#মি টু: নিপীড়কদের চেহারা প্রকাশ হোক

0

উইমেন চ্যাপ্টার:

‘নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াই, নিপীড়কদের ঘৃণা করি; আমরা # মি টু আন্দোলনের পক্ষে, আমরা যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন পেশার নারীদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবির, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক, পারভীন সুলতানা ঝুমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, নারী সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট, উন্নয়ন কর্মীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, “যে নারীরা মুখ খুলেছেন, তারা শুধু মুখ খোলেনি সমাজে নিপীড়কদের চেহারা, তাদের চরিত্র ও পরিচয় উন্মুক্ত করেছে। এসব নারীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

তিনি বলেন, “# মি টু আন্দোলনে দেখেছি, কিছু কিছু ব্যক্তি আমাদের পরিচিত। তারা প্রগতিশীল লেবাসধারী হয়ে তারা মনে করছে, একটা অসহায় ও দুর্বল মেয়ের গায়ে হাত তুলতে পারবে। এই মেয়েরা আজকে মুখ খুলছে। মি টু আন্দোলনে শুধু নয়জনই না, আস্তে আস্তে সকল নারীরা মুখ খুলবে এবং এদের সবার চেহারা উন্মোচন করবে।

“যাকে নিপীড়ন করা হয়েছে তাকে আমরা দোষারোপ করব না। নিপীড়কদের আসল চেহারা আমরা উন্মোচন করতে চাই। এটা হল মি টু’র আসল উদ্দেশ্য।”

গীতি আরা নাসরিন বলেন, নারী অবশ্যই অনেক বেশি নির্যাতনের শিকার হয়, কিন্তু একইসঙ্গে পুরুষেরা নির্যাতনের শিকার হয়। “নারীর ওপর যে নির্যাতন সেটা অনেকটা হিমবাহের মতো। হিমবাহ সমুদ্রের নিচে তার অনেকটা লুকিয়ে রাখে, অল্প একটু ওপরে দেখা যায়। সেই হিমবাহ বিশাল বিশাল জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারে। একই অবস্থা নির্যাতনের। আমাদের সমাজটি একটি ভয়াবহ নির্যাতনমূলক সমাজ।”

নিপীড়নের বিরুদ্ধে অল্প কিছু নারী ও পুরুষ # মি টু আন্দোলন করলেও এই নির্যাতনের বিষয়টি সবার জানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঘরের মধ্যে আমাদের নিজেদের লোক, রাস্তাঘাটে যে কেউ দুর্বলকে নির্যাতন করে। # মি টু কেবল একটা কথা শুরু করেছে। যে জিনিসগুলো আমরা জানতাম কিন্তু চুপ করে থাকতাম, সেই জিনিসগুলোকে স্পষ্ট করছে, সামনে আনছে।”

এই অধ্যাপক আরও বলেন, “এখন সুবিধা হলো যে, চট করে কোনো নিপীড়ন করতে এখন সামান্য হলেও কেউ ভয় পাবে। এটা যতই জোরালো হবে মেয়েরা জানবে, ছেলেরা জানবে যে, নির্যাতন বলে দেওয়া যায়, তখন যারা এই নির্যাতন করে তারা ভয় পেতে শুরু করবে।”

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, “আমরা স্যালুট জানাই মি টু আন্দোলনের অংশ হিসেবে যারা মুখ খুলেছেন। কারণ তারা সাহস করেছেন, সেই সাহস আমি পাচ্ছি না। তিন বছর থেকে এই পর্যন্ত আমরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। নির্যাতনের শিকার হয়নি, এমন মেয়ে কেউ নেই।”
নারীর ওপর নির্যাতন, হয়রানি, লাঞ্ছনা বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা মুখ খুলেছে তারা সাহসী, আগামীতে তাদের পথ ধরে আরও অনেকে এগিয়ে আসবে। যাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, তারা যেসব অফিসে আছেন তাদের কর্তৃপক্ষকে বলেছি যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে সাংবাদিক সাজেদা হক, শাহনাজ শারমিন, শারমিন রিনভী, উদিসা ইসলাম, শেখ মামুন, নাদিয়া শারমিন, উন্নয়ন কর্মী ফেরদৌস আরা রুমী, এক্টিভিস্ট সাদিয়া নাসরিনসহ বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষ বক্তব্য দেন। (সূত্র: বিডিনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম)

 

শেয়ার করুন:
  • 132
  •  
  •  
  •  
  •  
    132
    Shares

লেখাটি ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.