মিটু আন্দোলন পুরুষের বিরুদ্ধে নয়, নিপীড়কের বিরুদ্ধে

0

উইমেন চ্যাপ্টার:

যৌন নিপীড়কের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্যই এই #MeToo আন্দোলন। সামগ্রিকভাবে কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে নয়। ঘরে-বাইরে শিশু ও নারীর নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে এই আন্দোলনে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি মি-টু’র মাধ্যমে ফেসবুকে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন দেশের গণমাধ্যমকর্মী ও #MeToo আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশকারীরা।

#MeToo সলিডারিটি ব্যানারে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক যৌন নিপীড়ন বিরোধী মানববন্ধনে একই সাথে যৌন নিপীড়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহবান জানানো হয়।

‘যৌন নিপীড়নকে না বলুন, নিপীড়কদের বয়কট করুন’স্লোগানে এ মানববন্ধন হয়।

পশ্চিমা দেশ ছাড়িয়ে পাশের দেশ ভারত হয়ে #মি টু আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশে। এ দেশের মেয়েরাও এখন নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্তার ঘটনা প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন। আজকের মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত নয়জন নারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্তার ঘটনা জানা গেছে।

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘দীর্ঘদিন নিজেদের মধ্যে চেপে রাখা এই নিপীড়নের ঘটনা যাঁরা সামনে এনেছেন, তাঁদের স্যালুট জানাই। আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এসেছি।’ এ আন্দোলন পুরুষদের বিরুদ্ধে নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে, উল্লেখ করে এই সাংবাদিক নেত্রী বলেন, ‘সব পুরুষ অপরাধী না। অপরাধীরাই পুরুষ সমাজকে কলঙ্কিত করেছে।’ পুরুষদেরও তিনি এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। নিপীড়কদের মুখোশ খুলে দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে বর্জন করারও আহ্বান জানান তিনি।

নিপীড়ক যতই প্রভাবশালী বা গুণী হোক, তিনি নির্যাতন করে পার পেতে পারেন না, বলে উল্লেখ করেন নাসিমুন আরা হক মিনু। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দেওয়া রায় সব কর্মক্ষেত্রে মানা ও সরকার থেকে এ ব্যাপারে বিশেষ সেল গঠন করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাঠ্যসূচিতেও এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান নাসিমুন আরা। তিনি জানান, ১৮ নভেম্বর রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আরেকটি মানবন্ধন হবে। সেই মানবন্ধনে তিনি সব শ্রেণিপেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মি-টু’তে প্রকাশিত অভিযোগ আমলে নেয়ায় ইংরেজী দৈনিক ডেইলি স্টারের প্রতি সাধুবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ উইমেন জানালিষ্ট ফোরামের সভাপতি মমতাজ বিলকিস বানু বলেন, আমরা আশা করি ডেইলি স্টার অন্য প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
উইমেন জানালিষ্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর নাহার মন্টি বলেন, সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে মি-টু তে নিজেদের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশকারীদের সাহসকে আমরা শ্রদ্ধা ও পূর্ণ সমর্থন জানাই। সেইসাথে তাদের নৈতিকভাবে সমর্থন জানিয়ে মানববন্ধনে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। পাশাপাশি আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরও আস্থা রাখছি। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোন নিপীড়ণের বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান।

বাংলাদেশ উইমেন জানালিষ্ট ফোরামের সাধারন সম্পাদক শারমিন রিনভী বলেন, এমন অনৈতিক আচরণের বহি:প্রকাশে দেশের স্বনামখ্যাতদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে। অভিযুক্তদের আসল চেহারা স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আমরা বিব্রতবোধ করছি। বিষয়টি এখন কমিউনিটির গণ্ডি পেরিয়ে পারিবারিক অঙ্গনেও প্রবেশ করায় যার পরনাই বিব্রত, চিন্তিত আমরা।

মানবন্ধনে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাসিমা সোমা বলেন, যৌন নিপীড়ন বন্ধে পরিবার থেকে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য সকলকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

গণমাধ্যম কর্মী রোকসানা ইয়াছমিন তিথি বলেন, অভিযুক্তদের এমন ঘৃণ্য আচরণে আমরা বিস্মিত। সেই সাথে তাদের এ ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারণ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোর সদস্য হিসেবে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা এবং অভিযুক্তরাও আমন্ত্রিত থাকেন। সেসব অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ সময় আমি বা আমাদের পরিবারের সদস্য অংশ নেন। এতে শঙ্কিত বোধ করছি।

সাংবাদিক উদিসা ইসলাম বলেন, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, এই আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে, যদিও শিশু ও নারী যৌন নিপীড়ন নতুন কোন সমস্যা নয়। যুগের পর যুগ এই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই বেড়ে ওঠেন নারী ও শিশুরা। কিন্তু একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমরা জেনে শুনে আমাদের সন্তানদের যৌন নিপীড়নকারীর সংসর্গে রাখতে পারি না। এই ঘৃন্য অপরাধের জন্য সকল অভিযুক্তের প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন তিনি।

বক্তারা অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, সকল গণমাধ্যমে বয়কট এবং সামাজিক সংগঠনগুলো থেকে তার সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানান।

মানববন্ধনে # মি-টু‘তে অভিযোগকারীদের মধ্যে মুশফিকা লাইজু, নাদিরা দিলরুবা বক্তব্য রাখেন। আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, দেশ ইনফো’র নির্বাহী সম্পাদক সাজেদা হক, সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী, ফাহমিদা আক্তার, রোজী ফেরদৌসী, শাহনাজ শারমীন, রীতা নাহার, কবীর আহমেদ খান, সাইদা জহুরা শাম্মি, জান্নাতুল পান্না, সেবিকা দেবনাথ, বিবার্তা সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি, প্রজন্ম একাত্তর এর আহবায়ক এফ এম শাহীন, রিফাত ফাতিমাসহ আরো অনেকে।
#SolidarityMeTooBangladesh
#MeTooBangladesh
#MeToo

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 156
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    156
    Shares

লেখাটি ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.