নারীর প্রতি নৃশংসতা কখনই রাজনীতি হতে পারে না

0

সাজু বিশ্বাস:

Mother of four ‘gang-raped by AL men’—-নির্বাচনের পরের দিন ডেইলি স্টার প্রথম এই রকম শিরোনামে নিউজটি প্রকাশ করেছিল। সমকাল ঠিক একই নিউজ প্রকাশ করেছে যথাসম্ভব সাফসুতেরো করে। সেখানে কারো নাম নেই, — নির্যাতনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল ভোট দিয়ে ফেরার পথে নির্যাতিতার সাথে কিছু কথা কাটাকাটি হয়।

নির্বাচনের ঠিক পরেরদিন এইরকম একটি চরম সময়ে সরাসরি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নাম নিয়ে নিউজ প্রকাশ করার কথা চিন্তা করতে যে পেরেছে ডেইলি স্টার তার এই সাহসের উৎস কোথায়! এমনকি ব্যবসায়িক ঝুঁকির কথাও চিন্তা করেনি তারা!

সাজু বিশ্বাস

ডেইলি স্টার, প্রথম আলো পত্রিকা দুটির মালিক ট্রান্সকম গ্রুপ। ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান এর কর্ণধার। দেশের প্রথম সারির একজন ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান। ১৯৯৮ সালের ২৩শে এপ্রিল লতিফুর রহমানের নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে শাজনীন তাসনিম রহমান লতিফুর রহমানের নিজের বাড়িতেই বাড়ির গৃহপরিচারক এবং বাড়ি সারাইয়ের ঠিকাদারের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়ে নৃশংসভাবে খুন হয়। সেই বছর ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর থেকে লতিফুর রহমান প্রথম আলো পত্রিকাটির প্রকাশনা শুরু করেন। তারপর থেকে প্রায় কুড়ি বছর শাজনীন হত্যা মামলার টুকিটাকি সমস্ত খবর প্রথম আলো আর ডেইলি স্টারে নিয়মিত এসেছে। শাজনীনের ছোট্ট এক টুকরো মুখের সাথে হৃদয় বিদীর্ণ করা এই খবর কুড়ি বছর ব্যবসায়ী লতিফুর রহমানকে বুকে করে বয়ে বেড়াতে হয়েছে। নিজের বাড়িতেই এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিভৎস থাবা থেকে একজন অন্যতম প্রভাবশালী হবার পরেও নিজের কন্যাকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রায় কুড়ি বছর মামলার বিচার আচার শেষে একমাত্র শহীদুলের ফাঁসি হয় এবং মামলার বাকি আসামিরা খালাস পায়।

লতিফুর রহমান জানেন নিজের বাড়ির কাজের লোককে নিজের কন্যা হত্যার বিচারের শাস্তি দিতে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে! বিশ বছরে এই বাংলাদেশের পদ্মা মেঘনা দিয়ে কত পানি গড়িয়ে গেছে! অবশেষে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রায়ে কুড়ি বছরের মাথায় গিয়ে ঠেকলো শাজনীন হত্যার শাস্তি!

একজন সাধারণ মেয়ের বেলায় তাহলে কী হয়! যার লতিফুর রহমানের মতো বাবা নেই, যার মোটে ভাঙাচোরা একটি পরিবার, যে তিনটি বা চারটি সন্তানের জননী, যার অটোরিকশা চালক স্বামী দিনে দুই বেলা পরিবারের বাচ্চাগুলির মুখে মোটা ভাত তুলে দিতেই জান-হয়রান হোন,— সেই পরিবারের স্ত্রীলোকটি যদি এই রকম নির্মম নির্যাতনের শিকার হোন, —- সেই পরিবারের কী হয় তাহলে!

ডেইলি স্টার হয়তো নিজের কুড়ি বছর ধরে বয়ে নিয়ে আসা টুকরো কাগজের সংবাদটিকে চোখের সামনে আবার জ্যান্ত হয়ে উঠতে দেখেছিল!

আমাদের ভাগ্য ভালো এই পারুল আক্তার-পূর্ণিমারা বেঁচে আছে। সবাই শাজনীন হয়ে যায়নি। আমাদের হাইকোর্টের সামনে কুড়ি বছরের ধিকিধিকি আগুন বুকে নিয়ে আর কোনও লতিফুর রহমান প্রতীক্ষা করে বসে নেই।

আমাদের সামনে সুযোগ আছে এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার। তা হলো, কারণে অকারণে নারীর উপর পুরুষদণ্ডকে সম্বল করে ঝাঁপিয়ে পড়া এই পশুগুলোর যথাসম্ভব দ্রুত বিচার করা। সবকিছু রাজনীতি নয়। বিশেষত কোনো নারীর প্রতি এই নিষ্ঠুর আচরণ স্রেফ জঘন্য অপরাধ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 108
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    108
    Shares

লেখাটি ২৭৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.