মি টু কেবলই নারীর আন্দোলন নয়, পুরুষেরও

0

মোজাফফর হোসেন:

#MeToo পুরুষদের যৌন নির্যাতনের শিকার কেবল নারী ও শিশুকন্যারা না; ছেলেরাও।
২০০৩ সালের ঘটনা। কিছুদিনের জন্য যশোরের নাভারনে আছি। বড়ভাই-ভাবী আকিজ কলেজে পড়ান। সারাদিন একা একা একঘেয়ে কাটে। একদিন বিকালে ঘুরতে ঘুরতে গলির ভিতর সিনেমা হলে ঢুকে পড়েছি। মান্নার ছবি চলছে। উদ্দেশ্যে কিছুটা সময় ব্যয় করে বাসায় ফেরা৷ সিনেমা শুরু হওয়ার খানিক পরেই পাশের লোকটা আমার বাম হাত চেপে ধরে। শক্ত হাত, আমার জোর করে বের হওয়ার উপায় নেই। এরপর সে আমার প্যান্টের চেইনটা খুলে দেয়। কয়েক মিনিট আমার জীবনে দুঃস্বপ্নের মতো কাটে। বুঝতে পারি পেছনের সিটে ওর সাঙ্গপাঙ্গ আছে। রক্ষা পাওয়ার একটাই উপায়, কোনো বাহনায় বের হতে হবে। আমি সিগারেট কেনার নাম করে বেরিয়ে আসি। জানি না এই ট্রিকে কাজ না হলে কী কী ঘটতো, কিন্তু সামান্য যা ঘটেছিল তাতেই আমি বহু রাত দুঃস্বপ্নের ভয়ে ঘুমাতে পারিনি। কারো সঙ্গে শেয়ার করতে না পেরে একা একা কেঁদেছি। কিছু কিছু অভিজ্ঞতার রঙ হয় বিবর্ণ, কিছু কিছু কষ্টের ভাষা হয় নৈঃশব্দ্য, তাই চাইলেও বলা যায় না কাউকে।

মোজাফফর হোসেন

অন্যরকম বীভৎস ঘটনার শিকার হয় আরও বছর চারেক আগে৷ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। নিজেদের শহরের বাড়ির দোতলা ম্যাচ বানিয়ে তিনজন বড়ভাইয়ের সঙ্গে থাকি। তারা ডিগ্রির পরীক্ষার্থী। একদিন রাত নয়টায় ওরা বের হলো। আমি একা থাকতে পারবো না বলে আমাকেও সঙ্গে নিলো। কিছুক্ষণের মধ্যে টের পেলাম ওরা সিনেমা দেখতে যাচ্ছে। মেহেরপুরের চন্দ্রিমা হল। জীবনের প্রথম সিনেমা হলে যাচ্ছি, আমি রীতিমতো এক্সাইটেড। সিনেমা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখি পাশে ওরা তিনজন নেই। কয়েক সিট পেছনে সরে গেছে। সিনেমা শুরু হলো। পোস্টার ছিল বাংলা সিনেমার। শুরুটাও হলো সেভাবে। মানুষজন দেখি চিৎকার শুরু করে দিলো৷ সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল পর্নোসিনেমা। তাও এনিম্যাল এবং চাইল্ড সেক্স মুভি৷ এর পরের কয়েকমাস আমার জীবন কীভাবে কাটে, তা আজ মনে করতে চাই না।

আরেকটি ঘটনা বলি। তখন আমি শিশু। এর প্রত্যক্ষ শিকার আমি না। ৭/৮ বছরের অন্য দুটি শিশু। পাড়ার কয়েকজন বড়ভাই ওদের বাঁশবাগানে নিয়ে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে ** করাতো। আর ওরা মজা লুটতো। আমরা আরও ছোটরা তখন কোনোকিছু না বুঝে তালি দিতাম। বড়রা মাঝে মধ্যে মাঠে বসে আমাদের ছোটদের স্বমেহন করে দেখাতো। এসবই আমার লিখতে থাকা উপন্যাসে আরো বিস্তারিতভাবে আছে। একজন শিশুর বয়ানে পুরুষদের বীভৎস যৌনজগতে তার নিজের যৌনজাগরণের গল্প সেটা। উপন্যাস হিসেবে বাস্তবতার বিশ্বস্ত বয়ান সেখানে নেই।

আজ বাস্তবভিত্তিটুকু নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরছি এই কারণে যে সকল ভণ্ড পুরুষের বিপক্ষে আজ যে নারীদের #MeToo মুভমেন্ট, তার অংশীদার ছেলেরাও হতে পারে৷ বিকৃত পুরুষদের মুখোশ উন্মোচনের যে সামাজিক আন্দোলন সেখানে আসুন আমরাও অংশ নিই৷ এই আন্দোলন নারীর একার না।
#MeToo

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 552
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    552
    Shares

লেখাটি ২,৭৩৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.