“বেকার ছেলের বিয়ে ও চাকরিরতা নারী”

0

সুমিত রায়:

যারা মনে করে চাকুরিরতা মেয়েদের উচিত বেকার ছেলেদের বিয়ে করা, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা:

প্রথমত, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রী পাত্রের থেকে বেশি সুন্দরী হলে আপত্তি নেই। কিন্তু শিক্ষায় নিম্নতর হবে, অর্থনৈতিকভাবে কম ক্ষমতাসম্পন্ন হবে, হাইটে কম হবে। এই নিয়ম পুরুষতন্ত্রই তৈরি করেছে যাতে নারীজাতিকে চিরকাল দাস বানিয়ে রাখা যায়। হাজার বছর ধরে তৈরি এই নিয়ম এতো সহজে ভেঙে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। সময় লাগবে।

দ্বিতীয়ত, বিয়েটা কোনো monetary contract নয়। যার যাকে ভাল লাগবে সে তাকে বিয়ে করবে।

তৃতীয়ত, বিয়েটা অর্থনৈতিক চুক্তি যদি ধরে নিই (এক অর্থে ব্যাপারটা কিছুটা তাই, যেহেতু পণের বিষয় এর সথে যুক্ত) তাহলে বলব চাকরিরতা মেয়েরা বেকার ছেলেদের বিয়ে করতে রাজি আছে। কিন্তু বিশেষ শর্তে।

ছেলেদের বিয়ের পর মেয়ের বাড়ি গিয়ে থাকতে হবে। মেয়ের বাবা মাকে বাবা মা বলে ডাকতে হবে। ঘরের কাজ করতে হবে। রান্না করা, জামাকাপড় কাচা, বউ অফিস যাওয়ার সময় বউয়ের জামা-কাপড় রেডি রাখা, বউ স্নান করতে গেলে তোয়ালে সাবান সব এগিয়ে দেওয়া, শ্বশুর-শাশুড়ির যত্ন নেওয়া, বউয়ের শাড়ি, জামাকাপড়, ব্রা, প্যান্টি কেচে, রোদে শুকিয়ে ভাঁজ করে রাখা।
বউ অফিস থেকে এলে বউ যখন টিভিতে খবর শুনবে, তখন গরম চা সাপ্লাই দেওয়া। বউ মাঝে-সাঝে গালমন্দ করবে, কখনও মেজাজ হারিয়ে চড় থাপ্পড়ও দেবে। সেগুলি গুরুজনের আশীর্বাদ হিসাবে গ্রহণ করা। বউয়ের খাওয়া হয়ে গেলে বিছানা রেডি করে মশারি টাঙিয়ে দেওয়া। সিগারেট, এস্ট্রে, লাইটার যথা স্থানে রাখা, বউ যখনই সেক্স করতে চাইবে ইচ্ছে না থাকলেও সেটাকে ভগবানের ইচ্ছা হিসেবে গ্রহণ করা। সেক্স করার পরই বউ উল্টো দিকে ঘুরে শুয়ে পড়বে। তখন বাজে বকবক করে তাকে বিরক্ত না করা। কারণ কাল তার অফিস আছে।

যতটা সম্ভব ঘরের মধ্যেই থাকা। রান্নাঘর, বাথরুম আর বেডরুম এর মধ্যেই থাকার চেষ্টা করা। বাইরে যত কম বেরুনো হয়, ততোই ভাল। বাপের বাড়িতে শুধু পুজোতে জামাকাপড় দিতে যাওয়া। বউ অফিস থেকে ফিরে খেয়েদেয়ে বান্ধবীর বাড়ি বা চায়ের দোকানে ঠেক করতে যাবে। অফিসে এতো চাপ। একটু রিলাক্সেসন। তখন অযথা ‘কোথায় যাচ্ছো’, ‘কখন ফিরবে’ এসব বলে বিরক্ত না করা। বউ মাঝেসাঝে বান্ধবীদের ঘরে নিয়ে এসে আড্ডা দেবে। তখন সিগারেট আর প্রতি পেগ-এর মাঝে চিপস চিকেন পাকোরা সাপ্লাই দেওয়া। চিকেন কষা রান্না করে খাইয়ে সবার কাছে বউয়ের মান রক্ষা করা। সারাদিন বাচ্চা দেখাশোনা করা, খাওয়ানো, পটি করানো, ঘুম পাড়ানো, ইস্কুলের হোমওয়ার্ক করানো। আর এই সবকিছুর বদলে বউ স্বামীর সারাজীবন ভাত-কাপড়ের দায়িত্ব নেবে, বিবাহবার্ষিকীতে জামা কিনে দেবে, আর মাসে একদিন সিনেমা দেখতে নিয়ে যাবে।

লেখক:
সুমিত রায়, কল্যাণী, পশ্চিমবঙ্গ

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.1K
    Shares

লেখাটি ৪,৯০৩ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.