বুলিয়িং এর শিকার মিডিয়ার মেয়েদের রক্ষায় আইন কোথায়?

0

ফড়িং ক্যামেলিয়া:

আজকে প্রিয়তীর স্ট্যাটাস এর পরিপ্রেক্ষিতে যে নিউজগুলো হয়েছে তার নিচের কমেন্টগুলো ছিল এমন // মিডিয়ায় কাজ করে, মডেল তাইলে তো বহু জনের সাথে শুয়েছে , #MeToo কিছু না, সব ফেমাস হবার ধান্দা।
অথচ মেয়েটা আয়ারল্যান্ডে থাকে, তার চেয়ে বড় কথা সে সাবেক মিস আয়ারল্যান্ড এবং বর্তমানে একজন স্বাবলম্বী নারী।
কমেন্ট পড়ে পুরাতন লেখাটা মনে পড়ে গেল।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বেশ্যা কিংবা মাগী বলে গালি দেয়া হয় কোন মেয়েদের? এই প্রশ্নটার উত্তর আমাকে কঠিন রকম ধাক্কা দিয়েছে। প্রচণ্ড অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম, এদেশে সবচেয়ে বেশি গালি দেয়া হয় অভিনেত্রী কিংবা বিজ্ঞাপনী মডেল নারীদের!

ফড়িং ক্যামেলিয়া

সম্ভবত মেয়েটির নাম টয়া। এই মেয়েটিকে প্রথম অবিস্কার করলাম কোনো একটা মিউজিক ভিডিওর মডেল হিসেবে। শ্যামা মেয়েটা আমার কাছে অন্য সব হালের মডেলদের মতই মনে হলো, কিন্তু ভিডিওটার নিচে গালির অন্ত নেই দেখে কৌতূহলী হয়েই ওর নাটকগুলোর কমেন্ট সেকশন দেখতে শুরু করলাম এবং সব জায়গাতেই সেই একই ধরনের অনেকগুলো কমেন্ট দেখলাম!

টয়া শুধু একা না, এই তালিকায় কম বেশি সবাই আছে। নাটকের চেয়ে নাটকের অভিনেত্রীর ব্রার ফিতা দেখা গেল কিনা, অভিনেত্রীর গায়ের রঙ কালো, কোমরের ভাঁজ দেখা গেল, বয়স কত, তার সাইজ, এসব নিয়েই এক শ্রেণির, শ্রেণিহীন দর্শকের আগ্রহই বেশী। এবং আশ্চর্যের বিষয় এরা কলেজ/ভার্সিটির গণ্ডি পার হওয়া মানুষ! তাদের অবদমিত যৌনতার প্রকাশ হিসেবে তারা কী কী করতে চায় তার ফিরিস্তি লিখেছে কমেন্ট অপশনে।

প্রশ্ন হলো, কেন?
কারণ বাংলাদেশে অন্তত এই একটা সেক্টর আছে যেখানে মেয়েরা পেশাগত কারণেই যথেষ্ট স্বাধীন। পোশাক থেকে শুরু করে সঙ্গী নির্বাচন কিংবা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এরা অন্য সকল পেশা থেকে অনেক বেশী স্বনির্ভর। তার মানে এই না যে এখানে মেয়েদের উপড়ে অন্যায় হয় না, তবুও প্রতিবাদের ক্ষেত্রে এই মেয়েরা অন্য সব মেয়েদের থেকে অনেক বেশী সোচ্চার।

প্রভা মেয়েটাকে আমি সম্মান করি। এত বড় একটা প্রতারণার শিকার হয়েও সে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। হার মানেনি, যুদ্ধটা চালিয়ে গেছে। মেয়েটা গুণী অভিনেত্রী এবং আত্মনির্ভরশীল। কোন দুর্ঘটনায় জীবন যে আসলে শেষ হয়ে যায় না, সেটা এই মেয়েটা প্রমাণ করে দিয়েছে। যেখানে তার সাহসিকতা, তার হার না মানা মানসিকতার প্রশংসা পাওয়া উচিৎ, সেখানে সে এখনো শুনে যায় জঘন্য সব গালিগুলো। অথচ যে ইতরটা ভিডিওটা প্রচার করেছিল, তার বিচার তো হয়নি বরং সে দিব্বি ভালোই আছে! কী অদ্ভুত!

মিথিলা তাহাসানের সম্প্রতি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। মিথিলা যদি আর একটি সম্পর্কে জড়ায়, এবং যেটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়, তবে তার জন্য যে কী কী কমেন্ট অপেক্ষা করছে সেটা অনুমান করতেই পারি।

এ দেশে সাইবার বুলিং এর জন্য কতো আইন আছে, কিন্তু এই যে অভিনেত্রীদের নিয়মিত গালিগালাজ করা বরাহদের কেউ কখনো এই আইনের আওতায় পড়েছে বলে শুনিনি। কিন্তু কেন? এই সমাজ ধরেই নিয়েছে এখানে অভিনেত্রীরা গালি খাবে, তাদের সাথে কোনো অন্যায় হলে সেটাই স্বাভাবিক। ভাবখানা এমন, মেয়ে যেহেতু মিডিয়াতে গেছে, সেখানে এসব হবেই।

একজন অভিনেত্রীকে তার গুণের সম্মান দেয়া কি খুব কঠিন? তার অভিনয় ভালো না খারাপ সেটা নিয়ে আলোচনা হোক, তার পোশাক কিংবা তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে কেন কথা বলতে হবে? আর এতো যদি তাকে খারাপ লাগে, তবে তার অভিনয় তার বিজ্ঞাপন দেখা বন্ধ করুন। আর তাতেও না হলে ডাক্তার দেখান। যৌন রোগ পুষে এতো কষ্ট পাবার কোনো মানে হয় না। নিজেও ভালো থাকুন, আপনার চারপাশও ভালো রাখুন।

#MeToo

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 152
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    152
    Shares

লেখাটি ৫৬৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.