সঠিক ‘যাচাই-বাছাই’ করে বিয়ে কি আদৌ সম্ভব?

0

শিল্পী জলি:

যদিও বিবাহিত জীবনের সাথে নানাবিধ যাচাই-বাছাইয়ের প্রশ্ন এসে যায়, তথাপি অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় না। আজ একটি ভিডিও দেখলাম, যেখানে সতর্ক করা হয়েছে, খবরদার! বিশেষ করে ছেলেদেরকে, আর দেখানো হয়েছে পিনাস রিডাকশনের নানাবিধ কারণ। তার মধ্যে তিনটি কারণ নজর কেড়েছে আমার।
যথা- অতিরিক্ত হস্তমৈথুন/মাষ্টারবেশন,
খৎনা/ফোর স্কিন কর্তন, এবং রাগী প্রেমিকা বা বউয়ের অধিকারী হওয়া।

মুসলমানিতে নাকি পিনাল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পিনাসের ৫% রিডাকশন ঘটে। আবার অতি মাস্টারবেশনেও পিনালটিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, অতএব …।

ভেবে পাচ্ছিলাম না রাগী বউ বা প্রেমিকাগণ প্রেমিক বা বরের পুংলিঙ্গের রিডাকশনে কী করে ভূমিকা রাখতে পারেন? মনে হয়েছিল হয়তোবা রাগারাগির কারণে ছেলেদের উত্তেজনা কম অনুভূত হয়, আর তার অমূল্য সম্পদ সর্বোচ্চ স্হানে উপনীত হতে পারে না। তবে একটু পরেই বুঝতে পারলাম ঘটনা ওখানে নয়, আরও ভয়াবহ। তারা মূলত রাগী বউদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শই দিয়েছেন, কর্তনের আশঙ্কায়। আর ইঙ্গিত করেছে উহাকে সেলাইজনিত কারণে যে রিডাকশন ঘটে তাকে। যদিও এমন ঘটনা ঘটতে খুব কমই দেখা যায় তবুও সাবধান হতে পরামর্শ দেয়া আর কী! তবে খাল কেটে ক’জন মেয়ে আর কুমির আনে জীবনে?

যাই হোক, শুধু ছেলে নয়, মেয়েদের ক্ষেত্রেও পাত্র বাছাই সহজ কাজ নয়। সেটা প্রেম বা ঠিকঠাকের বিয়ে যেটাই হোক না কেন? কেননা প্রেম হলেই যে মানুষ চেনা যায় তেমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছেলেকে দেখতাম যে ঐ বয়সেই সে প্রেমও করতো, আবার যাবতীয় মেয়েদের সাথে টাঙ্কির পা@য়তারা কষতো, অথচ তার প্রেমিকা বুঝতেও পারতো না, কী ঘটছে চারপাশে? পরিচয় না থাকায় আমরাও তাকে কখনও বলতে পারিনি, সে কিন্তু লুচুর।

ওদেরকে দেখলেই ভাবতাম, হায় কপাল, এই মেয়ের কপালে কী আছে? অনেক সময় সাথে থেকেও বোঝা সম্ভব হয় না মানুষটি কেমন। যদিও ঘটকের মাধ্যমে বিয়েতে ঘটকের কাছ থেকেই পাত্রপাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করা যায়। কিন্তু ঐ তথ্যেও ভরসা কম। এমন কী সত্যতা থাকলেও সহসা উপলব্ধিতে আসে না সেসব তথ্য। যেহেতু বিয়ে ঘটানোই ঘটকের পেশা। তাই কী প্যাঁচ খেলবে বোঝা মুশকিল। একবার নাকি এক ঘটককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পাত্র-পাত্রী কেমন? সে জানায়, পাত্র তো এক পায়ে খাঁড়া, আর পাত্রীর মুখে কোন কথাই নেই। ব্যস ঐ কথাতেই বিয়ে ঘটে যায় তাদের, একজন খোঁড়া আর একজন বোবার মাঝে। বলারও কিছু থাকে না।

প্রেম-ভালোবাসায় অনেকেই আছে আবেগে চলে, অত যাচাই বাছাইয়ের ধার ধারে না। অনেকটা আগে বিয়ে তো হোক, পরে দেখা যাবে। কেউ আবার আবেগ থাকলেও সময়ে সাবধান হতে চায়– পুরো জীবনের প্রশ্ন, একেবারে আগুনে ঝাঁপ দেয়া ঠিক হবে না। তেমনই এক আমেরিকান মেয়ে গভীর প্রেমরোগে আক্রান্ত, বিয়ের চিন্তাও জেঁকে বসেছে মনে। ওদিকে দিনরাত প্রেমিকের সাথে থেকেও জানা হয়নি তার চরিত্রের জোর কত! অথচ বিয়ের আগে সে নিশ্চিত হতে চায় বাইরের মেয়েদের ক্ষেত্রে সে সংযমী হবে কিনা? তাই প্রাণের বান্ধবীকে হায়ার করে প্রেমের অভিনয় করে প্রেমিককে টলাতে পারে কীনা দেখতে। প্রেমের পরীক্ষা নিতে।

পরীক্ষা শেষ, তিনজন সমবেত হয়েছে ঘরে। মিটি মিটি হেসে নিজের কৃতকর্মে ক্ষমা প্রার্থনা করে মেয়েটি জানায়, এখন আমি বিয়ের জন্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তুমি কী বলো? ছেলেটিরও হাসি হাসি মুখ, কিছু বলে না। অনেকটা, আরে তুমি থাকো ডালে ডালে, আর আমি থাকি পাতায় পাতায় ভাব! বান্ধবী বলে, তবে আমার একটি কথা আছে এখানে, পরীক্ষা নিতে গিয়ে আমরা তো ঘটিয়ে ফেলেছি কর্ম। ছেলেটি বলে, ঠিকই তো, যেমন লোক লাগিয়েছো, তেমনই সাজা তোমার, এবার বোঝো? বান্ধবীও সায় দেয়, আসলেই তো! সেইসাথে বলে, এখানে আরেকটি সুখবর জানাবার আছে আমার, আমি প্রেগনেন্ট। এবার শুধু প্রেমিকা নয়, ছেলেরও আক্কেল গুড়ুম, মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে। মাত্র তেইশ বছর বয়সেই বাবার দায়িত্ব কাঁধে পড়ার আশঙ্কা।

রোমান্টিক সম্পর্কের খোঁজখবর করার কাজও কী কম রোমান্টিক হয়? বিঘ্ন কম ঘটাতে পারে? এক মেয়ে বান্ধবী দিয়ে খোঁজখবর নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় ভাড়া করেছিল প্রস্টিটিউট। দেখবে ছেলে ফাঁসে কিনা? এই পরীক্ষায় তাদের মাঝে মন দেয়া-নেয়া না ঘটলেও প্যান্টস খুলে যায়, আর সম্পর্ক গিয়ে গড়ায় অরালে। ঘটনা জানাজানি হতেই মেয়েটির অভিযোগ, তোমাকে তো হায়ার করেছিলাম শুধু কথা দিয়ে ভেজাতে, তুমি কেন অরালে গেলে?
সে উত্তর দেয়, ওটাই তো আমার পেশা, কথা বলা তো আমার পেশা নয়। সেইসাথে জানায়, সে ট্রান্সজেন্ডার। মেয়ের বেশে ছেলের শরীর বহন করছে সে, কেউ জানে না। উপরন্তু দু-পক্ষ থেকেই টাকা হাতিয়েছে সে। শুনে ছেলের অবস্হা কাহিল, ফাঁকিতে চিটিং উপভোগ করলেও ছেলে-ছেলে প্রেমে তার আগ্রহ ছিল না কখনও। যদিও প্রেমিকারও জানা ছিল না এই মেয়েটি ট্রান্সজেন্ডার, তথাপি ঘটনার ঘনঘটায় তাদের প্রেমও ভেঙে যায় বিয়ের মুখ না দেখেই।

প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে যতই গভীর হোক না কেন, কোনো নিশ্চয়তা নেই সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের, স্হায়িত্বের। জীবনের সাথে যেমন মৃত্যুর প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে, তেমনি সম্পর্কের সাথেও বিচ্ছেদের আশংকা থেকে যায়। তাই বলে কী আর জীবন থেমে থাকে? কেউ সম্পর্কে জড়ায় না? জীবন মানেই সন্মুখের পথে এগিয়ে চলা, নিজেকে অবিরত সমৃদ্ধ করা। যেনো এক সম্ভাবনা হাতছাড়া হলেও দশ সম্ভাবনার দূয়ার খুলে যায় সামনে।

ছোটবেলায় গল্প শুনতাম, শহরে শহরে রক্তচোষার আগমন ঘটেছে। অথবা ছেলেধরা, ভল্লুক এসে ধরে নিয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরকে। ছেলেধরা থেকে রক্ষা পেতে পরামর্শ দেয়া হতো অপরিচিত কারো সাথে কথা না বলতে, দূরে থাকতে, কারও থেকে বাদাম, চকলেট, আইসক্রিম, আচার না নিতে।
আর ভল্লুকের কবল থেকে বাঁচতে হলে না দৌঁড়ে একেবারে মৃতের মতো পড়ে থাকাই ভরসা, অন্য কথায় আত্মসমর্পণ!
শুনেছি পুরুষের মনও নাকি অনেকটা ভল্লুকের মতোই, তারা নারী জাতিকে চেইজ করতেই পছন্দ করে বেশি। আর পুরোপুরি ধরা দিতেই আগ্রহ হারায়।

একজন নারীর সমৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাসই তার পুরুষসঙ্গীকে আজীবন দৌঁড়ের উপর রাখে। তাই সিদ্ধান্ত নারীর, সে পুরুষের পেছনে ছুটবে? নাকি, তাকে নিজের পেছনে চড়কির মত ছোটাবে, আপন গতিতে বিভোর থেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করে? অথবা মৃতসম সমপর্ণ?

পুরুষের দরবারে একজন নারীর ‘তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না’ অথবা ‘আমি শেষ’ কথার আবেদন সম্পর্কের ইতি টানা বই আর কিছু নয়। অন্য কথায় সম্পর্কের ‘দি এন্ড!’

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 285
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    285
    Shares

লেখাটি ১,৫৫১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.