সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে – কী সেই গুণ?

0

শুভ মাইকেল ডি কস্তা:

“সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে” কী সেই গুণ, যার জন্য সংসারের উন্নতি নির্ভর করে একজন নারী বা রমণীর ওপর? বাক্যটি কি আসলেই গুণ বা প্রশংসাবাচক? নাকি নারীদের সংসারের নামে গৃহে বন্দির পাঁয়তারা?

সনাতন রীতিনীতি মেনে উনিশ শতকে হিন্দু সমাজে প্রচলিত ছিল যে, লেখাপড়া শিখলে মেয়েরা বিধবা হবে। তারা ব্যভিচারিণী হবে। দেবতুল্য স্বামীকে অবজ্ঞা করবে, তার অবাধ্য হবে। তাই নারীদের লেখাপড়া শেখার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া শিক্ষিত হয়ে তারা করবেটা কী? তারা তো আর বাইরে কাজকর্ম করে অর্থ উপার্জন করবে না। করবে তো পুরুষরা।

এ যেন হালের শফি হুজুরের বক্তব্য। সুতরাং-

“গৃহিনী গৃহমুচ্যতে”
“পুত্রার্থে ক্ৰিয়তে ভার্যা”
“সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে”

নারীরা ঘরে থাকবে, ঘর সংসার দেখা আর পুত্র সন্তান প্রসব করাই তাদের কর্ম।
তাই শাস্ত্রবচনে বলছে, “পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা”, মানে, স্ত্রীসঙ্গম করবে শুধু পুত্রজন্ম দেওয়ার জন্যে। স্ত্রীর জন্মই পুত্রজন্ম দিয়ে নিজের নারীজন্ম সার্থক করা, সে যেন একটি চাষের ক্ষেত।

মনুসংহিতায় বলছে, নারী বাল্যে পিতার, যৌবনে স্বামীর ও বার্ধক্যে পুত্রের অধীন থাকবে, ন নারী স্বতন্ত্রমর্হতি, নারীদের স্বাধীনতার কোনো সুযোগই নেই।
যেখানে মনুর বিধান মতে, নারীদের স্বাধীনতা নেই, বাল্যকালে পিতা, যৌবনে স্বামী আর বার্ধ্যক্য কালে পুত্রের অধীনস্ত থাকবে, সেখানে নারীদের সংসারের মাথা ঠুকে সুখ! রচনা করা ছাড়া আর উপায় থাকলো কোথায়?

রমণীরা তাই সংসারেই মন দিক এবং মন দিয়ে শুনুক-

রমণীর পতি বিনা গতি নাই।
পতি বিষয়ে বিশেষ জানাই॥
পতি যা বলেন তাহাই করিবে।
পরম যতনে পতিকে সেবিবে॥
পতি খেলে খাবে, না খেলে খাবে না।
পতি শুলে শোবে, না শুনে শোবে না॥

পতি সেবা, পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়াই রমনীদের সুখের সংসার। অন্যদিকে রমনীদের যৌনতা? না সে ব্যাপারেও তাদের কোনো স্বাধীনতা নেই। স্বামী তাদের সাথে শুলে তবেই তাদের শোয়া হবে।

কিন্তু স্বামীরা শোবে কখন? রাত শেষে সকাল হলে? পয়সাওয়ালা বাড়ির কর্তারা তো সারা রাত আমোদ প্রমোদেই কাটিয়ে দিতো। সেই সুযোগে স্বামীর কর্ম যদি বাড়ির চাকর বাকররা সম্পাদন না করে ফেলে, তাই স্ত্রীদের ঘরে তালা লাগিয়ে আমোদে বেরুতো স্বামীরা। তারা বুদ্ধিমান বটে! তালা বদ্ধ ঘরে যেমন স্বামী ব্যতিত অন্য কারো কর্ম সাধনে প্রবেশ সম্ভব নয়, তেমনি বদ্ধ ঘরের বাইরে এসে স্বামীর আমোদ প্রমোদের অপকর্ম দেখাও রমনীদের পক্ষে সম্ভব না। তাতে দিনে বদ্ধ সংসার, আর রাতে বদ্ধ গৃহে শিক্ষা বঞ্চিত রমণীকূল পুত্র সন্তান প্রসবের মাধ্যমে সুখ(!) রচনা করেই ক্ষান্ত হতো।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 37
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    37
    Shares

লেখাটি ২৮৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.