নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াতে ইসলামী

উইমেন চ্যাপ্টার: রাজনৈতিক দল হিসাবে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। ফলে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না দলটি। বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতার প্রশ্নে করা রিট আবেদনের ওপর এ রায় দেওয়া হয়। এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ২৪ নম্বর বিচারকক্ষের সামনে আর্চওয়ে বসানো হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতার প্রশ্নে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি গত ১২ জুন শেষ হয়। তিন বিচারপতির ওই বেঞ্চ বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে রিট আবেদন করেন তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ ব্যক্তি। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানিয়া আমীর। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসীন রশিদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী বেলায়েত হোসেন। শুনানিতে তানিয়া আমীর বলেন, যে গঠনতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল নিবন্ধনের অযোগ্য। তাই নিবন্ধনের পর ওই গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুযোগ নেই। জামায়াতের নিবন্ধন সংবিধানের ৭ ও ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সংবিধানে রাজনৈতিক দল করার মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে; তবে কোনো দলের গঠনতন্ত্র সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে, দলের নীতিতে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গবৈষম্য থাকলে সংগঠন বা রাজনৈতিক দল করা যাবে না। আবদুর রাজ্জাক বলেন, নিবন্ধনের বিষয়ে ইসি পরিপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি। তারা কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত রিট আবেদনটি অপরিপক্ব। তিনি বলেন, ২০১২ সালে ইসি একটি স্মারক তৈরি করে। সেখানে মাত্র দুটি রাজনৈতিক দল ছাড়া বাকি সব দলের গঠনতন্ত্র ছিল ত্রুটিপূর্ণ। তাই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করতে হলে বাকি ১০টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করার প্রয়োজন হবে। মহসীন রশিদ বলেন, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে সাময়িক নিবন্ধন দেওয়া হয়। ওই সময় সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, বিসমিল্লাহ হির রহমানির রাহিম ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা ছিল। তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাময়িক নিবন্ধন দেওয়া হয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে তখন ইসি সিদ্ধান্ত নেয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী হয়েছে জামায়াতকে সাময়িক নিবন্ধন দেওয়ার অনেক পরে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.