জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ: জয়ের প্রথম ধাপ

gonojagoron
ছবি কৃতজ্ঞতা: শাম্‌স রশীদ জয়

উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: ‘জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ, নিষিদ্ধ করতে হবে’, ‘জামাত-শিবিরের রাজনীতি, আইন করে নিষিদ্ধ কর’, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, জামাত-শিবির গেলি কই’ মূলত এই স্লোগানগুলোই ছিল গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিক্রিয়ার বহি:প্রকাশ।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী সংগঠন বলে বিবেচিত জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে আদালতের দেওয়া রায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উল্লাস প্রকাশ করে মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ। মিছিলটি শাহবাগ চত্ত্বর থেকে বের হয়ে কাঁটাবনের মোড় ঘুরে এসে হোটেল রূপসী বাংলা হয়ে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এই রায়ে আমরা অবশ্যই খুশি, এটা আমাদের জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় আসবে এই যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে।’

এই রায়ের ফলে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া একধাপ এগিয়ে গেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

উইমেন চ্যাপ্টারকে ডা. ইমরান আরও বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের গত দুটি রায়ে ইতিমধ্যেই জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রাইব্যুনাল। আর এখন আদালতে নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তার মানে এই দলটি যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী দল তা এখন প্রমাণিত। সুতরাং জলদি এই সংগঠনের নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আদালতে প্রমাণিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থি একটি অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট সংগঠন, যারা কোনোভাবেই নিবন্ধন পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার যোগ্য নয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি বাংলাদেশের চেতনার পরিপন্থি, গণহত্যার নেতৃত্বদানকারী এবং একটি ক্রিমিনাল সংগঠন।

এছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে জঙ্গী সম্পৃক্ততার অভিযোগটিও বেশ পুরনো এবং প্রমাণিত। এই হায়েনাদের এখনই নিষিদ্ধ করুন, একই লাইনে বিপরীতমুখী দুটি ট্রেন চলতে দিয়ে আর ধ্বংস ডেকে আনবেন না! বাংলার খেটে মানুষেরাই আমাদের প্রাণের পতাকাকে সমুন্নত রাখবে, সারমেয়দের হাত থেকে রক্ষা করবে -দুশ্চিন্তার কিছু নাই। জয় আমাদের হবেই। জয় বাংলা’।

অনেকেই এই নিবন্ধন অবৈধ বলে দেওয়া রায়কে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সমতুল্য বলে উল্লেখ করছে। তারা এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। অনেকেই আবার এই রায়ে খুশি নন উল্লেখ করে বলেছেন, চোখ-কান খোলা রাখতে, যাতে কোনোরকম আঁতাত কেউ না করতে পারে।

ব্লগার আরিফ জেবতিক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘হাইকোর্টের রায়টা কিন্তু জামায়াত নিষিদ্ধ নিয়া মামলা না। মামলাটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনে জামায়াত আইনসিদ্ধভাবে নিবন্ধিত হয়েছে কী না, সেটা নিয়ে বিবেচনা। যদি আদালত রায় দেয় যে জামায়াতের নিবন্ধন আইনমতো হয়নি, তাহলে নিবন্ধন বাতিল হবে। এতে করে কিন্তু জামায়াতের রাজনীতি করার অধিকার ক্ষুন্ন হবে না। তারা পুনরায় আবেদন করতে পারবে। এবং যদি কোন কারণে পুনরায় আবেদন না-ও করতে পারে, জামায়াত তখন সরাসরি জোটের মার্কা হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবে। ( ৪ দলীয় জোটের পার্থ কিংবা মহাজোটের রাশেদ খান মেননরা এভাবেই নির্বাচন করে জিতেছেন।) তো, জামায়াত যখন ধানের শীষ নিয়া নির্বাচন করবে, তখন জিনিসটা ফ্যান্টাসটিক দাঁড়াবে বটে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে তাদের বিচার হলো না এটা। যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার চাই, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নিয়া আমার মাথাব্যথা নাই।’

অধিকাংশই জামায়াতে ইসলামীর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান রাখার তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কাবেরী গায়েন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘হায়! আমরা কিছুই নিষ্পন্ন করতে পারি না…শেকড়টা রেখে খালি গাছের উপরের ডালপালা ছাঁটি। নির্বাচনে অংশ নেবার জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতের নিবন্ধন বাতিল হলো, কিন্তু জামাত নিষিদ্ধ হলো না, কেমন বিষয় হলো এটা? জামাত বরং অন্য সাম্প্রদায়িক দলগুলোর সাথে মিলে এখন দিব্যি নির্বাচন করবে আর এই রায়কে দেখাবে নির্বাচন থেকে তাদের দূরে রাখার আক্রোশমূলক রাজনীতি হিসেবে, দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। জামাত ইতিমধ্যে আপিল করে ফেলেছে। তাই দাবি বললে দাবি, করণীয় বললে করণীয় দুইটা:
>জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে আইনী প্রক্রিয়ায়, যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে;
> জামাতের রাজনীতি নির্মূল করার জন্য রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে; প্রথমটা সরকার করুক। দ্বিতীয়টা রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন আর দেশের মানুষের সম্মিলিত চেষ্টায় হবে।’

ফারহানা হাফিজ নামের একজন লিখেছেন, ‘শুধু কি নিবন্ধন? নাকি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দিকেও রাজতন্ত্র নজর দেবেন? মেঘে মেঘে অনেক বেলা হলো যে!’

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.