‘শুধু উত্তরাধিকার দিয়ে রাজনীতি হয় না, যোগ্যতাও থাকতে হয়’

joyউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক:, “শুধুই উত্তরাধিকার দিয়ে রাজনীতি হয় না। যোগ্যতা থাকতে হয়। রাজনীতি করা ডিপেন্ড করে সম্পূর্ণ মেধার ওপর, ক্যাপাবিলিটির ওপর। আমি কার ছেলে, সেটা তুলে ধরেই যে আমি রাজনীতি করব, তা কিন্তু নয়।”

বৃহস্পতিবার রাতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তর এ এক সাক্ষাতকারে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। রাজনীতিতে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ উত্তর দেন।

বহুল আলোচিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বর্তমানে রাজনীতিতে তার আবার সক্রিয়তার কারণও ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, “রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে না থাকলেও ২০০৪ সালে ২১ অগাস্ট যখন আমার মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, তখন বাধ্য হয়েই রাজনীতিতে নামি।” এবারও বিএনপির নানান অপপ্রচার রুখে দিতে দলকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সক্রিয় হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি এসেছি শুধু আমার দলকে সহযোগিতা করতে। আমার চিন্তা হলো, বাকি ছয় মাস আমার জন্য উপযুক্ত সময়। এই সময়ের মধ্যে চেষ্টা করে আমার দলকে জেতাতে হবে। দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মোকাবেলা করতে এসেছি।”

সম্প্রতি পাঁচ সিটি কর্পোরেশান নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির ব্যাপারে তিনি বলেন, ওইসব নির্বাচনে স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যু প্রভাব খাটিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সাথে এসব নির্বাচনের তফাৎ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জয় বলেন, “মিউনিসিপ্যাল ইলেকশানে ভোটার টার্নআউট ছিল প্রায় ৬০ পার্সেন্ট। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে সেটা হয় ৮০ থেকে ৮৩ পার্সেন্ট।”

জাতীয় নির্বাচনে নৌকার ব্র্যান্ড ইমেজই দলকে জেতাবে বলে দাবি করে তিনি বলেন, “ন্যাশনাল ইলেকশানে মানুষ ভোট দিতে যায় তখন ভোট দেয় নৌকা আর ধানের শীষ দেখে। নৌকার আলাদা একটা ব্র্যান্ড ইমেজ আছে। যারা নৌকার ভোটার, তারা কিন্তু শেষমেশ নৌকায়ই ভোট দেবে।”

দলের কর্মীদের মধ্যে অনৈক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় আসলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনৈক্য দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এমনটি হয় বলে জানান তিনি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এগুলো ঘুচে যাবে।”

তাঁর বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি বিরোধীদলের অপপ্রচারের সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, “বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে জাতীয় পর্যায়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগ খানিকটা এগিয়ে আছে। সেসব জরিপ বিদেশি বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরিচালিত। সুতরাং আমার বক্তব্য ঘুরিয়ে এতে কুটিল ও ষড়যন্ত্র দেখা একেবারেই অমূলক। সেসব কাজ বিএনপিই করতে পারে। এ অভ্যাস তাদের আছে।”

পদ্মা সেতু বিষয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন টাকা বিতরণ করা হয়নি। শুধু দুর্নীতির ইচ্ছে ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তাই তাকে ধরা হয়নি। তাকে ধরার জন্য কোনো একটা প্রমাণ লাগবে’।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.