দিনশেষে এটা কোন নারীবাদী ইস্যু না

0

মারজিয়া প্রভা:

দুইটা এংগেল থেকে বিষয়টা দেখি। প্রথমত মাসুদা ভাট্টি ইস্যু কোন নারীবাদী ইস্যু না। এখানে মাসুদা ভাট্টির জায়গায় বায়োলজিক্যাল সেক্সের কোন পুরুষ থাকলেও একই রকম রিআ্যক্ট হওয়া উচিত হতো! (সেইটা হতো না মনে হচ্ছে, কারণ ফলাও করে নারী সাংবাদিক ট্যাগ লাগিয়ে একটা সিম্প্যাথি ড্র এর যথাচেষ্টা করা হচ্ছে)! তাই এইটা আমার মতে, পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে কোন লড়াই হচ্ছে না।

আমি কারো সম্পর্কেই এতো জানি না। কিন্তু মইনুল পুরুষ বলে সে নারীকে চরিত্রহীন বলায় যে বোম ফাটছে, একই কাজ মাসুদা ভাট্টি নারী হয়ে করলে সেইটা হতো কি? প্রশ্ন থেকে যায়!

বরং এই ইস্যুটা সমস্ত জেন্ডার নির্বিশেষে সাংবাদিকদের ইস্যু হওয়া উচিত ছিল। একটা সাংবাদিককে পাবলিক প্লেসে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এভাবে বুলিং করতে পারে কিনা সেইটার আন্দোলন হওয়া উচিত ছিল! আমরা সেইটাকে নারীর ইস্যুতে টেনে আনলাম।

ইয়েস! আপনি কনটেক্সট বলতে পারেন! এই অঞ্চলে এখনো চরিত্রহীন বলতে, যৌনতার সোকল্ড পবিত্রতা অপবিত্রতা বুঝানো হয়! সেইটা বরং পুরুষতান্ত্রিকতা। আমার মনে হয়, সেই স্টিগমাটাইজড থেকে আপনার বের হয়ে আসা উচিত। যদি আপনি সত্যিই পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে থাকতে চান, আপনি সেইটা নিয়া কথা বলেন। “নারী” টেনে এনে হালে পাল দেওয়ার কী যৌক্তিকতা বুঝলাম না!

মাসুদা ভাট্টি নিজেকে নারী বলে তাকে “চরিত্রহীন” বলা হচ্ছে এই কথা দিয়ে একটা “ভিকটিম কার্ড” ছাড়া আর কিছুই খেলেননি। তিনিই বা কেন ধরে নিলেন মইনুল তার যৌনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই কথা বলেছেন। বরং তিনি তার জায়গা থেকে লড়তে পারতেন যে এভাবে ওপেন টকশো তে ধুমাধুম কাউকে বুলিং করাটা একটা জঘন্য চর্চা! এই চর্চা থেকে বের হয়ে আসা উচিত।

দ্বিতীয় এংগেল হচ্ছে, তসলিমা নাসরিন মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে এইসময় অনুভূতি লিখতেই পারেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মাসুদাকে চরিত্রহীন বলতেই পারেন। সমস্যা দেখছি না। তসলিমাকে লীগ, দল, ফ্রন্ট কিছুই করতে হয় না, তাই তার অবশ্যই দায় নেই কোন সময়ে কি বলতে হবে সেইটার! ব্যালেন্সের দায় থাকলে তিনি এইটা লিখতেন না। আর এইজন্যই তিনি স্বাধীন লেখক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদা যা করেছেন তার সাথে, সেই ঘটনা থেকে যে ক্ষোভ ঝড়ে পড়ে সেইটা তিনি যদি লিখে থাকেন আমি সেখানে আপত্তিকর দেখছি না!

আপনি কেন দেখছেন?

১) আপনি কি “নারী” হিসেবে মাসুদা ভাট্টিকে ডিফেন্ড করতে চাচ্ছেন?
২) নাকি আপনি মইনুলের বিপক্ষে লীগের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন?.

দ্যাখেন, শেষ পর্যন্ত এইটা রাজনৈতিক ইস্যুতেই যাবে। কোন পুরুষতান্ত্রিক বিরোধিতা ইস্যু এইটি নয়। হতেই পারে না!

ভ্যাজাইনা সর্বস্ব স্পিসিস ‘চরিত্রহীন’ হলে সেইটা না বলতে দেওয়াটা কিন্তু ভ্যাজাইনাকে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে খেলানোই। এই কার্ড খেলা দিনশেষে কোনদিন নারীবাদী ইস্যু না।

আমাদের “নারী” ব্যাপারটা বাদ দিয়া ভাবার সময় এসেছে, মাসুদা ভাট্টিসহ অন্য সাংবাদিককে এরকম যত্রতত্র বুলিং করাটা আসলেই কতটুকু সমীচীন!

কিন্তু সেইটা নিয়ে কথা হচ্ছে কই?

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 578
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    578
    Shares

লেখাটি ২,২৯২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.