা খুবই কার্যকর। যারা ইতিমধ্যে ঐ এক বা একাধিক প্রজাতির ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাক্সিন অপেক্ষাকৃত কম কার্যকরী। মনে রাখতে হবে, এই ভ্যাক্সিন ভাইরাস দ্বারা ইনফেকশন হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে, কিন্তু একবার ইনফেকশন হয়ে গেলে তা ভালো করতে পারেনা, বা সেই ইনফেকশন থেকে ক্যান্সার বা অন্যান্য রোগ হওয়াও প্রতিরোধ করতে পারেনা।

কতোদিন পর্যন্ত এই টিকার কার্যকারিতা থাকবে?

এই টিকা দীর্ঘদিন সুরক্ষা দেয়। এখন পর্যন্ত বলা হচ্ছে দশ বছরেও এই টিকার কার্যকারিতা অপরিবর্তিত থাকে। সর্বোচ্চ কত বছর প্রটেকশন দেয় সে বিষয়ে আরো গবেষণা চলছে।

এই টিকা নেয়া কি নিরাপদ?

এখন পর্যন্ত গবেষণায় এই টিকার কোন ক্ষতিকর দিক আবিষ্কৃত হয়নি। এই টিকা গুলো যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ (FDA) কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্ত।

যেসব সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে তার মধ্যে আছে টিকা দেয়ার স্থানে ব্যাথা, জ্বর, মাথা ঘুরানো, বমিভাব ও সাময়িক দুর্বলতা। যেহেতু অল্প বয়েসীদের এই টিকা দেয়া হয় তাই অনেক সময় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু এতে ভয়ের কিছু নেই, বিছানায় শুয়ে টিকা নিতে হবে এবং টিকা দেয়ার পর ১৫ মিনিট শুয়ে বা বসে থাকা ভালো।

ছেলে/পুরুষদের জন্য কোন টিকা আছে কি?

গার্ডাসিল ও গার্ডাসিল ৯ টিকা দু’টো ৯-২৬ বছরের ছেলেরা নিতে পারবে। এই টিকা পুরুষদের এইচপিভি ভাইরাস দিয়ে হওয়া বিভিন্ন ক্যান্সার ও আঁচিল প্রতিরোধে সহায়তা করবে এবং পাশাপাশি তার যৌনসাথীরও ক্যান্সার হওয়া প্রতিরোধ করবে। যেসব নারী/পুরুষের একাধিক যৌনসাথী আছে, এমনকি যেসব নারীর পুরুষ সঙ্গীর একাধিক যৌনসাথী আছে তাদের জরায়ুমুখের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই উন্নত বিশ্বে ছেলে-মেয়ে সবাইকে এই টিকা নিতে বলা হয়।

এই টিকা কি সব ধরনের জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম?

না। যে ভাইরাসগুলো জরায়ুমুখের ক্যান্সার করে তার সবগুলোর বিরুদ্ধে এই টিকা কাজ করবে না। তাই সব ধরনের জরায়ুমুখের ক্যান্সার এই টিকা প্রতিরোধ করতে পারবে না।

আমার তো টিকা দেয়া আছে। আমার কি জরায়ুমুখের ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করাতে হবে?

হ্যাঁ। এই টিকা দেয়ার পরেও আপনাকে যৌনক্রিয়ায় সক্রিয় হওয়ার পর ২১ বছর বয়স থেকে নিয়মিত স্ক্রিনিং এ অংশ নিতে হবে। কারণ এই টিকা ক্যান্সারের জন্য দায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাস প্রজাতির কয়েকটির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, সবগুলো ভাইরাসের বিরুদ্ধে দেয়না। তাই সেক্সুয়ালি এক্টিভ হওয়ার আগে বা পরে যখনই এই টিকা নেন না কেন, স্ক্রিনিং অত্যাবশ্যক।

এইচপিভি ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়ার আর কোন উপায় আছে কি?

১। বাল্যবিবাহ রোধ করা। ১৫-২৫ বছর বয়সী নারীদের এইচপিভি সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আক্রান্ত হওয়ার হার কমতে থাকে। ৩০ বছরের পর এই হার অনেক কম।
২।যৌনক্রিয়ায় কনডম ব্যবহার করলে আংশিক প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৩। নিজের যৌনসাথীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকা, যৌনসাথীর সংখ্যা কম রাখা, একাধিক যৌনসাথী ছিল এমন কারো সাথে যৌনসম্পর্কে না জড়ানোর মাধ্যমেও আংশিক প্রতিরোধ সম্ভব।
৪। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, গবেষণায় দেখা গেছে যৌনক্রিয়া ছাড়াও হাতের বা শরীরের অন্য স্থানের ত্বকের সংস্পর্শেও এইচপিভি অনেক সময় ছড়াতে পারে।

টিকা ছাড়া আর কী কী উপায়ে জরায়মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব?

১। নিয়মিত স্ক্রিনিং এ অংশগ্রহণ করা।
২। এইচপিভি ইনফেকশন কমানোর জন্য উপরে বর্নিত ব্যবস্থা নেয়া
৩। ধূমপান ও তামাক জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার (জর্দা, গুল, সাদা পাতা) সম্পূর্ণ পরিহার করা
৪। জরায়ুতে অন্য কোন রোগ বা ইনফেকশন থাকলে তার চিকিৎসা করা
৫। ১৮ বছর বয়সের নীচে গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকা

তথ্যসূত্র: সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন CDC USA

ডা. রাহনূমা পারভীন: মেডিসিন ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।

শেয়ার করুন:
  • 143
  •  
  •  
  •  
  •  
    143
    Shares

লেখাটি ৫১৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.