ধর্মের আগলগুলো ভেঙে পড়ুক একে একে

0

সুষুপ্ত পাঠক:

ভারতের শবরীমালার মন্দিরে ঋতুযোগ্য মহিলাদের প্রবেশাধিকার ছিলো না। ধর্মের এইরকম লিঙ্গ বৈষম্য, হেয় প্রতিপণ্য করা নিয়মের বিরুদ্ধে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট সেই মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকার ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলো। সেই রায় অমান্য করতে মন্দির কর্তৃপক্ষসহ ভক্ত ধর্মান্ধ হিন্দুরা এর বিরোধিতা করতে থাকে। কিন্তু সবাইকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে দুজন নারী মন্দিরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

এই আনন্দের সংবাদে স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জেগেছে, ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট এরকম রায় দিতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ পাকিস্তানের কোর্টগুলো কেন ধর্মকে ছাপিয়ে মানবতার পক্ষে রায় দিতে পারে না?

দুই, মন্দির কৃর্তপক্ষ বাধা দিতে চাইলেও অবশেষে নতজানু হতে বাধ্য হয়েছে, এটা কি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে করা সক্ষম হবে?

মক্কাতে অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই নিষিদ্ধতা কুরআনের একটি আয়াত অনুযায়ী হয়ে থাকে, যেখানে অমুসলিমদের অপবিত্র হিসেবে ঘোষণা করে তাদের কাবাঘরের আশেপাশে নিষিদ্ধ করা হয়। কুরআনের ৯:২৮ আয়াতে মূর্তি পুজারীদের অপবিত্র অপরিচ্ছন্ন উল্লেখ করে আগামী বছর থেকে তাদের এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ধর্মালয়গুলোতে সেই ধর্মের মানুষই যাবে। মসজিদে হিন্দু খ্রিস্টান ইহুদীদের কোন কাজ নাই। তেমনি মন্দিরে মুসলিমদের কোন কাজ নাই। যে দুটি নারী শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের জন্য জান বাজি রেখেছে তারা ভক্তিবতী হিন্দু নারী তেমন নয়। তীর্থ করার জন্য তারা বেছে বেছে শবরীমালাকে বাছাই করেনি। বরং একনিষ্ঠ ভক্ত হলে মন্দিরের বিধিনিষেধকে নতমস্তকে মেনে নিতো তা সেটা যতই নারীদের জন্য অপমানজনক হোক না কেন। কিন্তু একটি মন্দির নারীকে সম্পূর্ণ মানুষ বলে মানছে না এবং গর্বভরে এই শতাব্দীতে এসেও বকু ফুলিয়ে সেটা জারি রেখে যাচ্ছে। ঋতুবতী নারী অপবিত্র, অসুস্থ এরকম পুরুষতান্ত্রিক অসুস্থতার বিরুদ্ধে, নারীর হাজারও বিধিনিষিধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আন্দোলনের এটি একটি অংশ।

তেমনিভাবে মক্কায় অমুসলিমদের প্রতি যে বর্ণবাদী আচরণ, মানুষে মানুষে যে ঘৃণা হিংসা ১৪০০ বছর ধরে লালন করে চলেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত এরকম কোনো ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে। মক্কায় অমুসলিমরা হজ করতে যাবে না। সেটা আহামরি কোন দর্শনীয় স্থানও নয়। কিন্তু যে ঘৃণা জারি রাখা হয়েছে তা ভাঙ্গতে কাবাঘরে ট্যুরিস্টদের প্রবেশাধিকার দেয়া উচিত। এমনকি কাকাঘরের খাদেমের দায়িত্ব পালন করে কেবলমাত্র কুরাইশ বংশধররা। এই ব্রাহ্মণ্যবাদের অবসান করা উচিত।

মুহাম্মদ মক্বা দখল করার পর তার জাতভাইদের হাতেই কাবাঘরের চাবি তুলে দিয়েছিলো। এই কায়েমি স্বার্থ ভাঙ্গা উচিত। ধর্মের সমস্ত অর্গল এক এক করে ভেঙ্গে পড়ুক এই শতাব্দীতে…।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 52
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    52
    Shares

লেখাটি ৪২৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.