ফিফটি-ফিফটিতে কেনো পুরুষের আতংক?

0

শাফিনেওয়াজ শিপু:

যে কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেয়ারিং ও কেয়ারিং যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা ইংরেজরা খুব ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে এই শেয়ারিং ও কেয়ারিং এর আরো একটি বিশেষ নাম আছে, যা কিনা “ফিফটি-ফিফটি” নামে পরিচিত। আগে ভাবতাম এ কেমন ভালবাসা বা সম্পর্ক যেখানে “ফিফটি-ফিফটি” শব্দটি থাকবে!
কারণ এই দুটি শব্দের সাথে আমরা একেবারে অপরিচিত। যখন কফি শপে কাজ করতাম তখন দেখতাম গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড ও পার্টনার থেকে শুরু করে এমনকি স্বামী-স্ত্রী পর্যন্ত খাবারের বিলটি সমানভাবে শেয়ার করতো। সেই সময় খুব বিরক্ত হতাম আর চিন্তা করতাম, হায়রে এই হলো সম্পর্কের গভীরতা বা বহি:প্রকাশ, যেখানে সবকিছুতে সমান সমান ভাগ থাকবে।
তবে ইংরেজরা এটিকে অভ্যাস ও নিয়মে পরিণত করে ফেলেছেন, কিন্তু আমরা বাঙ্গালীরা তার চিত্র ও সংজ্ঞা পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলেছি, মানে এই “ফিফটি-ফিফটি” কে আমাদের মতো করে আমরা ব্যবহার করছি।

হাস্যকর ব্যাপার হলো, যেখানে এই নিয়মের কারণে এই দেশের নারীরা শান্তি খুঁজে পেলো, সেখানে পুরুষদের ঘুম সারা জীবনের জন্য হারাম হয়ে গেলো। তবে সেটা শুধুমাত্র এশিয়ান কিংবা বাঙালী পুরুষদের ক্ষেত্রে।

আমারই একজন পরিচিত মানুষ, যিনি কিনা এই দেশে প্রায় ১৬ বছর ধরে আছেন। কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলো দীর্ঘ সময় ধরে এই দেশে থাকার পরও কেন বাড়ি কিনতে পারছেন না? ওপর সাইড থেকে প্রশ্নটির উত্তর এমনভাবে আসলো যা হয়তো আমার চিন্তার বাইরে ছিলো।
আপা বললেন, “আপনার ভাই তো অনেক চিন্তা করে বাড়ি-গাড়ি করছেন না, কারণ তিনি খুব ভালো করে জানেন যদি কখনো আমাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়, তাহলে তো সব সম্পত্তি দুই পক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যাবে এই দেশের নিয়ম অনুযায়ী। এজন্য তিনি কিছুই করতে চান না।”
আমি তখন না হেসে পারলাম না। শুধু কথায় কথায় আমরা ব্রিটিশদের গালি দেই, কিংবা ভুল ধরি, কিন্তু আমরা যে কতো খারাপ বা কতো নিচে নামতে পারি তা আসলে বলাবাহুল্য।

সবে তো মাত্র একজনের কথা বললাম, আরো একজন আছেন যিনি কিনা সব কিছু সহ্য করে যাচ্ছেন। তিনি জানেন তাঁর স্বামী পরকিয়া করছেন, কিন্তু এই আপা যখন ডিভোর্স চান, তখন তার স্বামী ছেলেমেয়েদের দোহাই দিয়ে আপাকে ইমোশনাল করে ফেলেন। কারণ তিনি জানেন, স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলে সম্পত্তি অর্ধেক হয়ে যাবে। এতোদিনের গড়ে তোলা সম্পত্তি তার অর্ধেক অংশ নিয়ে যাবেন তার স্ত্রী?? প্রশ্নই উঠে না।

এই রকম কাহিনী যে শুধু এই আপার ক্ষেত্রে তা নয়, অনেকেই আছেন এই দেশে, তবে সেটি প্রকাশ হয় না। আবার কিছু মানুষও আছেন যারা লিভ-টুগেদার করছেন, কিংবা একাধিক বিয়ে করছেন প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই। কারণ সব পুরুষেরই মধ্যে এই ফিফটি-ফিফটি আতংক কাজ করে। কী অদ্ভুত!

এমনও শুনেছি অনেকের কাছে এইদেশে কেউ কেউ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন, কিন্তু ব্রিটিশদের নিয়ম অনুযায়ী রেজিষ্ট্রি করে না শুধুমাত্র ঐ একটি কারণের জন্য।

তবে শুধু যে এর নেগেটিভ দিক আছে তা নয়, এমনকি পজেটিভ দিকও আছে। তালাক বা ডিভোর্স হলে সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়ে নারীরা, বিশেষ করে আর্থিক দিক দিয়ে, আর যদি ছেলেমেয়ে থাকে তাহলে তো কথাই নেই। হয়তো এই নিয়মের কারণেই আজকে এই দেশের নারীরা মাথা উঁচু করে জীবনযাপন করছে। তোয়াক্কা করছে না তার স্বামী তার সাথে আছে কি না!

চিন্তা করুন আমাদের দেশে যদি এই নিয়মটি থাকতো, তাহলে নারীরা এতো সমস্যায় পড়তো না, আর কথায় কথায় পুরুষরা নারীদেরকে যখন তখন তিন তালাক বলে ডিভোর্স কিংবা একাধিক বিয়েও করতে পারতো না। কিন্তু আমরা কতোটাই অভাগা যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী হওয়া সত্ত্বেও এখনো পারলাম না নিজেদেরকে প্রতিটি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে।

শেয়ার করুন:
  • 164
  •  
  •  
  •  
  •  
    164
    Shares

লেখাটি ১,১২৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.