অনেক হয়েছে, এবার নওশাবাকে রেহাই দিন

0

মারজিয়া প্রভা:

নওশাবা কেমন নির্লিপ্ত আর নির্বাক মুখে তাকিয়ে আছে! তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তার চোখ আর মুখ দেখে মনে হচ্ছে “কোথাও কেউ নেই”।

আমি এই অভিনেত্রী নওশাবা আপুকে চিনি। সামনাসামনি কথা হয়নি কোনদিন৷ কিন্তু তাদের বাসায় গেছি। নওশাবা আপুর বর জিয়া ভাই আমার প্রিয় বড় ভাইদের একজন। সকাল রাত যেকোনো হাবিজাবি প্রয়োজনে ভাইয়াকে আমি জ্বালাই। নওশাবা আপুর বাসায় দুইটি কুকুর আছে৷ একটার নাম সন্দেশ৷ আমি বাড়ি গেলেই সন্দেশ আমার উপর হামলে আমাকে আদর দেয়৷ আর আছে প্রকৃতি৷ প্রকৃতি আমার আর জিয়া ভাইয়ের কঠিন কঠিন কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে!

ছবি: সংগৃহীত

জিয়া ভাই আর নওশাবা আপু এই দম্পতিকে যারা কাছ থেকে দেখেছেন তারা জানে এই সমাজ আর তরুণজীবনের প্রতি তারা কতটা ডেডিকেটেড৷ নওশাবা আপুর ঈদ, ক্রিসমাস কাটে ক্যান্সার আক্রান্ত বাচ্চাদের সংগে৷ সিসিমপুরের ইকরি কতো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইয়ত্তা নাই। নিজ হাতে পাঁচ-ছয় জন কিশোরীর স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব নিয়েছে। যারা জিয়া ভাইকে আব্বা আর নওশাবা আপুকে আম্মা বলে৷ প্রকৃতি তাদের গর্ভজাত একমাত্র সন্তান হলেও সিসিমপুরের বহু কিশোর কিশোরী তাদের সন্তান!

জিয়া ভাই একদিন হাসতে হাসতে বলছিলেন, আমাদের বাড়ির উপরটা খালিই থাকে এই বাচ্চাগুলার জন্য। যখন যেকোনো প্রয়োজনে ঢাকায় এলে ওরা এই বাসায় খায়-দায়-ঘুমায়। আমি হয়তো জানিও না।

এই কথাগুলো ক্যান কইতেছি? কওয়া দরকার। এই বেলা না বললে কখন বলবো! আমি শুধু বুঝাইতে চাচ্ছি, আমাদের সমাজের বহু কিশোর আর তরুণের পাশে কোন রকম প্রচারণা ছাড়াই নওশাবা আপু দাড়াইছে৷ এক কথায় অর্থনৈতিক সাপোর্ট করছে। স্বপ্নপুরণ করাইছে। কারণ তিনি চাইছে তার আশপাশের এই কিশোররা ভালো থাকুক! দিন বদলাবে এরাই!

এই প্রিয় কিশোরদের কেউ যদি নওশাবা আপাকে ফোন করে বলে, “আপু আমরা মার খাচ্ছি, এই এই হচ্ছে। তুমি পুলিশ ডাকো, হেল্প করো আমাদের” তখন নওশাবার ঠিক কী করা উচিত?

হ্যাঁ, আপনি কইতে পারেন! মিডিয়ার আর্টিস্ট হিসেবে তার দায়বদ্ধতা আছে। সে হোয়াক্স ছড়াইয়া সংঘাত বাড়াইছে।

কিন্তু আমারে দুইটা কথার উত্তর দেন:

১) নওশাবা বলার আগে ছাত্ররা পিটানি খাই নাই হেলমেটধারী লীগের পোলাপানের কাছে?

২) নওশাবা গ্রেফতারের পরে মাইর খায় নাই?

হে হে, আপনি গুজবরে ফোকাস কইরে সব মাইর পিটানি রক্তাক্ত পর্দার পেছনে নিয়া গেছেন। আমি কইতেছি নওশাবা অনেকাংশে নোংরা পলিটিক্সের শিকার!

নওশাবা আপুকে ৫৭ ধারায় নিয়া মারপ্যাঁচ করাচ্ছে, দুই দফা রিমান্ডে নিচ্ছে! ভালো কথা! হেলমেটওয়ালা হাতুড়িলীগার প্রিয় ভ্রাতাদের কী করা হচ্ছে?

আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরলো পুলিশ ( সাময়িক সময়ের জন্য)! কিন্তু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা লীগের পোলাপাইনদের বিরুদ্ধে কী শাস্তি নেওয়া হইছে? নাকি আইন কেবল আমজনতার জন্য। হাতুড়িলীগ আমজনতার মধ্যে পড়ে না?

কোনো ঘটনাকে আইনের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করার জন্য কিছু কেস স্টাডি তো দরকার। ১২ এংরি ম্যান মুভি সেই জিনিসই দেখাইছিল! আপনি জানেন না নওশাবা আপু কতটা সেনসিটিভ কিশোর কিশোরীদের প্রতি! আপনি জানেন না ওই সময়ে কোন পরিস্থিতিতে নওশাবা এই কথা বলছিলেন!

মারজিয়া প্রভা

আপনি শুধু ভিডিও দেখলেন, আর একটু পর ৫৭ ধারা দেখলেন!

আর দেখেই আপনে নওশাবারে গালি দিতে নাইমে গেলেন।

সমাজের প্রতি নওশাবা আপুর যে কন্ট্রিবিউশন সেইটা যদি এককণাও আপনার থাকতো, তাহলে আপুরে নিয়ে নোংরা কথা কইতে আপনার হিম্মত লাগতো।

প্রিয় আইন, তুমি গুজব নিয়ে অনেক কাজ করো। এবার সময় আসছে বড় বড় অপরাধ নিয়ে কাজ করা! সেইখানে যেন আবার নিজ দলের হেলমেটওয়ালারা আমে দুধে পুষ্ট না থাকে!

কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘন্টি বাঁধবে কে?

#Free_Nowshaba

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.1K
    Shares

লেখাটি ৯,০৯৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.