কে এই গাড়িতে বসা উদ্ধত নারী!

মাসকাওয়াথ আহসান:

গাড়িতে বসে পুলিশকে ধমকানো নারীর ভিডিও ভাইরাল হবার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত পরিশীলিত আচরণের নাগরিক গোষ্ঠী, “আমরা ধমক দিতে জানিইনা” ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, আমরা যারা বাসার গৃহকর্মী-দারোয়ান-ড্রাইভারের সঙ্গে মধুর ব্যবহার করি; তাদের মনে সন্দেহ জাগে, এই উদ্ধত নারী এলিয়েন, অন্যগ্রহ থেকে এসেছেন। নইলে আমাদের মতো মধুর মানুষের ভীড়ে এমন রুক্ষ্ম মানুষ আসে কোত্থেকে!

“আমরা ধমক দিতে জানিইনা” গোষ্ঠী অভিমত প্রকাশ করেছে, আমাদের বিনয়, শিষ্টতা আর সদাচরণের যে সাহজিক ঐতিহ্য তার সঙ্গে মানানসই নয় এই নারীর আচরণ। পুলিশ ভাইয়েরা তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমাদের জীবন-মৃত্যুর যে আন্তরিক দেখভাল তোমরা করো; তার জন্য “আমরা ধমক দিতে জানিইনা” গোষ্ঠী কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ। তাই সমাজের ঐ একমাত্র কর্কশ নারীকে গ্রেফতার করে মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্রে তার মগজ ধোলাই করে দেবার দাবি জানাই। আমরা চাই অতীতের গুজব রটনাকারী নারীদের মতো; ভাবমূর্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত নারীটিও “মগজ ধোলাই” প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে মধুর আচরণ শিখুক ও বিবৃতি দিক পুলিশের প্রশংসা করে।

“আমরা অত্যন্ত সুদর্শন সমাজ”-এর প্রতিনিধিরা বলেছে, এই ধমক দেয়া নারী আমাদের মানদণ্ডে একদম সুদর্শন নন। সে কারণেই এমন আচরণ করতে পেরেছেন। উনি আমাদের মতো সুদর্শন হলে, আচরণ হতো আমাদেরি মতো মধুমাখা।

“আমরা অত্যন্ত সুদর্শন সমাজ”-এর এই বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে অনেকে বলেছে, দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই-এর মানুষ আপনাদের প্রচলিত মানদণ্ডে ভ্যাদভেদে ফর্সা ও সুন্দর নন; কিন্তু তাদের আচরণ আপনাদের চেয়ে অনেক সভ্য।

“আমাদের রক্তপান ছাড়া অন্য কোন নেশা নেই” জোট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই কর্কশ মহিলা নিশ্চয়ই নেশা করেন। ওরে বাবা, এসব বাজে নেশা একদম খারাপ। রক্তপানের নেশাটাই পৃথিবীর শুদ্ধতম নেশা।

“চ-বর্গীয় সমাজ” এক কলতলা কনফারেন্সে বলেছে, এই মহিলা গর্হিত অপরাধ করেছেন। তাকে গালি দিয়ে গালির অমর্যাদা করতে নেই। গালিগুলো তাই সুশীলদের জন্য তুলে রাখলাম। এই চয়নিকা নারীর জন্য রইলো ধিক্কার।

মাসকাওয়াথ আহসান

“আমরা নিয়মিত ধিক্কার জানাই” সমিতি বলেছে, আমরা ধিক্কার জানাতে জানাতে ক্লান্ত। তবু বলতে বাধ্য হচ্ছি, এমন কর্কশ নারী পৃথিবীতে আর একটিও দেখিনি।

পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য যন্ত্র “ষড়যন্ত্র” উদ্ভাবক সুখি বিজ্ঞান ধারণা (সুবিধা)-র সভাপতি বলেছেন, এই মহিলা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। সরকারের নিষ্কলুষ ভাব্মূর্তির দিকে ব্রোকেন ডিম ছুঁড়ে দেয়ার সুগভীর ষড়যন্ত্র এই ঘটনাটি। তার ব্যাংক-একাউন্ট খতিয়ে দেখা হোক, সেখানে নিশ্চয়ই অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, পরিস্থিতি দেখিয়া মনে হইতেছে, এই একটি মহিলাই রসাতলে গিয়াছেন, বাকি সকলে শুদ্ধতার পুচ্ছটি উচ্চে তুলিয়া নাচাইতেছে। এইসকল ফাঁপা সভ্যতা প্রদর্শন অপেক্ষা ইহা স্বীকার করিয়া লওয়া মঙ্গলজনক, আয়নায় নিজেরে না দেখিয়া; শুধু মহিলাটিকে অপমানের আনন্দে মশগুল এই মনুষ্য সমাজ।

শেয়ার করুন:
  • 350
  •  
  •  
  •  
  •  
    350
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.