পরিচিত এক সাংবাদিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে-

0

ফেসবুক থেকে নেয়া: এই লেখাগুলো গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে থাকবে ইতিহাসের পাতায়।

সাংবাদিকের বয়ানে-

“অফিস থেকে বিকেলে বের হবার সময় শুধু জানতাম বাচ্চাগুলার কাছে যাচ্ছি, যাওয়া উচিত। সহকর্মী স্বেচ্ছায় সঙ্গ নিল। পথে যেতে চেনা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও হলো। কলাবাগান পার হতেই দেখলাম কয়েকটা ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।

কিছুদূর এগোতেই সামনে ছাত্রলীগের সশস্ত্র পোলাপান ধেয়ে আসতে দেখে স্কুটি এক চিপায় রেখে সহকর্মীকে নিয়ে দৌড়ে ল্যাবএইডে ঢুকলাম। বেশ কয়েকজন চেনা সাংবাদিকের দেখা পেলাম। জানলাম শ খানেক ছাত্র ল্যাবএইডের বিভিন্ন ফ্লোরে লুকিয়ে আছে৷ বন্ধু, ছোট ভাই-বোন, আশপাশের চেনা সবাই মিলে প্রায় ১০/১৫ জন হয়ে গেলাম আমরা। সবাই ল্যাবএইডে একত্রিত হয়ে বাচ্চাদের সাহস দিলাম।

বেশিরভাগ আহত, বাকিরা ভূত দেখার মত আতংকগ্রস্থ। স্কুল-ড্রেস দেখলেই কোপাচ্ছে, তাই কয়েকজন গিয়ে ৫০ টা টি-শার্ট কিনে আনলাম। শুরু হলো বাচ্চাদের নিরাপদ দূরত্বে সরানোর যুদ্ধ। ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সাহায্য করেছে। ব্যাগ-আইডি কার্ড জমা রাখার দায়িত্ব নিয়েছে। ড্রেস বদলে বাচ্চাগুলাকে একে একে নিজেরা পাহারা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে যার যার সুবিধামতো জায়গায় পৌঁছে দিয়েছি।

একটা মেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছে, “আপু, পাশ থেকে আমার ফ্রেন্ডকে ধরে নিয়ে গেছে। ফিরে দেখতেও পারি নাই। ওর ফোন বন্ধ, বেঁচে আছে কিনা জানিনা”! জড়িয়ে ধরে ওর কেঁপে ওঠা শরীর থেকে সাহস নেয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না আমার। ল্যাবএইডের কাজ কিছুটা গুছিয়ে রওনা দিলাম ধানমন্ডি পপুলারে। সেখানেও শুনলাম অনেকে আটকা।

প্রথমে আমি স্কুটি নিয়ে দেখতে গেলাম, যাবার মত পরিস্থিতি আছে কিনা। সায়েন্সল্যাব মোড় ঘুরে পপুলার হয়ে স্টার কাবাবের সামনে দিয়ে ইউটার্ন নেবার সময় দেখলাম একদল হায়েনা সেখানে মহড়া দিচ্ছে। ল্যাবএইডে ফিরে কাপড় গোছগাছ করে কয়েকজনকে নিয়ে আবার গেলাম পপুলারে। ছাত্রলীগ ততক্ষণে পপুলারের গেইটে সংবাদ সম্মেলন করছে। তাদের নাকি আক্রমণ করা হয়েছে এই মর্মে!

পাশ কাটিয়ে কোনমতে পপুলারে ঢুকে গেলাম। হাসপাতালের ভেতরেও হায়েনাগুলা দলবেঁধে স্টুডেন্টদের খুঁজছে। কর্তৃপক্ষকে শাসাচ্ছে কোনো ছাত্রকে আশ্রয় দিলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে৷ আধা ঘন্টা খুঁজে ১৫/২০ জন ছেলেমেয়েকে একটা লুকানো ঘরে পেলাম। সেখানেই চোখ উপরে ফেলা ছেলেটার বন্ধুদের স্বীকারোক্তি পেয়েছি।

শুরু হলো আবার সেই এক যুদ্ধ। এবারে আরও কঠিন। ৫ জন পাহারা দিয়ে ২/১ জন বাচ্চাকে বেইজমেন্ট দিয়ে বের করতে হয়েছে। রাত নয়টা নাগাদ শেষ বাচ্চাটাকে বের করে বাড়ি পৌছে দিতে পেরেছিলাম। ফেরার পথে গুলিস্তানে আনসারদের পাহারায় বাস শ্রমিকরা ভাঙচুর চালাচ্ছে। এই হলো আমার দেখা গুজবের চাক্ষুষ বর্ণনা।

সবশেষে বাড়ি ফিরে মিডিয়ার নিউজ দেখে নিজের সাংবাদিক পরিচয়ের উপর থুহঃ করে একদলা থুতু ফেলতে ইচ্ছা করেছে!”

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 396
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    396
    Shares

লেখাটি ২,৫২৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.