মডার্ন এটিকেটে মোবাইলের ব্যবহার

0

ফারিয়া রিশতা:

মডার্ন এটিকেট বা ম্যানারিজমের মতে, সামনে কোনো মানুষ কথা বললে সেই সময় তার সামনে মোবাইল টেপাটা অভদ্রতা৷
ডিজিটাল এই যুগে আমাদের হাতে হাতে স্মার্টফোন চলে এলেও, এটার ব্যবহার সম্পর্কে খুব একটা স্মার্ট আমরা হয়ে উঠিনি।
যখন তখন, যেখানে সেখানে খট করে আপনার দামি ফোনটা বের করে শো অফ করাটা অনেক সময় অভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে, এটা অনেকে আমরা জানিই না।
অথচ প্রপারলি মোবাইল ব্যাবহার করেও স্মার্টনেস শো করা যায়।

প্রথমেই কথা বলি রিংটোন নিয়ে!

প্লিজ ভাই! বেলা বারোটার সময় ব্যাস্ত অফিসের মাঝে বা নাইট কোচে জার্নি করার সময় কেউ আপনার ‘কিকি ডু ইউ লাভ মি’ টাইপ রিংটোন শুনতে চায় না, ট্রাস্ট মি!
রিংটোন চয়েজের সময় প্লিজ, সফট টাইপের, ভদ্র সভ্য একটি রিংটোন দিন৷ এ রিংটোন ক্যান মেক ইউ ক্ল্যাসি! ট্রাস্ট মি৷

আপনার মোবাইলের ভাইব্রেশন মোডটার যথার্থ ব্যাবহার করুন। শুধু মিটিং বা ক্লাসে না, হাসপাতাল, ব্যাংক, কারও অফিসে বা কারও বাসায় দাওয়াতে গেলেও (বিয়ে টাইপ বা লাউড পার্টিপ্লেস বাদে) মোবাইল ভাইব্রেশন মোডে দিয়ে রাখুন।

কোন পার্সোনাল মিটিং, ডেট বা কারো বাসায় দাওয়াতে গেলে চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব কম মোবাইল হাতে নিতে। এটাতে হোস্টকে বা সামনের মানুষকে নেগেটিভ ফিল দেওয়া হয় যে তার কোম্পানি আপনি এনজয় করছেন না।
বন্ধুদের সাথে বা প্রিয় মানুষের সাথে বা পরিবারকে যখন সময় দিবেন তখন মোবাইলের কথা ভুলেই যান না হয়। তাদের সাথে কথা বলুন মন খুলে। তাদের উপরে পুরো কন্সেন্ট্রেশনটা দিন৷

কোন মিটিং এর মাঝে বা কারো সাথে কথাবলারত অবস্থায় যদি আপনি কোনো কল এক্সপেক্ট করেন, তাহলে সামনের মানুষটিকে প্রথমেই জানিয়ে রাখুন যে, ‘এক্সকিউজ মি, আমার একটা ইম্পোর্টেন্ট কল আসতে পারে, তাই মোবাইলটা সামনে রাখছি বা এখানে রাখছি’
এতে করে আপনার সামনের মানুষটাও একটা ইম্পোর্টেন্স ফিল করবে যে আপনার মোবাইলের চাইতে আপনি তাকে বেশি প্রায়োরিটি দিচ্ছেন, আর কথার মধ্যে ফোন আসলেও সে এমবেরেসড ফিল করবে না।
এই অভ্যাসটা সবার ক্ষেত্রেই এপ্লাই করা শুরু করুন।

কারও সাথে কথা বলারত অবস্থায় কল এলে খবরদার খট করে ফোন ধরে ফেলবেন না। এখন তো সময় ‘এক্সকিউজ মি’ বা আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য মোতাবেক আংগুলগুলাকে চুটকি স্টাইলে নিলে ‘এক মিনিট’ শব্দটা ব্যবহার করার। (সেকেন্ডটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের বর্ডার সীমার ভেতরে ব্যবহার্য)

যেহেতু ছবি তোলা বা সেলফি এ যুগের ট্রেন্ড তাই চেষ্টা করুন একদম শেষের দিকে এই পর্বটা সারতে।

একা অবস্থায় যতো খুশি কথা বলুন, কিন্তু সাথে যদি কেউ থাকে বা আপনি যদি অফিস, দাওয়াত, বাসে, ট্রেনে, উবারে, রিকশায়, দোকানে,পাবলিক টয়লেটে, ইন শর্ট আপনার বাসার বাইরে থাকেন, তাহলে কনভার্সেশন শর্ট করুন।
আপনার আশেপাশের কারও খুব একটা ইন্টারেস্ট নেই আপনার পার্সোনাল আলাপ শোনার। তাই তাদের জোর করে শোনাতে যাবেনও না।

মোবাইলে কথা বলার সময় কথার টোন স্বাভাবিক রাখা অনিবার্য, যদি না আপনি আপনার বেডরুমে বসে বেস্ট ফ্রেন্ড এর সাথে গসিপ করায় লিপ্ত থাকেন! 😋

পাবলিক প্লেসে বা মানুষের মাঝে গান শোনা বা ভিডিও দেখার সময় অবশ্যই হেডফোন ব্যবহার করবেন। আপনার বিনোদন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় যেন!

বাসায় ফিরেই মোবাইলে মুখ গুজে ফেলবেন না, ডিনার টেবিলে কোনভাবেই কারো হাতে মোবাইল এলাউ করবেন না (ইমার্জেন্সি সিচুয়েশান বাদে)। বাসায় ফিরে ফ্যামিলির জন্য একটা টাইম বরাদ্দ রাখুন, একসাথে চা খান, আড্ডা দিন।
রাতে একটা নির্দ্দিষ্ট সময়ের পর আর ফোন হাতে নিবেনই না (ইমার্জেন্সি বাদে)।
ঘুমানোর আগে মোবাইল না গুতিয়ে বই পড়ুন, পার্টনারের সাথে গল্প করতে করতে ঘুমান।

একর্ডিং টু মডার্ন এটিকেট, পাবলিক প্লেসে আপনার হাতে যত কম মোবাইল দেখা যাবে, তত আপনার স্মার্টনেস শো করবে।
মোবাইলটা জাস্ট একটা ডিভাইস, সেটাকে ডিভাইস হিসেবেই গণ্য করুন।
আপনার কিডনি, লাংস বা হার্টের মতো অপরিহার্য কিছুতে পরিণত করবেন না৷

যদিও এসব কেউ মানবে না, মনেও রাখবে না, আমি জানি তাও ফ্রিতে কিছু ভালো জ্ঞান দিলাম। মানা না মানা আপনার ব্যাপার! 🤓

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 379
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    379
    Shares

লেখাটি ১,৩৮৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.