সমপ্রেমী মধ্যাহ্ন

0

অনির্বাণ সরকার:

(১)
ঘন দুপুর।
গাছের পাতার সরসর। ক্লান্ত কাকের ডাক।
আমাদের গল্প শুরু হচ্ছে দুপুরবেলা শহরতলির একটি বাড়িতে।
আধপাকা বাড়ি। বাড়িতে তিনটি প্রাণী। দুটি মানবী, একটি কুকুর।

ছোট ঘরটিতে বৃদ্ধা। নিদ্রামগ্ন। অপর প্রান্তের আর একটি ঘরে রুগ্না যুবতী এক। যুবতীর নাম বাসনা। বাসনা বিবাহিতা এবং তার বুকে সাতদিন আগে মারা যাওয়া সদ্যোজাত সন্তানের জন্য শোক।
বাসনার ঘরের সামনে শুয়ে থাকা কুকুরটিও ঘুমে। বাসনার ঘুম নেই। তার গালে শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুর দাগ। মৃত সন্তানকে মনে করে সে কেঁদেছে কিছুক্ষণ আগে।
.
বৃদ্ধা, সম্পর্কে বাসনার শাশুড়ি- এ কান্নার খবর রাখেন না। বৃদ্ধার চোখে বাসনার জন্য আর কোনো মায়া নেই, যে মায়া সাতদিন আগে পর্যন্তও ছিলো। অল্প কটা দিন। যে কদিন নবাগত শিশুটি বেঁচে ছিলো। বেঁচে ছিলো বাসনার গর্ভে আর পৃথিবীতে আসার পর।

ছাব্বিশ বছরের বধূ বাসনা সাত বছর ধরে এ সংসারে নির্যাতিতা।
তার স্বামী এখন ঘরে নেই। স্বামী মহেশ মদ্যপ। বাসনাকে পেটানো তার প্রতিদিনের নিয়ম। ভোরে বা মধ্যরাতে।
বাসনার স্বামী মহেশ জমির দালাল। তার চেহারা, স্বভাবে বিন্দুপরিমাণ কোমলতা নেই।
বাসনা কোমল। অনাথা। তার যাবার জায়গা নেই। ঊনিশের বাসনাকে মামা মামী এইখানে বিয়ে দিয়ে দায় সেরেছে।
বাসনা মামার সংসারে পরগাছার মতো ছিলো, এখানেও। বাসনার মনে জোর নেই।

মনে জোর না থাকলেও প্রকৃতির নিয়মে তার শরীরে যৌবন এসেছিলো। সে যৌবনে মাসখানেক মজেছিলো মহেশ। বাসনার শরীর ছেনে সে সুখ পেয়েছিলো। স্বামীকে ভালো না লাগলেও বাসনাও শরীরের আনন্দ লাভ করেছিলো।
এখন নয় আর। মহেশের আর টান নেই বাসনাতে। মহেশ রাত কাটায় বাইরে। কখনও বাজারের কারো ঘরে, শুনতে পাওয়া যায়। কোনোদিন ঘরে থাকলে হয়তো বাসনার শরীর ঘাঁটে। তাতে আদর নেই। শুধু সঙ্গম।
বাসনাকে প্রহার করাও মহেশের কাছে খেলা। কারণে নয়, অকারণে।
বাড়ির রান্না বাসনা করে। ঘর মোছে। কাপড় কাচে। বাসনার শরীরে বিপুল শক্তি, সে কোমল হলেও।
এখন আর সে শক্তি নেই।

কোনো এক অসতর্ক অভ্যাসে গড়ে ওঠা বাসনার গর্ভকাল ঔদাসিন্যে কেটেছে- এমন বলা যায় না। শাশুড়ি তাকে অযাচিত আদর দিয়েছে নয়টি মাস। পুত্রসন্তান হবে, এই আশায়। হয়েওছিলো তাই। বাঁচেনি সাতদিনের বেশি। শিশুটির বুকে ঠাণ্ডা বসেছিলো। চিকিৎসা পায়নি। পৃথিবীর কিছুই না দেখে সে চুপচাপ মরে গেলো। মহেশ পুত্রের মুখ দেখে উচ্ছ্বসিত ছিলো। তবে কি না, সবার উদযাপন তো আর একরকম নয়। শিশুটি অসুস্থ, সেই খবর তার কানে গেলেও পিতা হওয়ার আনন্দে সে মদ গিলেই বাড়ির বাইরে কাটিয়েছে। অল্প যে সময় বাড়িতে এসেছে, শিশুর অসুস্থতা নিয়ে বাসনার কথায় বিরক্ত হয়েছে। ‘মা হৈলেই মাইয়াগুলার মাথা নষ্ট হইয়া যায়। আমার কাম আছে, ডাক্তারের কাছে নিতে পারমু না’- এই বলে সে বেরিয়ে গেছে।
শিশুটির মৃত্যুর পর শাশুড়িও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বাসনা থেকে। মুখ ফিরিয়েছে, কিন্তু মুখ চলছে আগের মতো, যখন বাসনাকে বাঁজা বলেই স্থির করেছিলো মহেশ আর তার মা।
.
বাসনার শরীর ভেঙে গেছে। মনও।
এখন বাসনা শুয়ে আছে, একটু পর সে স্নানঘরে যাবে, অবেলায়।
আমরাও স্নানঘরে যাবো। দেখবো অবেলায়, এই মধ্যদুপুরে বাসনা স্নানঘরে কি করে।
বাসনা চোখ মুছে খাট থেকে নেমে এলো।
পা বাড়ালো বাইরে।
কুকুরটা মুখ তুলে তাকালো।
বাসনা কুকুরকে ডিঙিয়ে স্নানঘরের দিকে বাড়ালো তার রুগ্ন, রুক্ষ পা দুটি।
.
(২)
বাড়ির একটেরে ঘুপচি স্নানঘর। শ্যাওলাপড়া দেয়াল, টিনের দরোজা। ছাদ বলে কিছু নেই। দুচারটি গাছফাছ আছে এ ঘরকে ঘিরে।
স্নানঘরে একটা ভাঙা লোহার বালতি, একটা প্লাস্টিকের মগ। শুকনো কাপড় রাখার জন্য এদেয়াল-ওদেয়াল জোড়া মোটা একটা দড়ি।
বাসনা টলতে টলতে ইট-বেছানো পথ দিয়ে হেঁটে স্নানঘরে ঢোকে। এ পরিশ্রমে তার মাথা ঘোরায়, বুকের ভেতর পর্যন্ত শুকিয়ে যায়।
কোনোমতে তার দিয়ে দরজা আটকে দেয়। হাঁপায়। চোখের সামনে পাতলা পর্দা কাঁপতে থাকে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া ঠেকাতে দেয়াল ধরে বাসনা ভেজা মেঝেতেই পা ছড়িয়ে বসে পড়ে।
.
পল, অনুপল কেটে যায়।
কিছুটা ধাতস্থ হয় বাসনা।
বালতি থেকেই আঁজলা করে জল খায়।
এবার তার কান্নার পালা।
শাশুড়ি যেন তার রোদনের শব্দ শুনতে না পায়, শোনার পর আবার যেন না খুলে যায় বৃদ্ধার মুখের আগল, তাই বাসনা স্নানঘরে এসেছে।
এখানে আসার অন্য একটি কারণও অবশ্য আছে তার।
.
মিনিট দশেক বুক উজাড় করে কাঁদলো বাসনা। চোখ দিয়ে জল বেরোলো না, গলা দিয়ে বেরোলো গভীর, বেসুরো আর্তনাদ।
একটি কাক পাঁচিলে বসে নিচু চোখে ক্রন্দনরতা বাসনাকে দেখে।
হাওয়ায় বালতির মাঝে উড়ে এসে পড়ে একটি হলুদ পাতা।
কান্নার বেগ মন্দীভূত হয় একসময়।
বাসনা চুপ করে চোখ বুঁজে বসে থাকে ভেজা মেঝেতে।
মূহুর্তকাল।
তারপর দ্রুতই শাড়ির আঁচল ফেলে দেয় বুক থেকে।
গাঢ় কালো বৃন্ত দুটির দিকে তাকিয়ে থাকে শূন্য চোখে।
একটি স্তন ধরে দুহাতে। ব্যথা ফুটে ওঠে মুখের রেখায়। শিশুটি নেই। স্পর্শকাতর স্তন তাই।
কাক ডেকে ওঠে দুবার।
বাঁ হাতের তর্জনী আর বুড়ো আঙুলের চাপ পড়ে ফুলে ওঠা স্তনবৃন্তের বলয়ে।
ফিনকি দিয়ে তিনটি ধারায় বেরিয়ে আসে দুধ। শাড়ি ভিজে যায়, বুক-পেট ভিজে যায়, ছড়িয়ে থাকা পায়ের পাতা পর্যন্ত ভিজে যায়।
লোহার বালতির চারপাশে গোল হয়ে ছড়িয়ে যায় দুগ্ধধারা। বেদনার মতো, নিষিদ্ধ দুঃস্বপ্নের মতো স্নানঘরের জল বেরোনোর ফুটো দিয়ে গড়িয়ে যেতে থাকে সাদা তরল। আদিম গন্ধে ভরে যায় চারপাশ।
বাসনা এইসময় আবার কাঁদে।
এবারের কান্না শব্দহীন।
দুধের ধারার যে গতি, অশ্রুর গতি তার চেয়ে কম।
বাসনার শরীরে আলস্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আরামদায়ক ক্লান্তিতে সে শুয়ে পড়ে। অশ্রুজল, স্নানঘরের মেঝের জল আর আঠালো দুধের ভবিতব্য না ভেবে বাসনা সবকিছু নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য তন্দ্রামগ্ন হয়।
একটি কালো দাঁড়কাকই শুধু ছিলো বাসনার অশ্রুমথিত, গোপন আত্মক্ষরণের সাক্ষী।
.
(৩)
আলো মরে এসেছে।
লাল হচ্ছে আকাশ।
দূরের মাঠ থেকে শোনা যায় শিশুদের খেলা নিয়ে চেঁচামেচি।
বাসনার শাশুড়ির ঘুম ভাঙে। উঠেই তিনি বাসনার খোঁজ করেন। না পেয়ে চিৎকার জুড়ে দেন।
“সাঝ হইতাছে। ঘরের বাতি জাললা না? ও বউ! কই গেলা!”
বাসনার সাড়া নেই।
বিকেল হতেই বৃদ্ধার চায়ের তেষ্টা পায়। না পেয়ে মেজাজ চড়তে থাকে।
স্নানঘরে বাসনা একভাবেই পড়ে ছিলো। দৌর্বল্য আর ক্লান্তি আর দুগ্ধরূপী বুকের পাথর নেমে যাওয়ার আলস্যে ঘুমিয়ে পড়েছিলো সে।
.
একটা বেড়াল পাখির ছানা ধরবে বলে নিঃশব্দে এগিয়ে আসছিলো গাছের ডাল বেয়ে।
পক্ষীমাতা দুর্বৃত্ত বেড়ালকে ঠোকর দেয়। অব্যক্ত যন্ত্রণার শব্দ করে বেড়ালটা গাছ থেকে পিছলে গিয়ে পড়ে স্নানঘরের টিনের দরজায়। ঝনঝন শব্দ হয়।
ধরফড়িয়ে উঠে বসে বাসনা। হঠাৎ বুঝতে পারে না সে কোথায়।
শাশুড়ির কথা কানে আসে। তিনি বাসনার নাম ধরে চেঁচিয়েই চলেছেন।
টলোমলো পায়ে উঠে দাঁড়ায় বাসনা।
বালতির জল মগ দিয়ে মাথায় ঢালতে থাকে ক্রমাগত।
পাখিরা গাছে ফিরছে। শোনা যায় তাদের কোলাহল।
শোনা যায় বুড়ি শাশুড়ির গালাগাল।
বাসনা স্নান করছে।
মুছে ফেলছে তার ক্ষরণের চিহ্ন।
শ্যাওলার গন্ধ স্নানঘরে ফিরে আসছে আবার।
.
(৪)
এইভাবেই দিন যাচ্ছিলো।
সংসারে পিষ্ট হওয়া বাসনা, মুখরা শাশুড়ি আর নিদয় মহেশ।
এক বছর পর।
সময়টি অল্প, আবার খুব অল্পও নয়।
প্রতিবেশীরা এর মাঝে জেনে গেছে এ বাড়ির বউয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
বাসনা সংসারের কাজ করে না এমন নয়, শাশুড়ির কটুবাক্য শোনে না এমন নয়, স্বামী মহেশের প্রহারে প্রতিবাদ করে কিংবা তার ইচ্ছেমতো বিছানায় শরীর মেলে দেয় না- এমনও নয়।
তবে বাসনার কি হয়েছে?
বাসনার চোখের কোলে কালি, এ চোখে জলে ডোবা মানুষের মতো দৃষ্টি আর নিঃশব্দ কান্না।
সকলের ধারণা মৃত শিশুর কথা ভেবেই তার এই দশা।
.
প্রতিবেশীরা তাকে ভয় পায়।
শিশু দেখলেই বাসনা তাকে কোলে নিতে চায়, ঘরে এনে আটকে রাখতে চায়।
আদরে আদরে ভরে দিতে চায় শিশুদের।
মৃতবৎসা জননীর হাতে পড়ে শিশুর ক্ষতি হবে- এই আশঙ্কায় তরুণী মায়েরা কাঁপে।
ফাঁক পেলেই শাড়ি ছিঁড়ে, পুরোনো কাপড় ছিঁড়ে শিশুদের জামা বানাতে বসে বাসনা। দেয়া হয় না। মায়েরা শিশুর হাতে বা গায়ে এই জামা দেখলেই ফেলে দেয়। গালাগাল আর অভিশাপ করতে থাকে বাসনাকে। স্তুপ জমেছে এইসব অর্থহীন জামার।
স্তুপ জমেছে প্রতিবেশীদের অভিযোগের।
তাদের দুরন্ত শিশুরা ঘরে থাকতে চায় না।
উঠোনে, মাঠে ঘুরে বেড়ায়।
এদের দেখলেই বাসনা জোর করে ঘরে নিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা মহেশের কাছে নালিশ দিয়েছে একাধিকবার। মহেশের মাথায় আগুন ধরে গেছে। বউয়ের আচরণের অর্থ বোঝে না সে।
প্রহারের মাত্রা বাড়িয়েছে মহেশ, কিন্তু বাসনার রোগ সারেনি।
শাশুড়িও বাসনাকে বিরতিহীন তিরস্কার করে শোধরাতে পারেননি।
শিশুদের প্রতি অব্যাখ্যাত স্নেহ বাসনার রোগ।
আরও কিছু অতৃপ্তি হয়তোবা সাতাশের পূর্ণ যুবতী বাসনার অভ্যন্তরে ঘুমিয়ে ছিলো।
বাসনা তার খবর জানতো না।
এই সময় নীলা এলো তার জীবনে।
.

.

নীলা একটি ফর্সা ছোটোখাটো মেয়ে। কুড়ির কাছাকাছি। সে-ও অনাথ। কয়েক মাস হলো কাজ করছে এ বাড়িতে।
মহেশের মা একদিন ছেলেকে বলে- “বউরে সামলাইতে পারি না বাবা। পুলাপাইন নিয়া আহে বারিতে। মাইনসে গাইল দেয়।”
মহেশ ভেবে দেখে। ভাবতে থাকে। আধপাগলা বউকেও কেন যেন সে ফেলতে চায় না।
অযাচিত সুযোগ এসে যায়।
জমির দালালির এক সঙ্গী শহর ছেড়ে চলে যাবে দুবাই। পরিবার পাঠিয়ে দেবে গ্রামে। তার বাড়ির কাজের মেয়ে এই নীলা। সে যাবে না। নীলাকে এইভাবে পেয়ে যায় মহেশ।
এ পাওয়া নানা অর্থে।

মহেশের মা নীলাকে বলেছিলো- “তুই খালি বউটারে নজরে রাখবি। বাইরে গিয়া য্যান পুলাপান ধইরা না আনে।”
নীলার কাজ হয়ে দাঁড়ায় তাই বাসনাকে চোখে চোখে রাখা।
নীলা বাসনাকে দেখে। তার দুঃখ দেখে, তার কান্না দেখে, তার পাগলামো দেখে।
বাসনা বাইরে যেতে চাইলে সে বাধা দেয়। তাকে ধরে আনে। বাসনা কাঁদে। নীলা বাসনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
মহেশ মোটামুটি নিশ্চিন্ত এখন। সুখী।
মহেশ অন্য সুখও পেয়েছে।
.
নীলার ঘরে মহেশ এক বৃষ্টির রাতে মাতাল অবস্থায় ঢুকে পড়েছিলো। ঘুমন্ত নীলার শরীরে রেখেছিলো রোমশ হাত।
নীলা জেগে উঠেও বাধা দিতে পারেনি।
অনাথা নীলা চোখের কোলে জল নিয়ে শুয়ে থেকেছিলো।
এখন এটা নিয়মিত।
বাড়ির বৃদ্ধাটি জানে। নীরব প্রশ্রয় আছে তার। পাগলা বউয়ে সুখ নেই, তাই ছেলে নীলার কাছে যায়। এতে দোষ নেই।
বাসনাও জানে বোধহয়।
কিন্তু বাসনা উদাসী। এ নিয়ে ভাবে না কিছুই।
সে চুপচাপ ঘরের কাজ করে যায়। বাইরে যেতে চায়।
বাইরে গেলে নীলার হাতে ধৃত হয়ে আবার ফিরে আসে ঘরে।
.
এক দুপুরে অনেক কিছুই বদলে গেলো। তা হয়তো হবারই ছিলো।
নীলা তার ভাগ্যের সাথে বাসনার ভাগ্যকে মেলায়। বাসনাও এখন নীলার কথা শোনে। দুই দুঃখী নারীর মাঝে অদৃশ্য সেতু তৈরি হয় ধীরে ধীরে।
সেই দুপুরের কথা। মহেশ বাড়িতে নেই, বাসনার শাশুড়ি নিদ্রায়।
.
সেই দুপুর।
নীলা ঘরে আসে।
তার চোখ বাসনায়।
বাসনা খাটে বসে অস্তিত্বহীন কোনো শিশুর জামা তৈরি করছিলো।
বাসনার চোখ সেলাইয়ে। কিংবা সেলাইয়ে নয়। অনামা, অজানা শিশুর জামায় একটি ফোঁড় দিয়ে সে ঠোঁট কামড়ায়। আঙুলের রক্তবিন্দুতে ঘরের আলো।

বাসনার চোখ নীলায়। চোখ নেমে আসে। চোখ সেলাইয়ে বাসনার।
নীলার চোখ সরে না। নীলার চোখ বাসনায়।
বাসনা অনুভব করে নীলার শরীর তক্তপোষে বসেছে।
হাতের সেলাই রেখে দেয় বাসনা।
পেয়ারা গাছ থেকে কাক ডেকে ওঠে দুবার। একটানা দুবার।
নীরব, ঘন দুপুর।
নীলা হাতের সেলাই টেনে নেয় বাসনার।
সেলাই পাশে রেখে নীলা হাতে টেনে নেয় বাসনার ফর্সা ডান হাত। বাসনা স্থির।
এবার তার চোখ সরে না। চোখ নীলায়।
নীলা চুষতে শুরু করে বাসনার ডান হাতের তর্জনী। নীলার জিভে নোনতা স্বাদ। রক্তের।
বাসনা স্থির হয়ে থাকে কিছুক্ষণ।
বাসনা নীলাকে দেখে। নীলার চোখ দেখে। ঠোঁট দেখে।
বাসনা তার ঠোঁট এগিয়ে দেয়।
নীলা বোঝে। নীলা স্বচ্ছ জলের নদীর মতো বাসনার তলদেশ দেখতে পায়।
কাক ডেকে ওঠে আরেকবার। একটি দোয়েল শিস দেয় কোথায় যেন।
নীলা মুখ উঁচু করে বাসনার ঠোঁট খোঁজে।
কিংবা খুঁজতে হয় না।
মৃদু ব্যথা নীলার নীচের ঠোঁটে। বাসনা ছোটো ছোটো কামড় দেয়।
নীলা মুঠো করে ধরে বাসনার আঁচল।
দুজনে কাঁদতে থাকে নিশব্দে।
নীলার বুকে মুখ গুঁজে দেয় বাসনা। নীলা বসন খুলে দেয়। তার শাঁখের মতো সাদা স্তনদুটিতে বাসনা উষ্ণতা খোঁজে। মায়া খোঁজে। প্রেম খোঁজে।
নীলা বাসনার শীর্ণ, নগ্ন উরুতে রাখে হাত।
.
পর্যাপ্ত টাকা নিতে ভুলে গেছিলো মহেশ। আজ তার মচ্ছবের দিন।
রাতে বাড়ি ফিরবে না, এই মতলব ছিলো।
বাজারে গিয়ে দেখে হাতে টাকা নেই।
সে তাড়াহুড়ো করে ফিরে আসে বাড়িতে।
বাড়ি খাঁখাঁ। সাড়া নেই। শব্দ নেই।
মহেশের দেরী সয় না।
অবিমিশ্র ডেকে চলেছে কাক।
ঘরের কুকুরটাও ঘরে নেই।
মহেশ উঠোন পেরিয়ে ঘরের দিকে পা বাড়ায়। ভেজানো দরজা ঠেলে খুলে ফেলে।
মহেশের মাথায় বজ্রাঘাত হয়।
বিছানার ওপরের দৃশ্যটি সে অবাক হয়ে দেখে। তার নিজের চোখকে বিশ্বাস হয় না।
দুই নগ্ন নারীকে ক্ষণকাল সে চিনতে পারে না।
দুবার কাক ডেকে ওঠে।
মহেশের চটকা ভাঙে। এইবার সে স্ত্রী আর গৃহকর্মীকে চিনতে পারে।
আলিঙ্গনাবদ্ধ নারী দুটিকে দেখে চিলচিৎকার দিয়ে ওঠে মহেশ।
নীলা আর বাসনা দ্রুত উঠে বসে।
মহেশ আঙুল দেখিয়ে কি বলতে চায়। পারে না।
বুক চেপে বসে পড়ে।
এই অশ্লীলতা সহ্য হয় না তার।
অশ্লীলতা না বিদ্রোহ?
মহেশ অজ্ঞান হয়ে যায়।
মহেশের মা “কি হইছে ও বউ কি হইছে” বলে ছুটে আসে।
নীলা আর বাসনা জলভরা চোখে তাকিয়ে থাকে হতজ্ঞান মহেশের দিকে।
তাদের দৃষ্টিবিনিময় হয়।
বাসনার শুষ্ক ঠোঁটে নীলা অল্প হাসি দেখতে পায়। নীলার বুক ভরে শান্তি অনুভব হয়।
বাসনার হাতে হাত রেখে অল্প চাপ দেয় নীলা।
(সমাপ্ত)

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 225
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    225
    Shares

লেখাটি ২,৩৫২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.