ভোট ডাকাতির ‘আফটার শক’ সবে শুরু

0

দিলশানা পারুল:

নোয়াখালীতে চার বাচ্চার মাকে আওয়ামী লীগে ভোট না দেয়ায় ১০-১২ জন আওয়ামী লীগ ক্যাডার রাতভর গণ ধর্ষণ করে সকালে পুকুর পাড়ে ফেলে রেখে গেছে। খবর মানবজমিন এবং ডেইলি স্টার। চলেন এই ধর্ষণের মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বছর এবং বিজয় উদযাপন শুরু করি।

প্রত্যেকটি ক্রিয়ার একটা আফটার ইফেক্ট থাকে। একটা ছোট ভূমিকম্প হওয়ার পরে একটা বড় ভূমিকম্প হয়। একটা ভূমিকম্প হওয়ার পর একটা সুনামী হয়। না আমি কোন আশার আলোর কথা বলছি না। শুধু একটা আফটার নির্বাচন ইফেক্ট এজামপশন শেয়ার করতে চাচ্ছি।

৩০ ডিসেম্বর আওয়াী লীগ ঠিক কাদের উপর ভর করে নিবার্চন ডাকাতিটা সম্পন্ন করলো? ছোট বড় অসংখ্য ব্যক্তিগত ঘটনা যেইগুলা ফেবুতে শেয়ার করা হয়েছে, সেইখান থেকে আমরা দেখতে পেরেছি যে প্রত্যেকটা ভোট কেন্দ্রে একদল আওয়ামী লীগের ট্যাগমারা লোক ভোট কেন্দ্রের সামনে জোটবদ্ধ অবস্থায় ছিলো এবং বুথের ভিতরে এদের প্রতিনিধি ছিলো।

যারা গোপন ভোটের জায়গায় দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করেছে ভোটটা যেন নৌকায় পড়ে, ভোটারদের ধাওয়া দিয়েছে, ব্যালট বাক্স আগেই ভরে ফেলেছে জাল ভোট দিয়ে, জাল ভোটার সংগ্রহ করে জাল ভোট দেয়া নিশ্চিত করেছে, লোকজনকে ভয় দেখিয়েছে, ত্রাস সৃষ্টি করেছে, মেরেছে। এই যে এতোগুলা অন্যায় এবং বেআঈনী কাজ করলো, রিস্ক নিলো সেইটা কীসের আসায়? আপনার কি মনে হয় বংগবন্ধু কন্যার প্রতি তাদের বিশাল ভালোবাসা উপচে পড়ছে, সেই জন্য? ডু ইউ থিংক সো?

আমার এক বন্ধু আছে রাসেল, বঙ্গব্নধু যার অস্তিত্বের অংশ। শেখ মুজিবের প্রতি ওর তীব্র ভালোবাসা আমি দেখেছি। ৩২ নাম্বার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মোমবাতি নিয়ে কষ্টে নীল হয়ে যাওয়া ওর মুখ আমি দেখেছি। এই রাসেলকেই যদি খুন করে ফেলার হুমকি দেয়া হয় ও এই কাজগুলা নিজে করবে না। কেন? কারণ ওর ভিতর নীতি আছে।

এইবার ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির যে হিরোগুলা আছে, তাদের কথায় আসি। আপনার কি মনে হয় না প্রত্যেকটা এলাকায় নৌকাপন্থী যে এমপি হলেন, তারা মোটামুটি এই সব গুণ্ডাগুলার কেনা হয়ে গেলেন? কারণ হিসাব তো সহজ, তোমারে আমি জিতিয়ে নিয়ে এসেছি, আমি না থাকলে তুমি জিততে পারতা না। কাজেই তোমারে এখন চলতে হবে এই গুন্ডাগুলার কথায়।
এক সরকারের পক্ষে ভোট ডাকাতি করার সুযোগ করে দিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ের এই গুন্ডাবাহিনীগুলাকে কী পরিমাণ এমপাওয়ারড করে দেয়া হলো, সেইটা কি আমরা বুঝতে পারছি?

৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি করার ক্ষমতা দিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আসলে এইসব আঞ্চলিক গুন্ডাবাহিনীকে যা ইচ্ছা তাই করার ম্যানডেট দিয়ে দিলো। সবে তো একটা গণধর্ষণের খবর ছাপা হলো।

ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে আমি গুণতে বসবো একমাসে মোট কয়টা ধর্ষণের ঘটনা ঘটলো! রেডি ফর দ্যা ভোট ডাকাতির আফটার ইফেক্ট সুইট হার্ট। ইউ পিপল আর রিয়েলি সুইটহার্ট।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 4.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4.6K
    Shares

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.