সেক্সিস্ট জোকস: আমাদের কি হাসা উচিৎ?

আমেনা বেগম ছোটন:

কলকাতায় বৌদিদের সাথে কারা কীভাবে কথা বলে:

(১) ধোপা—-বৌদি কাপড় তুলে রেখো, আমি আসছি!

(২) পেপারওয়ালা—-বৌদি কালকে আপনি শুয়ে ছিলেন, তাই না জাগিয়ে নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম!

(৩) ফলওয়ালা—-বৌদি কলার সাইজটা একবার দেখো, পছন্দ হবেই!

(৪) পুরানো ভাঙ্গারিওয়ালা—-বৌদি শেষবারের মতো বলছি ৫০ টাকা দেবো, দেবেন কিনা বলেন?

(৫) ফটোকপি/জেরক্সওয়ালা—-বৌদি আগে পিছে দুদিকেই করবো, নাকি শুধু সামনে?

(৬) ট্যাক্সি বা আটো ওয়ালা—-বৌদি সামনে আর যাবে না, পেছন দিকে নেবো।

(৭) অটোওয়ালা—-বৌদি ভেতর পর্যন্ত ঢুকিয়ে দেবো, নাকি বাইরেই ছেড়ে দেবো?

খুব হাসির পোস্ট কি এইটা? বুঝলাম আপনারা গুপ্ত সাহেবের সাহিত্য মনেপ্রাণে ধারণ করেন, কিন্তু আরেকজনের স্ত্রীকে নিয়ে আকারে ইংগিতে অশালীন কথাবার্তা বলা বুঝি খুব উচ্চস্তরের রসিকতা?

বৌদি কি খুব অশালীন শব্দ? ভাবী শালীন? শব্দের হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা? হিন্দুর বউ হলে আলাদা রসিকতা? আলাদা যৌনতা?

আরেকজনের বউ নিয়ে ইতরামির কালচারটা কি উপমহাদেশীয়? নাকি বৈশ্বিক? প্রবাদে মানসিকতা ধরা যায় সমাজের। গরীবের বউ, প্রবাসীর বউ, বৃদ্ধ্যস্য ভার্যা, কড়ে রাঢ় – কী বিচিত্র সব সেক্সিস্ট শব্দ। এই মেয়েদের দোষটা কোথায়? কেন আপনাদের এই কুৎসিত যৌনক্ষুধার মানসিকতার দায় এদের যৌনউত্তেজক পরিচয় দিয়েছে?

আমার সবচেয়ে অসহায় লাগে যখন মেয়েদেরকেই এসব কথাবার্তা ব্যাঙ্গার্থে ব্যবহার করতে দেখি। এই বৌদির কৌতুকে দিব্যি ভাবি, আপা, আম্মা, চাচি, ফুপু বসিয়ে দেয়া যায়, আমি আপনি যে কেউ এতে ফিট হয়ে যাই, আপনি ছেলে হলে আপনার কন্যা, জায়া, জননী, ভগিনী। সুতরাং এতে হাসার আগে বুঝে নিন, এতে আপনি বা আপনার কাছের মানুষেরা কতটুকু অপমানিত হচ্ছেন!

হিন্দুর বউ অপমানিত হলে আপনার কী? কিছুই না, শুধু নিজের অপমানের পথটা নিজেই সুগম করে দেন। এক সময় ভাবি বা অমুকের বউ হিসেবে নিজেকেও সেক্স এলিমেন্ট বানিয়ে ফেলেন। এই কুৎসিত সমাজে কেউ না কেউ আপনাকে কিছু একটা ভেবে জিভ চাটছে, এই ভাবনা কি খুব স্বস্তিকর?

হয়তো ভাবছেন, এই ভাবনা মনোভাব আমরা পরিবর্তন করতে পারবো না। তা বলে বাধা দেবার চর্চাও করবো না? এই যে আপনি বাজে কথা বলেন না, বা অশ্রাব্য গালাগাল করেন না। কেন করেন না? সে কি আপনি মহামানব হয়ে জন্মেছেন বলে? নাকি ছোট বেলায় বেফাঁস কিছু বললে অভিভাবক স্থানীয় কেউ কড়াভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে যে কাজটা নিন্দনীয়! সেটা মাথায় গেঁথে গেছে বলে এখন সেটা করতে মন সায় দেয় না বলে?

যেকোনো ব্যাপারেই হোক, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখুন। শ্রদ্ধার এই চর্চা ঘুরেফিরে আপনার কাছেই ফেরত আসবে। আপনার পরবর্তী প্রজন্ম একটি সুস্থ পরিবেশ পাবে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.