ছেলেরা বিয়ে করতে সাবধান

0

তামান্না ইসলাম:

আমার এক পরিচিত সরকারি কর্মকর্তা একবার কথা প্রসঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় তার চাকরির অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রামে-গঞ্জে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। অত্যন্ত সৎ এবং কর্মঠ হিসেবে সুনাম আছে।
তাঁর মুখেই শুনেছিলাম যে, গ্রামে যখন একের সাথে অপরের শত্রুতা থাকে, তখন সেই শত্রুতা বশত অনেক সময়ই মিথ্যা ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়।

ব্যাপারটা শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এরকম ঘটনা অহরহই ঘটছে। ভেবে দেখুন যে মেয়ে পেটের দায়ে মরছে, তার কাছে দুটো পয়সার বিনিময়ে এসব মান সম্মান বিক্রি করা মোটেও অসম্ভব কিছু না। অনেক সময় ক্ষমতাশালীদের চাপের মুখেও তাদেরকে এসব করতে হয়। উপরন্তু যেহেতু সবাই জানে এগুলো সাজানো মামলা, এক্ষেত্রে মেয়েটার দুর্নামের ভয়ও কম। সেদিন ওই গল্প শুনে আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। এরকম ঘটনা যদি হর হামেশা হয়, তাহলে যেগুলো আসল ধর্ষণের মামলা, অপরাধীরা সেগুলোকেও সাজানো বলে পার পেয়ে যাবে সহজেই। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন উঠবে না বা উঠলেও সেটাকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে।

তারপর অনেকদিন চলে গেছে। কয়েকদিন হলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে ঘুরছে আই বিএর অধ্যাপক খালেদ মাহমুদের ছবি আর তাঁর গ্রেফতারের ঘটনা। আমি এই ভদ্রলোককে চিনি না। যদিও বুয়েটে আমার একই ডিপার্টমেন্টে পড়ালেখা করেছে, কিন্তু অনেক জুনিয়র।

না, সে বুয়েটে পড়েছে, বিদেশের ডিগ্রিধারী বা ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বলে তাঁর জন্য আমার কোন আলাদা মায়া নেই। এবং, একারণে সে বউয়ের উপরে অত্যাচার করতে পারে না বা কোন মেয়েকে ধর্ষণ করতে পারে না, আমি সেটা মনে করি না। বুয়েটের প্রকৌশলী স্বামী দ্বারা নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনার কথা আমি জানি। কিন্তু এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে যেটা সন্দেহজনক সেটা হলো, খালেদের স্ত্রী এবং শ্বশুর দুজনেই ক্ষমতাশালী, আইনের লোক। তাঁর ছয় বছরের বিবাহিত জীবনে কোন যৌতুক গ্রহণের অভিযোগ উঠলো না, আর ডিভোর্সের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই যৌতুক এবং ধর্ষণের মামালা উঠলো। এটা যে একটা সাজানো মামলা এ ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। তারপরেও প্রশাসন চুপ। তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে জেলে যেতে হয়েছে, মা হয়েছে পলাতক।

এই একই ধরনের একটি ঘটনা দেখেছি পরিচিত মহলে বেশ কয়েক বছর আগে। ছেলেমেয়ের পছন্দের বিয়ে। শখ করেই একমাত্র ছেলের বউ এনেছেন শ্বশুর শাশুড়ি। কিন্তু নব দম্পতির মধ্যে দ্বন্দ্ব যখন তুঙ্গে উঠলো, তখন ছেলের মা, বাবা ভয়ে অস্থির, যদি নারী নির্যাতন বা যৌতুকের মিথ্যা মামলায় তাদের আদরের ছেলেকে বা এমনকি তাদেরকেও ফাঁসিয়ে দেয়।

মনে রাখবেন, এসব মেয়েরা এবং তাদের প্ররোচনাকারীরা সমাজের, বিশেষ করে মেয়েদের শত্রু। ছেলেরা এদের কাছ থেকে সাবধান। ছেলের মা, বাবারাও সাবধান। এদের কারণেই প্রকৃত নারী নির্যাতনকারী, ধর্ষণ, যৌতুকের আসামিরা যথাযথ শাস্তি না পেয়ে আরও সহজেই আইনের ফাঁক গলে বেড়িয়ে আসে। এদের থেকে সবাই সাবধান।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 309
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    309
    Shares

লেখাটি ৩,১৯৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.