পিরিয়ড পেইনকে জয় করা যায় সহজেই

0

ডাক্তার তাবাসসুম নাজ:

পিরিয়ডওয়ালা মেয়েদেরকে মোটামুটিভাবে তিনভাগে ভাগ করা যায় (কোনো ডাক্তারি বইতে এসব খুঁজতে যাবেন না। এটা আমার মাথা প্রসূত)

১। যারা পিরিয়ডের সময় দাঁত কেলিয়ে, আঁচল/ওড়না উড়িয়ে চলাফেরা করে বেড়ান, কোনোরকম ব্যথা বেদনা ভোগ করেন না, জেনে রাখবেন আপনাদের আমরা খুবি হিংসা করি। আপনারা উঠতে বসতে শোকর করবেন।

২। যারা ব্যথা/অস্বস্তিভোগ করেন ঠিকই, কিন্তু সেটা উপেক্ষা করে কাজকর্ম করবার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ সেটা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়নি, তবে প্রতিকার পেলে উপকৃত হোন। আমার এই পোস্টের টার্গেট অডিয়েন্স ইনারাই।

৩। এই গ্রুপের নারীদের ডাক্তারি পরামর্শ নেবার উপদেশ দিব। তারা কারা?

যদি আপনার অসহ্য ব্যথা ও প্রচুর ব্লিডিং হয়;
যদি ব্যথার কারণে আপনার দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়;
যদি সময়ের সাথে সাথে এই অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে;
যদি আপনার বয়স ২৫ এর বেশি হয় এবং এই অবস্থা হঠাৎ করে আরম্ভ হয়;
যদি যেসব পেইনকিলারের কথা এই পোস্টে বলা হয়েছে সেসব খেয়ে আপনার কোনো উপশম না হয়।

কেন এই গ্রুপের নারীদের ডাক্তারি পরামর্শ নেয়া জরুরি?

কারণ তাদের আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা দরকার। তাদের এন্ডোমেট্রিওসিস, পেলভিক ইনফ্লামেটোরি ডিজিজ, ফাইব্রয়েড, স্টেনোসিস অফ সার্ভিক্স প্রভৃতি কঠিন কঠিন নামের অসুখ থাকতে পারে। যদি থাকে তবে তার যথাযথ ডায়াগনসিস ও চিকিতসা করা একান্ত কর্তব্য। রোগ পুষে রেখে তাকে জটিল বানিয়ে শরীরের বারোটা বাজানো কোনো কাজের কথা না। তাই আপনাদের জন্য একটাই উপদেশ— ডাক্তার দেখান। এখানে ভয় পাই/ লজ্জা পাই এসব অজুহাত খাটবে না। দরকার হয় নারী ডাক্তারের কাছে যান, কিন্তু ডাক্তার দেখান ও চিকিৎসা নিন!

এখন ফিরে আসি দুই নম্বর গ্রুপের নারীদের কাছে। প্রতিমাসে পিরিয়ডের সময় আপনাদের নিচের সিম্পটমগুলি হচ্ছে (এক বা একাধিক)—

তলপেটে ব্যথা/ক্র্যাম্প
তলপেটে চাপ অনুভব করা
কোমর/হিপ/থাইয়ে ব্যথা
বমিবমি ভাব/বমি হওয়া
মাথাব্যথা
ডায়রিয়া
ক্লান্তি
মেজাজ খারাপ/ইমোশনাল হয়ে পড়া
ব্লোটিং অর্থাৎ শরীর ফেঁপে যাওয়া/গায়ে পানি জমা

—কাদের কাদের এসব হবার সম্ভবনা বেশি?
• যদি মাসিক খুব অল্প বয়সেই শুরু হয়ে যায় (১১ বছরের আগে)
• যাদেক মাসিক ৫ বা এর বেশিদিন ধরে থাকে
• যাদের এখনো কোনো বাচ্চা হয়নি
• যাদের ফ্যামিলি হিস্ট্রি আছে, অর্থাৎ যদি মা/খালা/বড় বোনের থাকে তবে হবার চান্স বেশি
• যারা সিগারেট খায়।

—তো কী করলে মাসের এই কয়টা দিনকে একটু সহনীয় করা যায়?

১। ওষুধ খান
ব্যথা কমানোর সবচেয়ে উপযোগী উপায় হচ্ছে পেইনকিলার খাওয়া। যেমন, এসিটামিনোফেন,আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রক্সেন অথবা কিটোপ্রফেন।
ব্যথা আরম্ভ হবার সাথে সাথে ওষুধ খেয়ে নিলে সবচাইতে ভালো ফল পাবেন।

এখন সুযোগ যখন পাচ্ছি তখন আরো একটা গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপার নিয়ে দুইচারটা কথা বলি। যে কোনো জিনিসের মত ওষুধ খাওয়ারও একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। যখন মনে চাইলো খেয়ে নেয়া, নিয়ম না মানা, ইচ্ছা হলো তো খাওয়া বন্ধ করে দেয়া, এসব করা মানে নিজেরই ক্ষতি করা। ওষুধ কখন, কীভাবে, কতদিন খেতে হবে এই প্রত্যেকটা পয়েন্টের পিছনে একটা সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা আছে। সেজন্য সেগুলি মেনে চলা জরুরি। এই বিষয়ে মনে কোনো সংশয় থাকলে বারবার প্রশ্ন করে জেনে নেবেন। এবং আরো ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার হচ্ছে তা মেনে চলবেন।

অনেককে দেখি পেইনকিলার মুড়ি মুড়কির মতো খেতে।
অনেককে দেখি এন্টিবায়োটিক কোর্স কমপ্লিট না করে ছেড়ে দিতে।
অনেককে দেখি ওষুধ যখন তখন খাওয়া বন্ধ করে দিতে। অথচ সেই সব ওষুধ ট্যাপারিং ডোজ অর্থাৎ আস্তে আস্তে ডোজ কমিয়ে বন্ধ করবার নিয়ম।
আমার এক আত্মীয়ার নতুন বিয়ের পরে তাকে দিনে তিন চারটা পিল খাওয়াতে দেখেছি।

একজন ডাক্তার হিসাবে বলতে পারি উপরের প্রতিটি সিনারিও কার্যকরি তো নয়ই, বরং বিপদ ডেকে আনতে পারদর্শী।

তবে এখন আমি শুধু পেইনকিলার সম্বন্ধে দুই চারটা কথা বলবো।
যদি আপনার কিডনি বা স্টমাক সমস্যা থাকে তবে ডাক্তারের পরামর্শে খাবেন।
কিছু একটা খেয়ে নিয়ে ওষুধ খাবেন। খালি পেটে খেয়ে এক উপসর্গ কমাতে গিয়ে আরেক বিপত্তি ডেকে আনার কোনো মানেই হয় না।

২। সেঁক নিন

একটা হিটিং প্যাড বা হট ওয়াটার বটল বা গরম তোয়ালে ব্যবহার করে আপনার তলপেটে অথবা কোমরের পিছন দিয়ে সেঁক নিন।
গরম সেঁকের ফলে মাসল রিলাকজেশন হয়,রক্ত চলাচলে বিঘ্ন কমে যায়, ফলে ব্যথাও কমে যায়। এক স্টাডিতে দেখা গেছে যে, ১০৪ ডিগ্রী তাপমাত্রায় সেঁক দেয়ার ফলে যে ব্যথা উপশম হয়েছে, আইবুপ্রোফেন বা অনুরূপ ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করাতেও অনুরূপ ব্যথা উপশম হয়েছে।
গরম পানিতে গোসল করলেও উপকার পাবেন। তবে আমাদের গরমের দেশে হয়তো সম্ভব না।

৩। মাসাজ করুন

২০ মিনিটের মতো আপনার তলপেটে ও কোমরের পিছনে হাল্কাভাবে মাসাজ করুন।
যদি দেশে পাওয়া যায় তো এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করে মাসাজ করুন, বিশেষ করে ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল।ল্যাভেন্ডারের ঘ্রাণ এমনিতেও খুবি রিলাক্সিং। রিসার্চে দেখা গেছে যে মাসাজ পিরিয়ড চলাকালীন ব্যথা উপশমে খুবই কার্যকরি।

এসেনশিয়াল অয়েল কখনো সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। এক চা চামচ ভেজিটেবল অয়েলে এক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিয়ে তা দিয়ে মাসাজ করবেন।

দেশে এসেনশিয়াল ওয়েল পাওয়া যায় না? বেশ তো, যেকোনো তেলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে মাসাজ করুন। লেবুর ঘ্রাণ এমনিতেও মন চাঙ্গা করে দেয়।

আরও একটা কাজ করতে পারেন। আকুপ্রেশারের সাহায্য নিতে পারেন। আকুপ্রেশার হচ্ছে আকুপাংচারের খালাতো ভাই, তবে আকুপাংচারের মতো এখানে সুঁই ব্যবহার করা হয় না। শুধু শরীরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে আঙ্গুলের চাপ দেয়া হয়। আকুপ্রেশারও ব্যাথানাশে কার্যকরি।

৪। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

এসময়ে অনেকেই ক্লান্তি/ দুর্বলতা অনুভব করেন। সেজন্য অন্য সময়ের চেয়ে বাড়তি বিশ্রাম নিবেন।
অনেকেই এসময়ে একটুতে ইমোশনাল হয়ে পড়েন। একা থাকতে চাইলে একা থাকুন, প্রয়োজন পড়লে কাঁদুন। নিজের শরীর, সেই শরীরের হরমোনের কাছে জিম্মি হয়ে আছি— তাই বাড়তি মনোযোগ পেতে ইচ্ছা করে।

আমাদের মেয়েদের প্রবনতা হচ্ছে নিজের অসুবিধা ইগনোর করে আমরা সুপার উইম্যান সাজতে চাই। আমার মধ্যেও এই প্রবনতা একসময়ে ছিল। কিন্তু এখন নাই। আমি যেমন অন্যের দেখভাল করি তেমনি অন্যেরও দায়িত্ব আমার দেখভাল করবার। আমার সোজা হিসাব!

এখানে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের বড় ভূমিকা আছে। বিশেষ করে পুরুষদের কথা বলছি। পিরিয়ড কোনো গোপন করার/ লজ্জার/ আশ্চর্য হবার ব্যাপার না। এটা স্বাভাবিক শারিরীক ব্যাপার। আপনাদের মা/বোন/ স্ত্রী/মেয়েদের এসময়ে একটু সহানুভুতির নজরে দেখবেন। বাসায় এ নিয়ে মুক্ত পরিবেশ রাখবেন। আমাদের জামানায় আমরা বাবার/ভাইয়ের কাছ থেকে এটা লুকিয়ে রাখতাম। কিন্তু এখন আমার মেয়ে অনায়াসে তার বাবাকে বলে, আমার প্যাড শেষ, প্যাড লাগবে।
মেয়েদের কাছে এসময়ে একটু সংবেদনশীলতার পরিচয় দিবেন, দেখবেন বিনিময়ে এর শতগুণ আপনি পাচ্ছেন। আখেরে আপনাদেরই লাভ!

৫। খাদ্যাভাস

পিরিয়ড পেইন আয়ত্তে আনার জন্য খাবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। এসময়ে কিছু খাবার খেলে উপকৃত হবেন, তেমনি কিছু খাবার বাদ দিলেও তার ফল পাবেন।

প্রথমে আসি কী কী খাবার বাদ দিবেন তার তালিকায়। এই সব খাবারকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিন—

অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার
ভাজাপোড়া
অতিরিক্ত লবনাক্ত খাবার যেমন চিপ্স, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ওনিওন রিং।
চিনি— চিনির অপকারিতার কথা বলতে গেলে মহাভারত। সোজা কথায় এমনিতেও চিনি কম খাওয়াই শ্রেয়।
কেক, বিস্কিট, দোকানের জিনিস যেখানে প্রচুর প্রিজার্ভেটিভ থাকে, প্রসেসড ফুড। বার্গার, পিজ্জা, হাবড়ি জাবড়ি খাবার (আমার মায়ের ভাষা)!
ক্যাফেইন বর্জন করুন। ক্যাফেইন শুধু যে চা-কফিতেই থাকে তা না, চকোলেট, কোক-পেপসি, এনার্জি ড্রিঙ্ক এসবেও থাকে। (তবে চায়ের ব্যাপারে পরে আসছি)

যা যা খাওয়া প্রয়োজন—
সহজপাচ্য হাল্কা মসলাযুক্ত খাবার। এসময়ে আপনার পরিপাকতন্ত্রের উপরে অযথা চাপ দিবেন না।
মুরগি, মাছ, সবুজ শাকসব্জি (আয়রন আছে, যেটা আপনি রক্তক্ষরণের জন্য হারাচ্ছেন)
কাঠবাদাম, পাম্পকিন সিড বা মিষ্টি কুমড়ার বীচি (ম্যাংগানিজ আছে, যেটা ক্র্যাম্প কমাতে সাহায্য করে)
অলিভ ওয়েল, ব্রকোলি (ভিটামিন ই আছে)
পেঁপে (প্রচুর ভিটামিন আছে)
হাল্কা লিকারের/ ডিক্যাফিনেটেড আদা চা বা পুদিনা চা পান করবেন। গরম পানীয় যেমন উপকারি, তেমনি আদার উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। আদা বমিবমি ভাব কমাতেও সাহায্য করে।

৬। পর্যাপ্ত পানি খান

প্রচুর পানি খাওয়া খুব জরুরি, কমপক্ষে ৬-৮ গ্লাস তো বটেই। পিরিয়ডের সময় অনেকের ব্লোটিং হয়, শরীরে পানি জমে— এর থেকে রেহাই পেতে হলে পানি খেতে হবে। জি, ঠিকই শুনছেন। শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বার করতে হলে পানিই খেতে হবে।
কুসুম গরম বা গরম পানি খেলে বেশি উপকার পাবেন। কেন? কারণ গরম পানি রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়, মাসল রিলাক্স করতে সহায়তা করে, তাই।
কী বললেন? পানি খেতে ভালো লাগছে না?
বেশ তো!
পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে নিন।
ইনফিউজড ওয়াটার খান। সেটা আবার কী জিনিস ভাবছেন? একজাগ পানির মধ্যে কয়েক টুকরা শসা আর পুদিনা পাতা ছেড়ে দিন। ধীরে ধীরে পানির মধ্যে শসা আর পুদিনার স্বাদ চলে আসবে। খেতে কিন্তু মজা। ট্রাই করে দেখেন।
আর একটা কাজ করতে পারেন। এমন খাবার খান যেটাতে পানির পরিমাণ বেশি। যেমন—
লেটুস
সেলেরি
শসা
তরমুজ

৭। এক্সারসাইজ

এক্সারসাইজের উপকারিতার কথা বলেও শেষ করা যাবে না। আমি পিরিয়ড চলাকালে একসারসাইজ করতে বলছি না। তবে পিরিয়ডের সময়ে একেবারে এক জায়গায় জগদ্দল পাথর হয়ে বসেও থাকবেন না, চলাফেরা করবেন। অল্পস্বল্প হাঁটাহাঁটি করলে তো আরো ভালো।
মেয়েরা, যারা পিরিয়ড ছাড়া অন্য সময়ে নিয়মিত একসারসাইজ/কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের পিরিয়ড পেইন অনেকটাই আয়ত্তের মধ্যে থাকে।
একসারসাইজ করলে এন্ডরফিন বা “হাসিখুশি” হরমোন নিঃসৃত হয়। ফলে আপনার মনেও প্রচুর ফুর্তি হবে। ফুর্তি হলে আপনি রিলাক্সড হবেন। এর ইফেক্ট গিয়ে পড়বে পিরিয়ডের সময়ে।

রিসার্চে দেখা গেছে যে, একসারসাইজ পিরিয়ড পেইন কমাতে এতোটাই কার্যকরি যে সেটা ব্যাথানাশক ওষুধ খাবার প্রয়োজনীয়তাও কমিয়ে দেয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি যোগ ব্যায়ামের বিরাট ভক্ত, তাই এটার কথাই আগে বলবো। যোগ ব্যায়াম শুধু শরীরের জন্য না, মনের জন্যও খুব উপকারি।

রিসার্চে দেখা গেছে, নিম্নলিখিত আসনগুলি পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে কার্যকরি—
সর্পাসন/ভুজঙ্গাসন
মৎসাসন বা ফিস পোজ
ক্যাট পোজ/বিড়াল আসন।

এই সুযোগে একটা কথা বলে নেই, যোগ ব্যায়াম কিন্তু খালি পেটে করতে হয়। যে কোনো জিনিস করবার আগে সেটা করার সঠিক নিয়ম জানা একান্ত জরুরি। নাহলে, উপকার হবার চাইতে অপকার হবার চান্স বেশী থাকে। যোগ ব্যায়ামের জন্য ইউ টিউবের সাহায্য নিতে পারেন। আমি সেখান থেকেই শিখেছি। তাছাড়া বইও পড়েছি।
এছাড়াও আপনি যে ধরনের একসারসাইজ করতে পছন্দ করেন তা দৌড়ানোই হোক বা হাঁটাই হোক অথবা সাঁতার কাটাই হোক, করলে তার ফল আপনি পাবেন।

৮। স্ট্রেস কমান

এবারে তো বলবেন, আপনি তো বলেই খালাস! আমার জীবন যদি আপনার হতো তো বুঝতেন হাউ মেনি প্যাডি, হাউ মেনি রাইস!
জি না, আমার জীবনেও স্ট্রেসের অভাব নাই, সবার জীবনেই আছে। তবে এই কয়টা দিন সেগুলিকে পারলে একটু ছুটি দিন। কী দরকার দুনিয়াসুদ্ধ লোকের সমস্যা নিজের ঘাড়ে নিয়ে ঝামেলা বাড়ানো?

স্ট্রেস কমানোর কিছু উপায় আমি দেই—

নামাজ তো পড়তে পারবেন না, কিন্তু গোসল করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে (বিরাট উপকার আছে) প্রার্থনা করুন। নিজের সাথে কথা বলুন, উপরওয়ালার সাথে কথা বলুন। মন হাল্কা হবে, সেই থেকে শরীরও।

আমি মেডিটেশন ও ভিজুয়ালাইজেশনের বিরাট ফ্যান। বিগত ২০/২৫ বছর ধরে করে আসছি। ফলও পেয়েছি প্রচুর।
চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে লম্বা শ্বাস নিন। শরীরকে রিলাক্স করুন, তলপেটে আপনার ইউটেরাসের উপর ফোকাস করুন। মনের চোখ দিয়ে দেখুন সেখানে রক্ত চলাচল বেড়ে যাচ্ছে, কোথাও আটকে যাচ্ছে না। ইউটেরাসে মাসলগুলি রিলাক্স হয়ে যাচ্ছে। যত পরিস্কারভাবে দেখতে পাবেন, ততো বেশি উপকার পাবেন।

তবে এখানে আবার বলে দেই, যেকোনো জিনিসের মতো মেডিটেশনও অনুশীলন করে আয়ত্ত করতে হয়। একদিন করবেন আর আশা করবেন যে ব্যথা ভোজবাজির মতো মিলিয়ে যাবে, তা কিন্তু না। করতে থাকেন, একসময়ে দেখবেন আপনার শরীর কী সুন্দর আপনার কথা শুনছে।
আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? দরকার নাই, নিজে করে দেখুন!

৯। বাড়তি ওজন কমান
এর উপকারিতার কথা তো আর আলাদাভাবে বলার প্রয়োজন নাই।

১০। ধুমপান/মদ্যপান বাদ দিন

সবার সুস্বাস্থ্য ও সুখী জীবন কামনা করছি। যদি আপনাদের মধ্যে একজনও আমার এই লেখায় উপকৃত হন তবে আমি আমার পরিশ্রম সার্থক মনে করব।

রেফারেন্স—

ওয়েব এমডি
হেলথলাইন
মেয়ো ক্লিনিক
অন হেলথ
ই-মেডিসিন হেলথ

লেখক –
ডাক্তার তাবাসসুম নাজ (ডিএমসি)
ক্লিনিকাল রিসার্চ এসোসিয়েট।
কানাডা

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 614
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    614
    Shares

লেখাটি ২,৬০১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.