আলোচিত বিষয় যখন ডিভোর্স

0

শাহরিয়া খান দিনা:

সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় এক পত্রিকার রিপোর্ট অনুয়ায়ী দেশে বেড়েছে ডিভোর্সের হার। রাজধানীতে গড়ে প্রতি ঘন্টায় একটা করে ডিভোর্স হচ্ছে। সন্দেহ নেই এটি একটি দুঃসংবাদ।

স্বপ্নভরা চোখে আকাঙ্খা আর প্রত্যাশায় শুরু করা বিবাহিত জীবনে এ এক বিপর্যয়। একটা সম্পর্ক যখন ভাঙে তখন সম্পর্কটা আর থাকেনা, স্মৃতিগুলো থেকে যায়। ভাঙা কাচের টুকরোর মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে এক জায়গায় জড়ো করে তাকে বাক্সবন্দী করে চিরতরে তালাবদ্ধ করে দেয়াটা খুব সহজ কাজ নয় নিশ্চয়ই।

এই ভাঙনে সব চাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাচ্চারা। উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় বাচ্চাগুলো নিজেকে এক অন্যরকম বাস্তুহারা বিভ্রান্ত উদ্বাস্তু হিসাবে আবিস্কার করে। বাবা-মা দু’জনকে নিয়েই থাকতে চায় তারা। দু’জনেই তো ছিল তাদের আদর আর আবদারের বুকের একান্ত কাছের আশ্রয়। অন্যদের মত তারাও বাবা-মায়ের সাথে ঘুমাতে চায়, খেতে কিংবা বেড়াতে যেতে চায়। মনে মনে প্রার্থনা করে আবার এক হয়ে যাক মা-বাবা। কিন্তু তারা যখন ভিন্ন ভিন্ন সংসার শুরু করে নতুন কাউকে নিয়ে বাচ্চাদের তখন প্রার্থনা করারও আর কিছু থাকেনা শুধু শব্দহীন দলাপাকানো কান্নাটা গলার কাছে জমে থাকে জীবনভর।

সংসার ভাঙার আগে মানুষের মন ভাঙে। মনটা একদিনেই ভেঙে যায় না। আস্তে আস্তে সম্পর্কের প্রতি সম্মান, বিশ্বাস, সহমর্মিতার জায়গাগুলো নষ্ট হয়। পত্রিকার প্রতিবেদনে বিবাহবিচ্ছেদের প্রধান কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, মেয়েদের বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনের প্রধান কারণগুলো হলো- যৌতুকের জন্য নির্যাতন, অন্য নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক বা দ্বিতীয় বিয়ে, মতের বনিবনা না হওয়া, শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্ব, স্বামীর মাদকাসক্তি।

আর ছেলেদের আবেদনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্য পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক, সংসারে মানিয়ে না চলা, স্বামীর কথা না শোনা।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটা প্রভাব থাকে এখনকার বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাগুলোতে। প্রিয়জন কার সাথে কিরকম সম্পর্কে রাখছে, কি করছে এইসব খেয়াল রাখতে গিয়ে একেকজন রীতিমতো সন্দেহবাতিকগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

মেয়েরা এখন আগের চাইতে বেশী শিক্ষিত হচ্ছে। রোজগার করছে। তিনবেলা ভাত খাওয়ার মতো দুই/চারটা চড়-থাপ্পড় হজম করা বা নতুন কাপড় পাওয়ার বদলে স্বামীর দুই/একটা বদভ্যাস মেনে নেওয়ার অবস্থাটা আর নেই। স্বাবলম্বী মেয়ে, আত্মসম্মানবোধ থেকেই চায় পরিবারের যেকোনো সিদ্ধান্তে তার মতামতের সমান গুরুত্ব পাক।

মানুষের জীবনের সময়টা বড় অল্প। মেনে নেওয়া, মানিয়ে নেবার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বাস, সম্মান আর ভালোবাসাই পারে এই অল্প সময়ের জার্নিটা সফল এবং সুন্দর করতে।

শেয়ার করুন:
  • 293
  •  
  •  
  •  
  •  
    293
    Shares

লেখাটি ১,৭৩৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.