স্ত্রী’র মা-বাবার সেবায় একজন ‘স্বামী’ কেন নয়!

0

সৈয়দা সাজিয়া আফরীন:

ক এবং গ দুজন সহকর্মী। ক নারী, গ পুরুষ। দুজনেরই প্রায় কাছাকাছি আয়। টেনেটুনে একটা পরিবার চালানোর মতো। বেশি না। গ বিয়ে করছেন মূলত তার অসুস্থ মায়ের সেবার জন্য। যেহেতু গ’কে আয় করতে বাইরে দূরের শহরে থাকতে হবে, মায়ের সেবার জন্য বউকে থাকতে হবে মায়ের কাছে।

সেবার জন্য নার্স বা কাজের লোক বেশ এক্সপেন্সিভ। বিয়েটাই সহজ। ফিক্সড কোন বেতন নেই দিতে হয় না।

ক নারী, তারও বাবা মা আছে। ক এরও দায়িত্ব আছে। অর্থে টান আছে। চাকরি করতে বাইরে থাকতে হবে। অথচ সেবার জন্য কাউকে দরকার। ক কি এক্ষেত্রে বিয়ের জন্য একটা ছেলে দেখতে পারে? যে ছেলে ক এর বাবা মায়ের সেবা করবে!

যেহেতু অর্থে টান। বিয়ের মাধ্যমে পাওয়া হাউজ ওয়ার্কারের ফিক্সড বেতন নেই। বিয়েটা ক এর জন্যও খুব উপকারী হতে পারে।

আমি ট্রল বা স্যারকাজম করতে আসি নাই। বাবা মা, সে যে কারো বাবা মা, ছেলের বা মেয়ের, সম্মান এবং যত্ন পাবার অধিকার রাখেন।

কিন্তু অন্যের মেয়েকে দিয়ে শারীরিক এবং মানসিক এই শ্রম নেয়া কতটা মানবিক? মেয়েটা যতোই দরিদ্রই হোক না কেন, একটা দরিদ্র ছেলে যেটা করতে চাইবে না, সেটা মেয়েকে দিয়ে কেন?

কাজের লোক খুঁজতে খুঁজতেও পাই না। পেলেও কয়েকদিনে চলে যায়। থাকলেও হাতে গোনা কাজগুলা বাদে অন্য দায়িত্ব নিতে চায় না। কারণ ঘরের কাজগুলো কষ্টের, একার এবং ভীষণ ক্লান্তির। সেজন্যেই গৃহস্থালী কাজে এখন বেতন দিলেও মেয়ে পাওয়া যায় না।

দুজনের সংসার। একজনকে ঘরে থাকতে হয়। অন্যজনকে বাইরে অর্থের যোগান দিতে হয়। সে অর্থে একজন মানে নারীটি ঘরে থাকবেন, ঘরকন্না করবেন, সেটা খানিকটা স্বাভাবিক ঠেকলেও কিছু কথা থেকে যায়।

পুরুষটির পরিবার মানে তার প্যারেন্টাল ফ্যামিলি এবং বিয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ফ্যমিলি। (এবং এই প্যারেন্টাল ফ্যামিলি মানে দায়িত্বের বোঝা এতো এক্সটেন্ডেড হয় চাচা, জ্যাঠা, বিয়ে দেয়া বোন, বোনের তৈরি পরিবার এবং আরো লম্বা)

অন্যদিকে মেয়েটির পরিবার হলো বিয়ে সৃষ্ট এবং যার সাথে তার বিয়ে হলো তার প্যারেন্টাল পরিবার। অর্থ – ছেলেটির অর্থ হবে শুধুমাত্র স্ত্রীর। স্ত্রীর প্যারেন্টাল ফ্যামিলির না। অথচ স্ত্রীর শ্রম হবে স্বামীর এবং (তার যত এক্সটেন্ডেড পরিবার হবে) ওদের সবার।

সম্পর্কটা আসলেই কাজের লোক এবং আউটার টাইপেরই। বরং কাজের লোকেদের উপর যা তা চাপিয়ে দেয়া যায় না। স্ত্রীর ক্ষেত্রে সুযোগ বুঝে যায়। বুঝতে হবে সে কতটা অসহায়। ব্যস এটুকু সহজ ব্যাকরণ সবাই বোঝে।

এবার একটু তুলনায় আসি। সুস্থ বা অসুস্থ মা বা বাবা বা দুজনেই। বিবাহিত বা অবিবাহিত ভাইবোন, শর্ট বা এক্সটেন্ডেড দায়িত্ব। এসবের জন্য দরকার অর্থের সাথে গৃহশ্রমভিত্তিক এবং সেবাভিত্তিক কর্ম।

এই শ্রমের সোর্স বিয়ে? আসলেই? এটাই বিয়ের উদ্দেশ্য? এরকম কথাগুলো শুনে কারো মায়ের মৃত্যুতে যে কষ্টটা পেলাম, তার চে বেশি ওই মানুষটির স্ত্রীর জন্য পেলাম। যাকে বিয়ে করা হয়েছে মায়ের জন্য।

এইটা যদি বিয়ের কারণ হয়, দরিদ্র, আধা দরিদ্র বা কোনভাবে অসহায় মেয়ে যদি টার্গেট হয়, তাহলে এই বিয়ে ধর্মীয় রিচুয়াল না, অন্য ধর্মের বিয়ে নিয়ে জানি না, যেটা পালন করি ইসলাম, সে ধর্মের অন্তত নয়।

অন্যের এবং অন্যের পরিবারের বাসার বা গৃহস্থালীর কাজ করতে পাঠাতে কন্যা সন্তান পেলেপুলে বড় করা আসলেই তো অনিচ্ছার। এটিকে বৈধ বা মানবিক বলা হলে আমি দোয়া করবো, পৃথিবীতে আর একটি কন্যাও না আসুক।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.2K
    Shares

লেখাটি ৩,২১৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.