প্রেম করবো

0

উপমা মাহবুব:

শুক্রবার। দুপুরবেলা। সুরেলা শব্দে মোবাইল বেজে উঠল। অপরিচিত নম্বর।
আমি: হ্যালো, কাকে চাচ্ছেন?
অপরিচিত পুরুষ কন্ঠ: (একটু নিরব থেকে গলায় মধু ঢেলে) আপনাকে।
বলার ধরনেই বুঝলাম খুব শিক্ষিত টাইপ না। সাধারণ পরিবারের অল্পবয়স্ক কোনো ছোকরা। ছুটির দিনে ফোনে মেয়েদের বিরক্ত করে মজা পেতে চাচ্ছে।
আমি (ঐ ছোকরার চেয়েও বেশি মধুমাখা গলায়): আমাকে চাচ্ছেন? বলুন কী বলবেন।
কোন অপরিচিত মেয়ে মনে হয় তার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে এতো সানন্দে রাজি হয়নি। সে একটু ইতস্তত গলায় বলল, ‘প্রেম করবো’।
আমি (একই রকম মধুমাখা গলায়): আমার সঙ্গে প্রেম করবেন? খুবই আনন্দের কথা। করেন। আমি ফোন ধরে আছি। প্রেম করেন।

উপমা মাহবুব

ছোকরা ভাবলো, তাকে লাই দিচ্ছি। সে বললো, ‘আপনি বিবাহিত নাকি অবিবাহিত?’
আমি (খুবই অবাক হওয়ার ভান করে): আপনি বলেছেন আমার সঙ্গে প্রেম করবেন। আমি তাতে রাজি হয়েছি। আমি তো আপনাকে একবারও বলিনি যে আপনার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিব। আপনি প্রেম করতে চাইসেন প্রেম করেন। আমাকে প্রশ্ন করেন কেন? বিবাহিত নাকি অবিবাহিত জেনে আপনার কী দরকার?
ছোকরা এবার একটু মিনমিনে গলায় বললো, ‘না মানে এমনি জানতে চাচ্ছিলাম।’
আমি বললাম, ‘আপনি প্রেম করবেন বলসেন। প্রেম করেন। আমাকে কোন প্রশ্ন করবেন না।’
আমি বেশ জোরে কথা বলছিলাম। তাই পাশের রুম থেকে হন্তদন্ত হয়ে অমিত, মানে আমার স্বামীপ্রবরের আগমন ঘটলো। জিজ্ঞেস করলো, ‘কী হয়েছে? কার সঙ্গে কথা বলো?’
আমি ফোনের ওপাশের ছোকরাকে শুনিয়ে বললাম, ‘আমার সঙ্গে একজন প্রেম করতে চাচ্ছেন। আমি রাজিও হয়েছি। কিন্তু উনি কোন প্রেমই করছেন না। শুধু আমাকে নানারকম প্রশ্ন করছেন’।

অমিত বুঝতে পারলো, কেউ আমাকে বিরক্ত করছে না, বরং আমিই কাউকে ফাঁদে ফেলেছি। আর কোনো প্রশ্ন না করেই সে তার নিজের কাজে ফিরে গেল।
এদিকে আমার প্রেম করার প্রবল আগ্রহে ওপাশের ভদ্রলোক (!) ততক্ষণে অস্বস্তিতে পড়ে গেছেন। এলোমেলো দু’একটা কথা বলার চেষ্টা করলেন, প্রত্যেকবারই আমি গলায় অত্যন্ত অস্থিরতা ফুটিয়ে তুলে বললাম, ‘আপনি এসব বলছেন কেন, আপনি প্রেম করেন।’
কোনভাবে আমাকে বাগে আনতে না পেরে ছোকরা বললো, ‘আচ্ছা এখন ফোন রাখি। জুম্মার নামাজের পর আবার কল দিব।’
আমি চোখ কপালে তুলে বললাম, ‘আপনি নামাজ পড়ে আবার প্রেম করবেন? আপনি কি সবসময় এরকম নামাজের আগে ও পড়ে ফোনে প্রেম করেন?’ পোলায় ততোক্ষণে পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। কোনমতে বললো, ‘না, মানে আমি নামাজ পড়ি না, কিন্তু নামাজের পড়ে কল দিবো।’

আমি বললাম, ‘তাহলে কি আমাকে নামাজ পড়ে তারপর আপনার সঙ্গে প্রেম করতে বলছেন? এই সময় কি আপনি অন্য কারও সঙ্গে প্রেম করবেন?’
ছোকরার ততক্ষণে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। বলল, ‘না, না আর কাউকে ফোন দিব না। নামাজের পর শুধু আপনাকেই ফোন দিব।’

এতোক্ষণ কথা বলেও প্রেম করতে না পেরে আমারও তখন মেজাজ গরম। বললাম, ‘আপনি এক কাজ করেন। বসে বসে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করেন কীভাবে ফোনে প্রেম করতে হয়। নোট নেন। তারপর আমাকে ফোন দেন।’

ফোনটা সাথে সাথেই কেটে দিল। তারপর থেকে আমি আজও ফোনে প্রেম করার আশায় প্রহর গুনছি। কিন্তু তার প্রস্তুতি নেওয়া এখনও বোধ হয় শেষ হলো না।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 927
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    927
    Shares

লেখাটি ৬,৭৫৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.