ব্যারিস্টার মঈনুল, আপনি পদ্মফুলে গোবর

0

গোধুলী খান:

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, আপনাকেই বলছি। আপনি লেখাপড়া করে বড় বড় ডিগ্রি নিয়েছেন, সমাজের উঁচুস্তরে বসবাস করছেন, দেশের নীতিনির্ধারক হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। অর্থ, সম্পদ, শিক্ষায় পরিপূর্ণ হলেও মানুষ হতে পারেননি। কারণ আপনি ভদ্রতা জানেন না। জানেন না আরেকজন মানুষকে কী করে সম্মান করতে হয়! আপনি জানেন না একজন নারীর প্রতি কী আচরণ করতে হয়! আপনার শিক্ষা অসম্পূর্ণ। আপনার পারিবারিক ঐতিহ্য বিচারে আপনি পদ্মফুলে গোবর। গোবরে পদ্ম ফুটলেও, আপনি অসাধ্য সাধন করেছেন পদ্মফুলে গোবর হয়ে রয়েছেন।

একাত্তর টিভির টকশোতে লেখক ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি কী প্রশ্ন করেছিল? আপনি জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কিনা ঐক্যফ্রন্টে? এর উত্তরে আপনি মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে গালি দিয়ে ওঠেন। আমার প্রশ্ন হলো, আপনি সোজা উত্তর দেবেন, ‘যে আমার সাথে জামায়াতের কোনভাবে যোগ নেই। বা যুক্ত আছি’। আপনার মতো একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে থেকে এমন অভব্য আচরণ অবিশ্বাস্য। মাসুদা ভাট্টি যদি আপনাকে বলতেন, আপনি জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাহলেও আপনার রাগের একটা অর্থ হতো। এরপর আপনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন দলের তল্পিবাহক বললেন। তুচ্ছ তাছিল্য করলেন।

গোধুলী খান

ভাবতে অবাক লাগে, মঈনুল হোসেন, তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়ার পুত্র। যে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া দেশের সাংবাদিকতায় একজন পথিকৃৎ ছিলেন। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি গণমানুষের জন্য কাজ করেছেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সাংবাদিকরা যে ভূমিকা রাখতে পারে, তিনি সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। পত্রিকা মানুষের অধিকারের কথা বলে, এটা তিনি তার কলম ও পত্রিকার মধ্য দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, পত্রিকা মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে বেগবান করে। সেই মানুষের পুত্র একজন সাংবাদিককে গণমাধ্যমে গালি দিলেন, অসম্মান করলেন।

কেন? একজন সাংবাদিকের করা প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ না হবে বা অন্য কোনো ব্যাখ্যা থাকলে দেবেন বা উত্তর দেবেন না। কিন্তু গালি কেন দেবেন? নাকি নারী বলে গালি দেয়া সহজ? নারীর চরিত্র নিয়ে কথা বললে নারীকে সহজে ঘায়েল করা যায়? নারীর চরিত্র কি নারীর দুর্বল দিক? নারীকে যেখানে সেখানে, ইচ্ছে হলেই অপমান করা যায় কি? নারী কি এতোই সহজলভ্য? নারীর মান-অপমান নেই?

অনেকেই বলছেন, মাসুদা ভাট্টি কি ভালো?

আমার মতামত, মাসুদা ভাট্টি ভালো কী মন্দ, বা চরিত্রবান না চরিত্রহীন তাতে কিছু যায় আসে না। উনি সাংবাদিক হিসাবে টকশোতে অংশগ্রহণ করেছেন। উনি প্রশ্ন করেছেন, ব্যারিস্টার মঈনুল উত্তর দেবেন, না হলে না দেবেন। কিন্তু প্রশ্ন কর্তাকে গালি দেবেন কেন? আর মাসুদা ভাট্টি তো ঐ অনুষ্ঠানে উনার কাছে চারিত্রিক সনদ আনতে যাননি। তাহলে কী কারণে মইনুল সাহেব মাসুদা ভাট্টির চরিত্র নিয়ে কথা বলবেন? আর কী কী কারণে চরিত্র ঠিক থাকে বা থাকে না, নারীর চরিত্রের মাপকাঠিটা কী, একটু জানাবেন মইনুল সাহেব?

আপনি সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি, আপনার মধ্যে এমন নোংরা মানসিকতা দেখে হতবাক হয়েছি। আপনাদের পত্রিকা দীর্ঘদিন ধরে কোনো নারী রিপোর্টার নিয়োগ দেয়নি। নারীর প্রতি এই মনোভাব কি মা-বোন-বউ-মেয়ে সবার প্রতি!

মইনুল হোসেন, আপনার মতো বিজ্ঞজনের কাছে এ ধরনের ব্যবহার নিন্দনীয়, অগ্রহণযোগ্য। আপনি শুধু মাসুদা ভাট্টিকে অপমান করেননি, আপনি সমগ্র সাংবাদিক সমাজকে হেয় করেছেন। আপনি নিজের পূর্বপুরুষের পেশাকে ছোট করেছেন। এখন বলেন তো আইন কী বলে? আপনি তো আইনেরই মানুষ। আপনার মতো মন মানসিকতার মানুষ আমাদের কোন গণতন্ত্র দেবে? আপনি তো সেই, যিনি জয় বাংলার মানেই জানেন না। আপনি তো সেই, যিনি ২০১৬’র ২৫ ফেব্রুয়ারি এক টকশোতে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড বিষয়ে আপত্তিকর নানা মন্তব্য করেন।

আপনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন ‘দেশ আজ গভীর সঙ্কটে। দেশের অবস্থা ভয়াবহ ও বিপজ্জনক। এ বিপদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা সফল করতে হবে’ (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮)।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, আপনি প্রাজ্ঞজন, আপনারা দেশ চালান, সরকার হোন, বিরোধী দল হোন, দেশ নিয়ে ভাবুন, ক্ষমতা নিয়ে ভাবুন। কিন্তু আগে নারীর প্রতি মনোভাব বদল করুন। নারীকে অপমান তুচ্ছ তাছিল্য করে পৌরুষ প্রকাশ পায় না, প্রকাশ পায় অসুস্থ মানসিকতার। চাই না আপনাদের মতো মনের নীতিনির্ধারকদের হাতে আমাদের ও দেশের ভাগ্য নির্ধারণ হোক। দয়া করে ক্ষমা চান নারী জাতির কাছে, মাসুদা ভাট্টির কাছে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.1K
    Shares

লেখাটি ৩,৪৬৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.